মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান : মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইনামুল হক বিশ্বাসের স্মরণ সভা
আরিফুল ইসলাম রোহিত: মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া কোনভাবেই মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তিকে পরাজিত করা সম্ভব নয়। একই সাথে নতুন প্রজন্মকে আমাদের চেতনা বাস্তবায়নে এগিয়ে আনতে হবে। তাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগিয়ে তুলতে না পারলে আমরা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির কাছে পরাস্ত হবো। ইনামুল ভাই সারাজীবন যে সংগ্রাম করে গেছেন তা বিফল হবে।
শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের উদ্যোগে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ইনামুল হক বিশ্বাসের স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি আ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এসব কথা বলেন।
সাংসদ লুৎফুল্লাহ আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর লড়াই ও আদর্শকে যারা বিশ্বাস করেছিল এবং এখনো যারা ধরে রেখেছে তারাই মূলত মুক্তিযোদ্ধা। আর সেক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ইনামুল ছিলের বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের নিরলস পরিশ্রমী এক কর্মী। কোথায় টাকা পাওয়া যাবে, কোথায় গেলে খেতে পাওয়া যাবে এ ব্যাপারে তার মাথা ব্যথা ছিল না। মুক্তিযোদ্ধা ইনামুল ছিলেন চেতনা ও মানসিকতায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা।
এমপি লুৎফুল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করার আহবান জানিয়ে বলেন, দেশের সব উন্নয়নকে মানুষের মাঝে তুলে ধরতে হবে। জানাতে হবে এই সরকারের উন্নয়ন চিত্র। তিনি এসময় বিভিন্ন উন্নয়নের তথ্যচিত্র তুলে ধরে উপস্থিত সাধারণ মানুষের কাছে জানতে চান এই সরকারের চাইতে ভালো সরকার কে আছে?
অ্যাডভোকেট লুৎফুল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, আমরা জামায়াত-বিএনপিকে কোনভাবেই ক্ষমতায় আসতে দেব না। আর এটাই হোক আজকের স্মরণসভার প্রতিজ্ঞা। এই প্রতিজ্ঞা যদি বাস্তবায়ন করতে পারি তবেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা বাস্তবায়ন হবে।
স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান বাবু। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ইনামুল একজন নরম মনের মানুষ ছিলেন। তিনি কোথাও কথা বলতে গেলেই আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়তেন। তিনি সকলকে ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শেখ হাসিনাকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও বিজয়ী করার আহবান জানান।
কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফিরোজ আহমেদ স্বপন বলেন, এই জেলায় স্বাধীনতা বিরোধী গোষ্ঠীর শাস্তির দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চ তৈরির সাথে যুক্ত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ইনামুল। আর তাই ইনামুল থাকবেন সবার হৃদয়ে।
তিনি আরও বলেন, সামনে আরও একটি বড় বৈতরণী পার হওয়ার অপেক্ষা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে ধারণ করে একতাবদ্ধভাবে এই বৈতরণী পার হওয়ার আহবান জানান তিনি।
তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ইনামুল নিজে অর্থনৈতিক দুর্দশায় ছিলেন। কিন্তু কেউ সহজে তা জানতে পারেনি। তবে আর কোন মুক্তিযোদ্ধা যেন অর্থনৈতিক কষ্টে ভুগে জীবন অতিবাহিত না করে সে ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রæয়ারি জেলায় জামায়াত শিবিরের যে সহিংসতা চলেছিল তা রুখে দিতে মুক্তিযোদ্ধা ইনামুল সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং এই জেলায় সাম্প্রদায়িক শক্তি, জঙ্গিবাদ বিরোধী ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির যত আন্দোলন সবখানেই তিনিই নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ইনামুল জীবনের শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক হিসেবে কাজ করে গেছেন।
আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, সামনে নির্বাচন। আজও আমরা স্বাধীনতা বিরোধীদের উত্থানের ভয়ে আছি। তাই আমাদের সংঘবদ্ধ হতেই হবে। নতুন করে সংগ্রামের মাধ্যমে ৭১’র প্রেতাত্মাদের উৎখাত করার আহবান জানান তিনি।
জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সদস্য সচিব লায়লা পারভীন সেঁজুতী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে শাণিত করতে আমাদের সবাইকে একতাবদ্ধ হতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা ইনামুল চলে গেছেন কিন্তু তার রেখে যাওয়া পথ আমাদের অনুসরণ করতে হবে।
তিনি সকল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আপনাদের সন্তানদেরকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী করে গড়ে তুলুন। যে কোন নির্যাতনের বিরুদ্ধে সকল স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে একতাবদ্ধ ভূমিকা পালন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
স্মরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোশারফ হোসেন মশু, জেলা জাসদের সভাপতি কাজী রিয়াজ, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাসানুল ইসলাম, শ্যামনগর উপজেলা সংসদের কমান্ডার দেবীরঞ্জন মÐল, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ প্রফেসর নিমাই চন্দ্র মÐল, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বিশ্বাস সুদেব কুমার, অধ্যাপক ভূধর চন্দ্র সরকার, কলেজ শিক্ষক নিত্যানন্দ সরকার, জেলা উদীচী শিল্পগোষ্ঠীর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ওবায়েদুস সুলতান বাবলু, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আজাদ হোসেন বেলাল, নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের যগ্ম আহবায়ক স্বপন কুমার শীল, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) জেলা সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ইদ্রিস আলী, জেলা সিপিবির সভাপতি আবুল হোসেন, ইনামুল হক বিশ্বাসের ছেলে মো. ফরিদ হোসেন রুবেল, নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের আলী নূর খান বাবুল, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান, ইনামুল বিশ্বাসের সহপাঠী আব্দুর রাজ্জাক, নিত্যনন্দ সরকার প্রমুখ।

Leave a Reply