ঢাকাMonday , 24 February 2020
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প ভবনের মালিক বিমান ঢালীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি মেলেনি!

admin ঢাকা
আপডেট: 24 February 2020, 22:11

সমীর রায়, নিজস্ব প্রতিনিধি : মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দাতা ও সার্বিক সহযোগিতাকারী হিসেবে এলাকায় অত্যন্ত সুপরিচিত ছিলেন আশাশুনির বড়দল ইউনিয়নের বামনডাঙ্গা গ্রামের মৃত জীতেন্দ্র নাথ ঢালী ওরফে হাজরা ঢালীর ছেলে প্রয়াত বিমান বিহারী ঢালী। মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প ভবনের মালিক সেই বিমান ঢালীরই জীবদ্দশায় মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি মেলেনি। স্বজনেরা তাকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আকুল আবেদন জানিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে দরবার করে যাচ্ছেন। বামনডাঙ্গা গ্রামে ধনী পরিবারের সন্তান বিমান ঢালীর পৈতৃক দ্বিতল ভবনটি ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও রাজাকার বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতন ও নিপীড়নের ভয় উপেক্ষা করে জীবনের মায়া ত্যাগ করে তিনি ও তার পরিবার মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করে গেছেন।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন দীর্ঘদিন ধরে বীর মুক্তিযোদ্ধারা তার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়ের জন্য বিশাল বাড়ি ছেড়ে দিয়ে তিনি হেতাইলবুনিয়া (কাজলনগর) ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ০৯ নং সেক্টরের সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে বিভিন্ন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ক্যাম্পের প্রশিক্ষক (গেজেট নং ৪১০, লাল-মুক্তি-বার্তা নং ০৪০৪০৫০১৫৭) জি এম আব্দুল গনি ক্যাম্পে তিনি (বিমান ঢালী) প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও রণাঙ্গনে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেন মর্মে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন। স্বীকৃতি স্বরূপ ০৯ নং সেক্টরের আঞ্চলিক অধিনায়ক আতাউল গনি ওসমানীর সনদপত্র প্রদান করা হয়েছিল। যার ক্রমিক নং ১৬৯২৪৬। কিন্তু তিনি মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হননি। পরবর্তীতে তিনি মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করেন, কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ের আগেই ২০১৬ সালে ২২ মে মৃত্যুবরণ করেন। বর্তমানে তার ছেলে নিত্যানন্দ ঢালী তার বাবার মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি আদায়ের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছেন।
মুক্তিযোদ্ধা বিমান ঢালীর স্ত্রী সুশীলা রাণী ঢালী বলেন- ’৭১ সালে রাজাকার, পিচ কমিটি, আল-বদর ও পাকিস্তানী হায়েনাদের নির্যাতন ও গুলির মুখে শিশুদের নিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। তখন আমার স্বামী বিমান ঢালী দেশ স্বাধীনের জন্য আমাদের মায়া ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। কেয়ারগাতি ও গোয়ালডাঙ্গা যুদ্ধে মুক্তি ফৌজদের সার্বিক সহায়তা, গোলাবারুদ ও খাদ্য সরবরাহের দায়িত্ব পালন করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমাদের সাথে আমার স্বামীও বিজয়ী বেশে বাড়িতে ফেরেন। প্রথমে তালিকাভুক্ত হওয়ার মানসিকতা ছিল না বিধায় চেষ্টা করেননি। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা তিনি তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করেন। কিন্তু জীবদ্দশায় স্বীকৃতি দেখে যেতে পারেননি। আমি জীবনের শেষ সময়ে স্বামীর মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতিটুকু নিয়ে বীরের স্ত্রী হিসেবে মরতে চাই। আমার পরবর্তী প্রজন্ম যেন গর্বের সাথে পরিচয় দিতে পারে যে তাদের পূর্ব পুরুষ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন এবং দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান ছিলেন। প্রয়াত বীর সেনানী স্বামী বিমান ঢালীকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত করে যোগ্য স্বীকৃতি প্রদানের জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধার গর্বিত স্ত্রী বৃদ্ধা সুশীলা রানী ঢালী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *