ঢাকাSunday , 23 February 2020
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

স্বেচ্ছাশ্রমে বলাবাড়িয়া-হাঁসখালী রাস্তা সংস্কার কাজের উদ্বোধন

admin ঢাকা
আপডেট: 23 February 2020, 21:26

নিজস্ব প্রতিনিধি: আশাশুনির বলাবাড়িয়া টু হাঁসখালী ৩ কি.মি. কেয়ার রাস্তা সংস্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ ফেব্রæয়ারি) সকালে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অসীম বরণ চক্রবর্তী। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের আশাশুনি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রণজিৎ বৈদ্য, সমাজ সেবক বরুণ চন্দ্র মÐল, চিত্রাভিনেতা কাশীনাথ মন্ডলসহ এলাকার শতাধিক মানুষ। স্বেচ্ছাশ্রমে এলাকার লোকজন গুরুর্ত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি নির্মাণে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ শুরু করে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের ‘ক্লিন সাতক্ষীরা, গ্রীন সাতক্ষীরা’ ¯েøাগান দিয়ে নিজেদের উজ্জীবিত করে তারা বলেন- সরকারি বরাদ্দে রাস্তাটি পুনঃ নির্মাণে আমরা জেলা প্রশাসকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। ১৯৯৫ সালের ১৭ এপ্রিল প্রলয়ংকরী জলোচ্ছ¡াসে আশাশুনি সদরের দয়ারঘাট গ্রামের খোলপেটুয়া নদীর বেড়ি বাঁধ ভেঙে বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। এরপর প্রায় দুই হাজার বিঘা জমি (ভাঙ্গাবিল) বাদ দিয়ে রিং বাঁধ দিয়ে জোয়ার ভাটার পানি আটকানো হয়। আরও ৩ বছর পর জোয়ার ভাটা খেলার পর মূল বাঁধটি সম্পন্ন হয়। এর ফলে বলাবাড়িয়া গ্রামের অখিল চন্দ্র মÐলের বাড়ি থেকে হাঁসখালি কালভার্ট পর্যন্ত প্রায় ৩ কি.মি. মাটির রাস্তাটি প্রায় সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন উপরোক্ত রিং বাঁধ দিয়ে চলাচল শুরু করে। ওই দুই হাজার বিঘায় মাছ চাষ শুরু হলে কেয়ার রাস্তাটি মৎস্য ঘেরের মধ্যে এক সময় হারিয়ে যায়। বলাবাড়িয়া গ্রামের মানুষ সদর ইউনিয়নে বসবাস করলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীতে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ গ্রামে এখনও কাঁচা রাস্তা বিদ্যমান। বিদ্যুৎ এলো বছর খানেক আগে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ.ফ.ম রুহুল হকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়। এ গ্রামের শিশুদের উত্তর দিকে দয়ারঘাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে ২ কি.মি আবার দক্ষিণ দিকে গাইয়াখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে প্রায় ৩ কি.মি. কাঁচা রাস্তা অতিক্রম করে যেতে হয়। আবার হাইস্কুলে যেতে হলে আরও এক এক কি.মি. অতিক্রম করে বলাবাড়িয়া হাইস্কুল ও আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যেতে হয়। পায়ে হেঁটে ছাড়া বিকল্প কোন পথ খোলা নেই। বর্ষাকালে প্রতিদিনই কাদা-পানিতে ভিজে স্কুলে পৌঁছাতে হয়। এছাড়া এ গ্রামের চারিদিকে লোনাপানি বেষ্টিত হওয়ায় সুপেয় পানির আধার একমাত্র রেইন ওয়াটার হার্ভেষ্টিং। শুকনো মৌসমে মেয়েদের দক্ষিণে ৩ কি.মি হেঁটে হাঁসখালি গ্রামে না হয় ২ কি.মি. উত্তরে দয়ারঘাটে এসে সাপ্লাই পানি কিনে খেতে হয়। বলাবাড়িয়া থেকে আশাশুনি সদরে যোগাযোগ করতে হলে যে মাটির রাস্তা অতিক্রম করতে হয় এর মাঝের কিছু অংশ (১ হাজার মিটার) আবার মালিকানা সম্পত্তি। সেজন্যে এ রাস্তায় সরকারিভাবে কেউ ইট বসানো দুরের কথা মাটি ফেলতে দিতে চায় না। যদিও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও আশাশুনি ইউএনও’র নির্দেশে উক্ত রাস্তায় সম্প্রতি মাটি দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এ গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়া উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বললেও চলে। তাই সরকারি কেয়ার রাস্তাটি তাদের জন্য অতিগুরুত্বপূর্ণ। ২০১৯ সালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজার নির্দেশে সরকারি ভাবে মাপ জরিপ শুরু হলে খাস জমি ও বিলীন হওয়া কেয়ার রাস্তা আবার সামনে এসেছে। সার্ভেয়ার মাপ জরিপ করে লাল ফ্লাগ দিয়ে রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এখন এলাকার দুঃখ দুর্দশা লাঘব করতে প্রয়োজন কেয়ার রাস্তাটি পুনঃ নির্মাণের। কেয়ার রাস্তা পুনঃ নির্মাণ ও বলাবাড়িয়া গ্রামের সকল কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের দাবি জানিয়ে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল, উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা ও ইউপি চেয়ারম্যান স.ম সেলিম রেজা মিলনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *