ডেস্ক রিপোর্ট: প্রথমে প্রেম ভালোবাসা, তারপর পরকীয়া, আর এই সূত্র ধরেই পুলিশ সদস্য আবদুল আলিমের হাতে খুন হয়েছে আমার মেয়ে রিপনা ও নাতনি মুন্নী খাতুন। কান্না জড়িত কণ্ঠে একথা বলেই মেহেরুননেছা জানান আলিমের পরিবার আমার পরিবারের মোট তিনজনকে খুন করেছে। এখন সে ও তার সহযোগীরা আমাকেও খুন করতে চায়। অথচ এ খুনের কোনো বিচার হলো না এতদিনেও। শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে একথা বলেন ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের মেহেরুননেছা। তিনি বলেন, সাতক্ষীরায় এসেছি অনেক ভয়ে ভয়ে কারণ আলিমের লোকজন আমাদের অনুসরণ করছে। মেহেরুন তার লিখিত বক্তব্যে বলেন আমার মেয়ে রিপনার সাথে বিবাহ পূর্ব ভালোবাসা ছিল একই গ্রামের আলিমের। এক দিন আমার মেয়েকে কৌশলে ডেকে নিয়ে আলিম তাকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে আমরা তার ওপর চাপ দেই রিপনাকে বিয়ে করার। সে রাজি না হওয়ায় আইনের আশ্রয় নিতেও ব্যর্থ হই গ্রাম মোড়লদের চাপের মুখে। এরপরই আমি আমার মেয়েকে বিয়ে দেই আমার ভাতিজা আবু মুসার সাথে। তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম লাভ করে, নাম মুন্নী খাতুন। তিনি বলেন আবদুল আলিম সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানায় চাকুরিরত অবস্থায় শ্যামনগর উপজেলার খানপুরে বিয়ে করে। বিয়ের পরও আলিম আমার মেয়ের সাথে মোবাইলে পরকীয়া প্রেমজ সম্পর্ক রাখতো। এক মাসের মোবাইল কল লিস্টে দেখা গেছে আলিম তার স্ত্রীর সাথে ৩৩ বার আর আমার মেয়ের সাথে ৩২৪ বার কথা বলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন ২০১৮ সালের ১০ ফেব্রæয়ারি আমার মেয়ে নাতনিকে নিয়ে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার দেখাতে যায়। এর পর থেকে সে ছিল নিখোঁজ । এ বিষয়ে স্বামী আবু মুসা মহেশপুর থানায় একটি জিডি করেন। ১২ ফেব্রæয়ারী তারা জানতে পারেন যাদবপুর গ্রামের শালি খাতুন ও রোকেয়া তাকে ঝিনাইদহের কালিগঞ্জে আবদুল আলিমের কাছে তুলে দিয়েছে।
কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন হঠাৎ আমরা জানতে পারি সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ছুটিপুর গ্রামে ইছামতি নদীর চরে মাটিতে পুঁতে রাখা নাতনি মুন্নী খাতুনের (৫) লাশ এবং এর তিনদিন পর কালিগঞ্জ উপজেলার হাড়দ্দহা গ্রাম সংলগ্ন কালিন্দি নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয় রিপনার (২২) পচা গলা লাশ। এ ঘটনায় কালিগঞ্জ থানা ও দেবহাটা থানায় পৃথক দুটি মামলা হয় । নিহতদের সাতক্ষীরা সরকারি গোরস্থানে দাফন করা হয়। এই আলিম পরিবার আমার পরিবারের তিনজনকে হত্যার পর এবার আমাকেও খুন করতে চায় অভিযোগ করে তিনি বলেন আমি এর বিচার দেখে যেতে চাই। মেহেরুননেছা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য আলিমের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।
