উপকূলে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে পড়ে যাওয়া অধিকাংশ গাছের ছিলনা মূল শিকড়
শ্যামনগর প্রতিনিধি: গত শনিবার (৯ নভেম্বর) সাতক্ষীরার উপক‚ল দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় প্রথমে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের গাছ । ১৫ থেকে ২০ বছর অথবা তার চেয়ে কমবেশি বয়সের এসমস্ত গাছ উপড়ে ব্যাপকভাবে ধ্বংস স্তুপ তৈরি হয়েছে আধাপাকা নির্মিত ঘরবাড়ি। এলাকার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ছোবলে পড়ে যাওয়া অধিকাংশ ঘরের উপর ছোট বড় গাছ পড়ার কারণে বসত ঘর গুলো ব্যপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পড়ে যাওয়া গাছগুলোর শিকড়ের দিকে তাকালে দেখা গেছে গাছগুলোর অধিকাংশ মূল শিকড় নেই। স্থানীয় মানুষের ভাষ্য মতে জানা যায়, তারা গাছ রোপণের সময় অধিকাংশ গাছ বিভিন্ন নার্সারি এবং বিভিন্ন স্থান থেকে নিয়ে এসে বাড়ির আঙিনায় রোপণ করেছে। তাদের তথ্যমতে, নার্সারির গাছ বিক্রির পূর্বে গাছে মূল শিকড় কেটে রাখা হয়। এছাড়া এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গাছ নিয়ে যেতে মূল শিকড় কেটে রাখা হয়। সুতরাং গাছের মূল শিকড় মাটির ভিতরে প্রবেশ না করে শাখা শিকড় দিয়ে গাছ বেঁচে থাকে। যা মাটির উপরের অংশে ভাসমান অবস্থায় থাকে। এজন্য ঝড় হলে গাছ গুলো উপড়ে পড়ে। গত ২০০৭ সালে ঘটে যাওয়া সিডর সহ বিভিন্ন ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছগুলো নিয়ে একই কথা বলেছেন এলাকার মানুষ। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে শ্যামনগর সদরে সরকারি মহসিন ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন কয়েকটি পড়ে থাকা গাছের দিকে তাকালে দেখা যায় গাছটির গোড়া একটি প্লেটের অবয়ব নিয়ে মাটির উপরে পড়ে আছে। যে গাছ গুলোন কোনো মূল শিকড় দেখা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা বয়োজ্যেষ্ঠ্য ইব্রাহিম সরদার বলেন, আমার বাড়িতে ছয়টি শিশু ফুল গাছ পড়েছে কোনটির মূল শিকড় নেই। গাছগুলো আমি বাহির থেকে এনে রোপণ করেছিলাম। এবিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা সামাজিক বনায়ন কর্মকর্তা (অতি:দায়িত্ব) মো. আওসাফুর রহমান এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা সাধারণত আমাদের নার্সারি থেকে এক বছর বয়সের গাছ যার উচ্চতা ৩ থেকে ৪ ফুট হয় এমন গাছ বিতরণ করে থাকি। তবে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নার্সারি মালিকগণ ৮ থেকে ১০ ফুট উচ্চতার গাছ বিক্রি করে থাকে যার মূল শিকড় কাটা হয়। এসমস্ত গাছ ঝড় হলেই পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এসময় তিনি আরো বলেন, আমরা সবসময় নার্সারি মালিকগণকে গাছের মূল শিকড় না কেটে বিক্রি করার পরামর্শ দিয়ে থাকি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বেসরকারি নার্সারি মালিকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ক্রেতারা বড় গাছ ছাড়া নিতে চায়না। আর বড় গাছের মূল শিকড় না কাটলে গাছ উঠানো যায় না। এজন্যই আমরা মূল শিকড় কেটে রেখে দেই, এরপর পাশ দিয়ে শাখা শিকড় ছাড়লে আমরা সেটা তুলে বাজারে বিক্রি করি।

Leave a Reply