ঢাকাSunday , 17 November 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

চেয়ারম্যান জাকিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

admin ঢাকা
আপডেট: 17 November 2019, 21:25

ডেস্ক রিপোর্ট: আশাশুনি উপজেলার চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের কু-কর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন আশাশুনি উপজেলার সুভদ্রাকাটি গ্রামের শওকত আলীর পুত্র ১০ নং প্রতাপনগর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: সোহরাব হোসেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি, বলেন স্বাধীনতা বিরোধী আমিনুর রহমান (সুন্ত মোল্লা) এর পুত্র জাকির এক সময়ের তুখোড় বিএনপি নেতা ছিল। তার পিতা ছিলেন স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারের দোসর, জামায়াত ইসলামের একান্ত সহযোগী। তৎকালীন উপজেলা সভাপতি ডা: মোকলেছুর রহমানকে জিম্মি করে প্রতাপনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়। এরপর থেকে এলাকার সাধারণ মানুষ এবং আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের নানাভাবে হয়রানি করতে থাকে। তার কথা না মানলে মিথ্যা মামলা, খুন জখমের হুমকি এবং চাঁদাবাজি শুরু করে। এক পর্যায়ে অস্ত্র এবং ক্যাডার বাহিনীর সহযোগিতায় ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ইউনিয়নের খাস জমি দখল, অসহায় মানুষের সম্পত্তি দখল, এলাকার মৎস্য ঘের লুট পাট লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে। বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে প্রতিটি বাড়ি থেকে ৫শ টাকা করে প্রায় ১৬ হাজার পরিবারের কাছ থেকে আদায় করে আত্মসাৎ করে। ৩শ পরিবারের কাছ থেকে ঘর দেওয়ার নাম করে ২০ হাজার টাকা করে আদায় করে। কিন্তু মাত্র কয়েকটি ঘর দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করে।
বর্তমানে দুটি আগ্নেয় অস্ত্র, দুটি প্রাইভেটকার (যার আনুমানিক মূল্য ৫০লক্ষ টাকা), দুটি মোটরসাইকেল (যার আনুমানিক মূল্য ৩লক্ষ টাকা। তাছাড়া জাকির সরকারের নীতিমালা উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, চাকলা দারুস সুন্নাহ আমিনিয়া দাখিল মাদ্রাসা, প্রতাপনগর ফাজিল মাদ্রাসা ও প্রতাপনগর ইউনাইটেড হাইস্কুল। উক্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্যে প্রায় ১কোটি টাকা আত্মসাৎ, নাকনা গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্প তৈরি করে সেখানে পূর্বে খেলার মাঠটি ভরাটের নকশা তৈরি অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করে। এছাড়া টিআর, কাবিখা, কর্মসূচি এবং একই প্রকল্পের একাধিক কাজ দেখিয়ে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে চেয়ারম্যান জাকির। গ্রামে দুইতলা বিশিষ্ট বিশালবহুল এসি বাড়ি (যার আনুমানিক মূল্য ৫৫লক্ষ টাকা) সাতক্ষীরা শহরের উপরে অর্ধকোটি টাকা দিয়ে জমি ক্রয়, খুলনা সেনের বাজারে বিলাসবহুল বাড়ি, ঢাকায় ফ্ল্যাট এবং ভারতের কোলকাতায় বাড়ি করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। যার একসময়ে কিছুই ছিল না। সে ছিল ফরেস্ট অফিসের বোডম্যান ছিল। অথচ মাত্র কয়েক বছরেই কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন জাকির হোসেন। এছাড়া অনেক অর্থ সম্পদ তার স্ত্রী আনজুয়ারা এবং ৩ কন্যা যথাক্রমে জাকিয়া সুলতানা, জেসিয়া, জেবুননেসার নামে দিয়ে রেখেছেন। যাতে করে দুদক বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ এড়াতে পারেন। এদিকে তার অত্যাচারে ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ত্যাগী কর্মীরাও আজ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। অনেক কর্মীরাই আ’লীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ জাকির হোসেনের কারণে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিন্দু জনগোষ্ঠীকেও ব্যাপক নির্যাতন করে। অনেক হিন্দু ব্যক্তিবর্গ তার অত্যাচারে সহায় সম্বল, সম্পত্তি ফেলে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া তার কারণে এলাকার সুন্দরী নারীরা আতঙ্কে থাকে। বিশেষ করে যাদের সুন্দরী স্ত্রী রয়েছে তাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে ওই স্ত্রীদের জিম্মি করে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। যা তার ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না অনেক নির্যাতিত নারীরা। জাকিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিলেও দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তিনি ওই অনুপ্রবেশকারী রাজাকার পুত্র জাকিরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাধারণ, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *