‘বুলবুল’র প্রভাবে আশাশুনিতে প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত : আশ্রয় শিবিরে ৩০ হাজার মানুষ, শুকনা খাবার বিতরণ
সমীর রায়, আশাশুনি : ঘূর্ণিঝড় বুলবুল’র ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আশাশুনির প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ উপজেলা সদরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ৮১ টি আশ্রয় কেন্দ্রে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত বাড়ার সাথে সাথে আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে মানুষের উপস্থিতি বাড়ছিল। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) আশাশুনি উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি জরুরি সভা করে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় সকল প্রকার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিতে জোর তৎপরতা অব্যাহত আছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় সব রকমের সাহায্য সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলার ১১ ইউনিয়নে ২৭ টি সাইক্লোন শেল্টার এবং ৮১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয় কেন্দ্র ঘোষণা করে মাইকিং করে সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে আশ্রয় নিতে বলা হচ্ছে। সেখানে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ইউনিয়ন পরিষদ, সিপিপি সদস্য ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক প্রচার ও মাইকিং করা হচ্ছে। সিপিপির ১৫১২ জন স্বেচ্ছাসেবক মাঠে নেমেছেন। আশ্রয় কেন্দ্রে সরবরাহের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক ভাবে ৬’শ প্যাকেট শুকনা খাবার, শিশুদের খাবারের জন্য ২০ হাজার টাকা, গো খাদ্যের জন্য ২০ হাজার টাকা, ত্রাণ বাবদ ৩৭ মে. টন চাউল এবং নগদ ত্রাণ সহায়তার জন্য ৯০ হাজার টাকা উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকার খোলপেটুয়া, কপোতাক্ষ, বেতনা নদীর পানি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ বেড়েছে এবং থেমে থেমে বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। প্রতাপনগর, শ্রীউলা, আশাশুনি, আনুলিয়া, খাজরা, বুধহাটাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের পাউবো’র হাজার হাজার মিটার বেড়ি বাঁধ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে শনিবার বিকাল থেকে সাতক্ষীরা অতি. জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. বদিউজ্জামান আশাশুনির বিভিন্ন সাইক্লোন শেল্টার, আশ্রয় কেন্দ্র ও ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেছেন। আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিত নারী-পুরুষ ও শিশুদের সাথে কথা বলে তাদের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে প্রশাসন তাদের পাশে আছে বলে আশ্বস্ত করেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পাপিয়া আক্তার, ভাইস চেয়ারম্যান অসীম বরণ চক্রবর্তী, পিআইও সোহাগ কান, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরবৃন্দ তার সাথে ছিলেন।

Leave a Reply