আগড়দাঁড়ী মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
মাজহারুল ইসলাম: সাতক্ষীরা সদরের আগড়দাঁড়ী আমিনিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম কাসেমীর বিরুদ্ধে ১ কোটি ২৭ লাখ ২ হাজার ৫শ’ ১৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (০২ নভেম্বর) মাদ্রাসা গভর্নিং বোর্ড কর্তৃক হিসাব নিরীক্ষণ (অডিট) প্রতিবেদনে এ অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অডিট কমিটির সদস্যরা। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠায় মাদ্রাসার যাবতীয় আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা করা হবে জেনে তিনি গত ৯ অক্টোবর গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি বরাবর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে একটি পদত্যাগপত্র জমা দেন। অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুস সালামের চাকরিকালীন আংশিক সময়ের (২০১৪-২০১৯) মাদ্রাসার আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা করা হয়। অডিট টিম গত ২৬ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এ নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। যাবতীয় তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মাদ্রাসার দান, জমি লিজ, গাছের ফল বিক্রয়, মাহফিলের আয় ও রূপালী ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখার মাধ্যমে ১ কোটি ২৭ লাখ ২ হাজার ৫শ’ ১৩ টাকা আয় হয়েছে। কিন্তু খরচের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, অধিকাংশ অর্থ অবৈধ ভাউচারের মাধ্যমে সাবেক অধ্যক্ষ আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধ্যক্ষের এসব দুর্নীতির সহযোগী হিসেবে মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মো. মাহফুজুর রহমান এবং মাদ্রাসা গভর্নিং বোর্ডের শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য ক্বারী মো. মিজানুর রহমান জড়িত আছে। এছাড়া ২০১৩ থেকে ২০১৪ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাবের কোন কাগজপত্র অডিট টিমকে দেখাতে পারেনি ওই অধ্যক্ষ। চলতি ২০১৯ সালের ফেব্রæয়ারি থেকে গত ৯ অক্টোবর পর্যন্ত মাদ্রাসার ক্যাশ খাতায় কোন হিসাব লিপিবদ্ধ করা হয়নি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইমারাতের বেড়ে মাদ্রাসার জমিতে মেহগনি বাগান আছে। সেখান থেকে ১ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার গাছ বিক্রয় করা হয়েছে এবং দাঁতভাঙ্গা বিলের উনপঞ্চাশ বিঘা জমি লিজ দেয়া হয় যার ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে লিজ মূল্য ৫ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা ও রূপালী ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখায় মাদ্রাসার চলতি হিসাব নং-১৫৬৪৩ এ মাদ্রাসার ৮ লক্ষ টাকা ছিল। যার মধ্যে পাটকেলঘাটা কওমিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ দাঁতভাঙ্গা বিলের জমির বাবদ ২০১৮-২০১৯ সালের লিজের টাকা পাবে। উক্ত টাকা সহ সমুদয় টাকা সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম গোপনে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে বলে জানায় অডিট টিম। এ বিষয়ে মাদ্রাসার নতুন গভর্নিং বোর্ডের অডিট টিমের সদস্য মো. হাবিবুর রহমান হবি এবং মো. আক্তার ফারুক জানায়, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে হিসাবের গরমিল ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পেয়ে অডিট করে দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া গেছে। তাছাড়া অডিট হবে শুনে অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম মাদ্রাসা থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়ে চলে যায়। অডিট টিম সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

Leave a Reply