ঢাকাFriday , 25 October 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

সাতক্ষীরার বুড়ামারার খাল দখল করে মাছ চাষ : জলাবদ্ধতার কারণে ১৩টি বিলের ২০ হাজার একর জমিতে ফসল হচ্ছে না

admin ঢাকা
আপডেট: 25 October 2019, 22:39

আহসানুর রহমান রাজীব: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের বুড়ামারার খাল ওই এলাকার তিনটি ইউনিয়নের ৩০টি গ্রাম ও ১৩টি বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ। দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর যাবৎ এই খালের মাঝে অসংখ্য নেট-পাটা, বাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ করে সেখানে মাছ চাষ করছে এলাকার প্রভাবশালীরা। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকার কারণে বুড়ামারা বিলসহ আশপাশের ১৩টি বিলের প্রায় ২০ হাজার একর জমিতে কোন ধরনের ফসল ফলাতে পারছে না এলাকার কৃষকেরা। এ নিয়ে কোন অভিযোগ দিলে অভিযোগকারীকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোসহ নানা হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন চলতি মাসের ৭ অক্টোবরের মধ্যে জেলার সব খাল-বিলের অবৈধ নেট-পাটা উচ্ছেদের জন্য গণ-বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও বুড়ামারার খাল বা বিলে বহাল তবিয়তে প্রভাবশালীরা মাছ চাষ করে যাচ্ছে। যেন দেখার কেউ নেই। আর নেট-পাটা অপসরণ বিষয়ে স্থানীয় তহসিলদার মিজানুর রহমান বলছে ‘নেট-পাটা পাঁজা করে আমি কি শুয়ে থাকব, ওরা সরকারি খাল দখল করে নিলে আমার কি করার আছে ’। সোমবার সকালে সরেজমিন বুড়ামারার খাল ও বিল ঘুরে দেখা গেছে অসংখ্য নেট-পাটা, বাঁধ-এর কারণে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে ওই এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বিলের মধ্যে অথৈ পানি। দখলদাররা এতটাই প্রভাবশালী যে, কোন মানুষ দখলদারদের নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করতে সাহস পাচ্ছে না। তারা বলছে ‘ওদের নাম বললে আপনারা চলে যাওয়ার সাথে সাথে আমাদের বাড়িতে হামলা করবে, আমাদের নামে হয়রানিমূলক মামলা হবে, রাস্তাঘাটে আমাদের ধরে অপমান করবে, মারপিট করবে। আমরা এলাকায় বসবাস করতে পারব না’। এলাকাবাসী জানায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি, ধুলিহর ও ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের বুড়ামারা বিল, কচুর বিল, ডেঘুর বিল, বেনিখালী বিল, চেনার বিল, জোড়দিয়া বিল, বেউলা বিলসহ আশপাশের ১৩টি বিলের পানি নিষ্কাশনের বর্তমানে একমাত্র চ্যানেল আমদখালী স্লুইজগেট। এই স্লুইজগেট দিয়ে আশপাশের ১৩টি বিলের পানি বেতনা নদীতে নিষ্কাশন হয়ে থাকে। এক সময় ফিংড়ি স্লুইজগেট দিয়ে মরিচ্চাপ নদীতে পানি নিষ্কাশন হতো। কিন্তু মরিচ্চাপ নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় ফিংড়ি স্লুইজগেট দিয়ে আর পানি নিষ্কাশন হয় না। যে কারণে এখন একমাত্র ভরসা আমদখালি স্লুইজগেট। কিন্তু নেট-পাটার কারণে ওই স্লুইজগেট পর্যন্ত পানি পৌঁছাচ্ছে না। স্থানীয় গাভা গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদ সরদার (৬৮), একই গ্রামের সরোয়ার আজাদ (৭৩) জানান, ফিংড়ি, ধুলিহর ও বহ্মরাজপুর ইউনিয়নের ৩০টি গ্রাম এবং গ্রাম সংলগ্ন ১৩টি বিলের পানি নিষ্কাশনের চ্যানেল আমদখালি স্লুইজগেট। এই স্লুইজগেট দিয়ে এলাকার পানি বেতনা নদীতে নিষ্কাশন হয়ে থাকে।

এক বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্লু-গোল্ড প্রকল্পের আওতায় আমদখালি খাল খনন করেছে। খাল খননের ফলে দীর্ঘ ১৬ বছর পর কিছু এলাকায় এবার ধান চাষ হলেও জলাবদ্ধতার করণে প্রায় ২০ হাজার একর জমিতে কোন ধরনের ফসল ফলানো সম্ভব হয়নি। এসব জমি পতিত পড়ে আছে। তারা বলেন, বুড়ামারার খালে অসংখ্য নেট-পাটা, বাঁধ দিয়ে প্রভাবশালীরা সেখানে মাছ চাষ করছে। ফলে এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। গবরদাড়ি গ্রামের রিপন হোসেন (৪০), সর্বকাশেম পুর গ্রামের মোজাম্মেল হক মোড়ল (৫৫) জানান, ‘গত প্রায় ১৬ বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে আমাদের গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। বাড়ি-ঘরে, উঠানে পানি ওঠে। বিলে কোন ধরনের ফসল ফলাতে পারছি না। চারিদিকে পানি আর পানি। স্থানীয় কয়েক জন প্রভাবশালী নেতারা খালে নেট-পাটা দিয়ে মাছ চাষ করছে। ফলে পানি আমদখালি স্লুইজগেট পর্যন্ত যাচ্ছে না। সারা বছর ধরে বিলে পানি জমে থাকছে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের মরণ ছাড়া আর কোন উপায় দেখছি না। সরকারি খালে যে একটু মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করব সে উপায়ও নেই। সরকারি খাল যারা দখল করে আছে তারা প্রায় সবাই প্রভাবশালী স্থানীয় নেতা-কর্মী। এদের বিরুদ্ধে কথা বললেই তারা বাড়িতে গিয়ে হামলা, মামলা, হয়রানি করছে। ওদের ভয়ে এলাকার কোন মানুষ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না’। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফিংড়ি, গাভা, হাবাসপুর, কুলতিয়া, সুলতানপুর, সর্বকাশেরপুর, জোড়দিয়া, ব্যাংদহ, বালিথা, এল্লারচর, শিমুলবাড়িয়া, জি-ফুলবাড়িয়া, চাঁদপুর, ধলিহর, বহ্মরাজপুরসহ ওই এলাকার ৩০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিনাতিপাত করে। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে গ্রাম গুলো এখনও পানি ছুঁই ছুঁই। জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল কয়েকদিন আগে সাতক্ষীরার সব নদী-খাল-জলাশয়ের একসনা লীজ/ইজারা বাতিল ঘোষণা করে গণ-বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। গণ-বিজ্ঞপ্তি জারির পর প্রায় দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও বুড়ামারার খালের নেট-পাটা, বাঁধ এখনও অপসারণ হয়নি। এ ব্যাপারে ফিংড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামছুর রহমান বলেন, ‘সরকারি লোকজন কিছুদিন আগে এলাকায় গিয়ে নেট-পাটা অপসরণ করেছে শুনেছি। কিন্তু তার পরেও কিছু কিছু এলাকায় নেট-পাটা থাকতে পারে। তিনি বলেন, বিল থেকে নদী উচুঁ হয়ে যাওয়ার কারণে আসলে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। নেট-পাটা পানি নিষ্কাশনের তেমন একটা বাঁধা নয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত দিনে আওয়ামী লীগের যেসব নেতা-কর্মী জামাত শিবিরের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তারাই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ওই খালে নেট-পাটা দিয়ে সেখানে মাছ চাষ করছে’। ফিংড়ি ইউনিয়নের তহসিলদার মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত ৩০ সেপ্টেম্বর ৮/১০ জন লোক নিয়ে বুড়ামারার খালের নেট-পাটা অপসারণ করে দেয়া হয়েছে। এর পর কি হয়েছে তার আর খবর রাখি না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি তো নেট-পাটা পাঁজা করে শুয়ে থাকব না, আমার তো অন্য কাজ আছে ..। তিনি উল্টো প্রশ্ন রেখে বলেন ‘আমি চলে আসার পর তারা আবার খাল দখল করে নিলে আমার কি করার আছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নির্দেশ উপেক্ষিত হচ্ছে কি-না জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত কণ্ঠে বললেন, ‘আরে ভাই উনি নির্দেশ দিলে কি হবে। উনি তো জানেন না আমাদের কতো কাজ করতে হয়। নির্দেশ দিলেই কি সব কিছু হয়’। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, ‘অবৈধ দখলদাররা যতই প্রভাবশালী হোক না কেনো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনবল সংকটের কারণে সব এলাকায় এখনও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বুড়িমারা বিলে তহসিলদারের অভিযানের পর আবারও কীভাবে নেট-পাটা বসানো হলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *