দুর্গাপূজা উপলক্ষে জি আর এর চাউল আত্মসাতের চেষ্টা
রমজাননগর প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলায় আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারিভাবে ৬৬ টি মন্দিরকে ৫শ’ কেজি হারে জি আর এর চাউল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (০১ অক্টোবর) শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ হলরুমে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাংসদ এস এম জগলুল হায়দার, উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আতাউল হক দোলন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানবৃন্দ, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও মন্দির কমিটির সভাপতি সম্পাদকের উপস্থিতিতে উপজেলার মন্দির গুলোতে সরকারিভাবে বরাদ্দ চাউল বিতরণ করা হয়। উল্লেখ্য ২০১৮ সালে মানিকখালি সার্বজনীন মন্দিরের চাউল দেওয়া হয়। কিন্তু চলতি বছর মানিকখালি সার্বজনীন মন্দিরকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মানিকখালী সার্বজনীন মন্দিরের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র মন্ডল মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সেক্রেটারি অ্যাড. কৃষ্ণপদ অস্তিত্ববিহীন মন্দিরের নাম দিয়ে জি আরের চাউল আত্মসাৎ এর চেষ্টা করেছেন। মহামান্য হাইকোর্টের ২২৭১/১৬ নং রিট মামলার ২০১৬ সালের ৩০ জুনের আদেশ তাকে দেখালে তিনি বলেন, এখানে আদেশ নাম্বার নেই, এটা কোন আদেশই নয়। অস্থিত্ব বিহীন সার্বজনীন মন্দিরের নাম দিয়ে জি আরের চাল আত্মসাৎ এর চেষ্টার ব্যাপারে অ্যাডভোকেট কৃষ্ণপদ বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যেভাবে তালিকা করে দিয়েছেন সেভাবেই তালিকা করেছি। এই মন্দিরের নাম বাদ যাওয়ার ব্যাপারে তার কোনো হাত নেই। তাছাড়া সুভাষ মন্ডল বলেন, এই মন্দিরটি কে মহামান্য হাইকোর্টের ২২৭১/১৬ নম্বর রিট মামলায় ২০১৬ সালের ২১ জুনের আদেশে সার্বজনীন মন্দিরের স্থান মানিকখালি উল্লেখ করে মহামান্য হাইকোর্ট আদেশ প্রদান করেন। এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট কৃষ্ণপদ কে হাইকোর্টের আদেশ দেখালে তিনি উক্ত আদেশ এর আদেশ নাম্বার নেই কেন? এটা হাইকোর্টের কোনো আদেশ নয় বলে কটূক্তি করেন মর্মে সুভাষ চন্দ্র মন্ডল তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। ঘটনার বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, পূজা উদযাপন পরিষদ যেভাবে তালিকা দিয়েছে আমরা সেভাবে তালিকা পাঠিয়েছি। পূজা উদযাপন পরিষদের সেক্রেটারি আমাকে দোষারোপ করে যে কথা বলেছেন তা ভিত্তিহীন। ঘটনার বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সেক্রেটারি অ্যাড. কৃষ্ণপদ বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরাসরি মিটিংয় এ সার্বজনীন মন্দির নাম বাদ দিয়ে ভেটখালী মানিকখালী সার্বজনীন মন্দিরের নাম দিতে বলায় তিনি এভাবে নাম দিয়েছেন। সার্বজনীন মন্দির কর্তৃপক্ষ সরকারি বরাদ্দের চাল অস্তিত্ববিহীন নাম দিয়েছে আত্মসাৎ বন্ধ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply