ডেস্ক রিপোর্ট: শ্যামনগর উপজেলার সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা শেখ আবু সুফিয়ান কে দায়িত্ব দেওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি, অর্থ বাণিজ্য, এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর জাল সহ নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে। সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ১৫৫৫ নং স্মারকের এক অফিস আদেশে শেখ আবু সুফিয়ানকে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে বদলি করে শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরা রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর দেওয়ান আকরামুল হক স্বাক্ষরিত এ আদেশ দেন। সূত্রে জানা যায়, শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে শেখ আবু সুফিয়ানের বাড়ি শত গজের ব্যবধান। অবৈধ অর্থ উপার্জন করে জমিদার বাড়ি সদর ভূমি অফিস সংলগ্ন ভুলোর মোড়ে তিনি আলিসান ১টি বাড়ি নির্মাণ করেছেন। শ্যামনগরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৎকালীন আহসান উল্যাহ শরিফীর ও উপজেলা ভূমি অফিসের প্রধান সহকারী আব্দুল হাই এর স্বাক্ষর জাল করে মিউটেশন (নামজারী/নাম পত্তন) করার অপরাধে শেখ আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে শাস্তি সহ বিভাগীয় মামলা হয়। আবাদ চন্ডিপুর গ্রামের মজিবর রহমান জানান, ন্যাশনাল সার্ভিসের আওতায় হরিনগর গ্রামের এক মহিলার সাথে বুড়িগোয়লিনী ভূমি অফিসে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়রা আটক করে আবু সুফিয়ানকে। পরে সাধারণ জনগণ তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সে ছাড়া পায়। পরবর্তীতে কালিগঞ্জের পাউখালীর এক বাড়িতে অপর এক নারীর সাথে পুনরায় আপত্তিকর অবস্থায় ধৃত হয়ে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে থানায় আটকে রাখে। পরে অদৃশ্য শক্তিতে সে ছাড়া পায়। তিনি আরও জানান, ভূমি অফিসে চাকুরিরত অবস্থায় বন্দোবস্ত দলিল করার নাম করে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা শেখ আবু সুফিয়ান খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদান করার প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে ২লক্ষ টাকা নেন এবং কাজ না করে সে টাকা আত্মসাৎ করে। অপরদিকে খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদান করার প্রলোভন দেখিয়ে মুন্সিগঞ্জ পানখালী গ্রামের কাশেম গাজীর পুত্র শহিদ গাজীর কাছ থেকে নগদ ৬০হাজার টাকা নেন। বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের জেলে আতিয়ার রহমান জানান, খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদান করার প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেন আবু সুফিয়ান। ভূমি অফিসে চেক দাখিলা কর্তন বাবদ নির্ধারিত সরকারি ফি ছাড়াও কয়েক গুন অবৈধ ভাবে অর্থ বাণিজ্য করা, ভয় দেখিয়ে অর্থ নেওয়া, নাম জারি ও খাসজমি দেওয়ার নামে নিরীহ জনগণের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানায় একাধিক সূত্র। ইতোমধ্যে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ভুক্তভোগী মজিবর রহমান, আতিয়ার রহমান, শহিদ গাজী তাদের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এই দুর্নীতিবাজ নায়েবের বিরুদ্ধে দুদক, ভূমি মন্ত্রী, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা। এছাড়া গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে ভারতে গমন করেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে কথা বললে নায়েব আবু সুফিয়ান জানান, আমি ভারতে যাইনি এবং আমার নামে যে সব কথা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এসব কথার কোন প্রমাণ কেই দিতে পারবে না। আপনারা নিউজ করেন তবে সত্য জিনিসটা তুলে ধরবেন। নায়েব শেখ আবু সুফিয়ানকে শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্ব থেকে অন্যত্র বদলি করা সহ তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা সহ শ্যামনগরের সুশীল সমাজ।
