কুলিয়া, বহেরা, খাসখামার ও পুষ্পকাটিতে চলছে রমরমা মাদক ব্যবসা
এমএ মামুন, দেবহাটা: কিছু দিন আগে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে কমে আসে মাদক ব্যবসা। পাল্টে গিয়েছিল চিরচেনা পরিবেশ।. কিন্তু হঠাৎ করে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে দেবহাটা উপজেলার মাদক খ্যাত কুলিয়া ইউনিয়নের কুলিয়া, বহেরা, খাসখামার ও পুষ্পকাটি গ্রামের মাদক ব্যবসায়ীরা। কুলিয়া শহীদ মিনারের পিছনে, কুলিয়া মৎস্য শেডের নীচে, কুলিয়া বাজারের চার রাস্তার মোড়ে এখন প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে সারা রাত্রব্যাপী অবাধে বিক্রি হচ্ছে গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিল। তবে এসব এলাকায় যারা মাদক ব্যবসার সাথে আগে থেকে জড়িত ছিল মূলত তারা ও তাদের সন্তানেরা নতুন করে ফাকা মাঠে গোল দেওয়ার মতো মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এরা খুবই ধূর্ত, সহজে মাদকদ্রব্য কাছে রাখে না, পাশের বাগানে অথবা নিরপরাধ ব্যক্তিদের ঘরের পাশে মাদক দ্রব্য লুকিয়ে রাখে, কাস্টমার পেলেই সেখান থেকে বের করে নিয়ে বিক্রি করে। এছাড়া কুলিয়ার এই সকল এলাকায় স্মার্ট ফোনে চলছে গেম খেলার অন্তরালে জুয়া খেলা। এতে সর্বশান্ত হচ্ছে উঠতি বয়সী ছেলেরা। কেউ কেউ মোটরসাইকেল পর্যন্ত বন্ধক রেখে এই নতুন ধরনের মোবাইলে জুয়া খেলায় নেমে পড়েছে। এসকল এলাকার শান্তি প্রিয় সচেতন মানুষ এখন চিন্তিত হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, বহেরা বাজার থেকে শুরু করে তালবাগান, খাসখামার, পুষ্পকাটিতে পুরাতন ঘাঁটিগুলোতে ফেন্সিডিল ব্যবসা রমরমা ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে পুরাতন সকল ব্যবসায়ীরা। সাথে নতুন নতুন কিছু উঠতি বয়সী ছেলেরা এ অপরাধ কাজে নেমে পড়েছে। তবে জানা গেছে, তাদের কৌশল একটু অন্য রকম। এরা সাধারণত এক এলাকার মাদক ব্যবসায়ী অন্য এলাকায় যেয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ ভোল পাল্টে বিভিন্ন লোক দেখানো, নার্সারি ব্যবসা, পোলট্রি ব্যবসা, বালির ব্যবসা, সুপারির ব্যবসা, সেনেটারি ব্যবসা, পানের ব্যবসা, ইজি বাইক ভাড়ায় দেওয়া সামনে রেখে পুরাতন মাদক ব্যবসা ঠিকঠাক চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্রে জানা গেছে, কিছু দিন আগে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ক্রসফায়ার পদ্ধতির কারণে এরা অনেকেই ভিত হয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দু’একজন নেতাকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে থানায় যেয়ে মুচলেকা দিয়ে আসে আর মাদক ব্যবসা করবেনা বলে। অথচ তারা ঠিকই মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানিয়েছেন মাদকের সবচেয়ে বড় ব্যবসা হয়ে থাকে পুষ্পকাটি ভাটা এলাকায়। কারণ এখানে অনেক লোক ট্রাকের ড্রাইভার। মাদক ব্যবসায়ীরা দুই একজন ড্রাইভারকে ম্যানেজ করে ফজরের সময়ে ভাটা মসজিদের সামনে থেকে কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই ট্রাকে ফেন্সিডিল লোড করে নিয়ে যায় দেশের বিভিন্ন এলাকায়। এছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত স্থানীয় দোকানগুলোতে ক্যারাম বোট খেলার অযুহাতে মাদকাসক্তরা জড়ো হয়। খেলা চলে টাকার বিনিময়ে। এরপর এক সময় আশে পাশের ঝোপ ঝাড়ের পাশে যেয়ে ফেন্সিডিল বিকিকিনি শেষে সেবন করে তারা চলে যায়।
কুলিয়া ইউনিয়নের মাদক ঘাঁটিগুলোতে অবাধে মাদক বিক্রির পিছনে রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের কিছু অসাধু লোক। তারা হর হামেশা মাদক ব্যবসা বন্ধের জন্য মুখে ফেনা তোলে অথচ তারাই মূলত মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টারদাতা। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ তারা কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল।

Leave a Reply