আশাশুনির ইউপি চেয়ারম্যান ডালিমের হাত থেকে বাঁচতে এক নারীর সংবাদ সম্মেলন
ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার গদাইপুরের রাজাকার পুত্র ধর্ষণ ও হত্যাসহ এক ডজনেরও বেশি মামলার আসামি খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহানেওয়াজ ডালিম ও তার বাহিনীর সদস্যদের নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আশাশুনির কাপষান্ডা গ্রামের সুন্দর আলী মোড়লের মেয়ে সাজিদা খাতুন সোমবার দুপুর একটায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে উক্ত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, গদাইপুর গ্রামের যুদ্ধাপরাধী মামলার আসামি রাজাকার মৃত মোজাহার সরদারের পুত্র শাহানেওয়াজ ডালিমের বিরুদ্ধে পিরোজপুর গ্রামের ধর্মান্তরিত টুম্পা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা, গদাইপুর গ্রামের মহিলা ইউপি সদস্য নাছিমা ধর্ষণ চেষ্টা মামলা, সাতক্ষীরা শহরের কামালনগরের ঠিকাদার শফিউর রহমানের চাঁদাবাজি মামলাসহ এক ডজনের বেশি মামলা রয়েছে। এছাড়া তারা ভাইদের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক নাশকতার মামলা। তারা জামায়াত-বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। এছাড়া তার বাহিনী প্রধান কাপষান্ডা গ্রামের মঈনুল সানার বিরুদ্ধে বোমা হামালাসহ কমপক্ষে ৫টি মামলার আসামি। অপর সদস্য চেউটিয়া গ্রামের কবীর হোসেন খালিয়া গ্রামের তারামনী ধর্ষণ মামলার যাবজ্জীবন সাজা প্রাপ্ত আসামি। সে টুম্পা ধর্ষন ও হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। এ ছাড়া সে খুলনা জেলার কয়রা থানার ধর্ষণ মামলার আসামি। ডালিম বাহিনীর অন্যতম সদস্য কাপষান্ডা গ্রামের বিএনপি নেতা সাত্তার গাজী মনিপুর গ্রামের রফিকুল হত্যা, ডাকাতি ও নাশকতাসহ কমপক্ষে ৩০ মামলার আসামি। তার আরেক সদস্য চেউটিয়া ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আনিছুর রহমান জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সাতক্ষীরার চাঞ্চল্যকর আমানউল্লাহ আমান হত্যাসহ একাধিক নাশকতা ও মাদক মামলার আসামি। অপর সদস্য আজিজুল ইসলাম বিশ্বাসের বিরুদ্ধে নাশকতা, মাদক ও চুরিসহ কমপক্ষে ১০টি মামলা রয়েছে। আরেক সদস্য লিটুর বিরুদ্ধে কমপক্ষে পাঁচটি চুরি, নাশকতা ও মাদক মামলা রয়েছে। ডালিম বাহিনীর সদস্য চেউটিয়া গ্রামের মিলন সরদার ডালিমের ছত্রছায়ায় রমরমা মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে কমপেক্ষ ১০টি মামলা রয়েছে। ডালিম ও তার বাহিনীর অত্যাচারে প্রতিবাদ করতে যেয়ে কেউ বা হাত, কেউ বা পা হারিয়েছেন। আবার অনেকে মিথ্যা মামলা নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার ও নির্যাতনের প্রতিকার করতে যেয়ে চেয়ারম্যান ডালিম তার ভাই ও তার কাছের মানুষদের নামে একের পর এক হামলা ও মামলা করিয়েছেন। ডালিমের ঘের কর্মচারী আরিফ ভিজিএফ এর চালসহ গ্রেপ্তার হওয়ায় তার ভাই রমজানের উপর হামলা করে। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষ ডালিম বাহিনীর সদস্য মিলন, কবীর, সাত্তার, সামাদ, লিটু, আজিজুলসহ কয়েকজনকে পিটিয়েছে। সর্বোপরি আমার ভাই ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রমজানসহ কয়েকজনের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। নিজেদের দোষ ঢাকতে ভাই রমজানের বিরুদ্ধে কবীরের ছেলে বাবুকে দিয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব্ েমিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করিয়েছে। জামিন পাওয়ার পরও সে পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রমজান ও শ্রমিক লীগ নেতা রায়হানউদ্দিন খোকাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালায়। বিগত সাত বছরে সে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্প কাজ না করে ভুয়া মাস্টার রোলের মাধ্যমে ৭০ কোটির বেশি টাকা লুটপাট করেছে। এ ঘটনায় হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ডালিমের অত্যাচারে নির্যাতিত মানুষ আগামী ২০২১ সালের খাজরা ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান হিসেবে রমজানকে দেখতে চায়। এলাকায় এ ধরনের আওয়াজ ওঠায় ডালিম ও তার বাহিনীর সদস্যরা রমজানকে প্রতিহত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এমতাবস্থায় ডালিম চেয়ারম্যান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের হাত থেকে রমজান ও সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধান কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন সাজিদা খাতুন।

Leave a Reply