আশাশুনিতে ৮ মাসে ৯ বাল্যবিয়ে বন্ধ
সমীর রায়, আশাশুনি: আশাশুনি উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে আট মাসে নয়টি বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়েছে। এছাড়া সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে চলতি বছর ৯৩টি উঠান বৈঠক ও ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর মাঝে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করেছে দপ্তরটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাল্যবিয়ের মতো সামাজিক অভিশাপ থেকে মেয়ে শিশুদের মুক্তি দিতে সরকারি সবরকমের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। সরকারের পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে বাল্য বিয়ে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন উপজেলা মহিলা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
উপজেলা মহিলা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ৯টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। এরমধ্যে আনুলিয়া ইউনিয়নে কাকবাসিয়া গ্রামের ৩টি, কুল্যা ইউনিয়নে একটি, প্রতাপনগরে একটি ও এপ্রিল মাসে চারটি বাল্যবিয়ে ইউএনও ও স্ব-স্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের সহযোগিতায় বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে এবছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত ৯৩টি উঠান বৈঠক করা হয়েছে। এছাড়া বাল্য বিবাহের ঝুঁকিতে থাকা উপজেলার ২০টি অসহায় পরিবারকে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে, উপজেলার ১১টি বিবাহ রেজিস্ট্রারকে তাদের অফিস স্ব-স্ব ইউনিয়ন পরিষদে ও পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় স্থানান্তর করতে বলা হয়েছে। এরমধ্যে কাদাকাটি, বড়দল, শ্রীউলা ও দরগাহপুরের রেজিস্টার তাদের অফিস পরিষদে নিয়েছেন। বাকিগুলো পরিষদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় নেয়া হয়েছে।
আরো জানা যায়, এ উপজেলায় ১১ জন বিবাহ রেজিস্ট্রার বাদে ৮২ জন ইমাম, পুরোহিত ও শিক্ষক বিবাহ দিয়ে থাকেন। এদের ডাটাবেজ হালনাগাদ করে মোট ৬৫ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তালিকাভুক্তদের খুব দ্রæত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া অভিভাবকদের সচেতন করতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রতাপনগর, কুল্যা ও বুধহাটা ইউনিয়নের কয়েকটি হাইস্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, ইমাম, পুরোহিতদের নিয়ে বিশেষ ট্রেনিং করা হয়েছে। এরপর থেকে এসব এলাকায় বাল্যবিবাহ প্রবণতা কমছে।
মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা জোহরা জানান, বাল্যবিবাহের ঝুঁকির মধ্যে সমাজের অনগ্রসর শ্রেণি, বিশেষ করে ঋষি সম্প্রদায়ের মানুষ, অশিক্ষিত ও দরিদ্র পরিবারগুলো রয়েছে। আমরা খবর পেলেই জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। অভিভাবকদের মুচলেকা নিয়ে বিয়ে বন্ধ করছি। ইউনিয়ন পরিষদের রেজিস্ট্রাররা আর বাল্য বিবাহ দিচ্ছেন না, বরং তারা আমাদের কাছে ফোন করে বিষয়টি জানিয়ে আমাদের সহযোগিতা করছেন। এখন অসচেতন অভিভাবকরা জেলা নোটারি পাবলিকে গিয়ে তাদের অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়েদের রেজিস্ট্রি বিয়ে দিচ্ছেন। সেখানে আমাদের জানার সুযোগ থাকছে না। শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ইমাম, পুরোহিতসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ একজোট হয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এরমধ্য দিয়ে অভিভাবকদের বাল্য বিবাহের কুফল বোঝাতে পারলে বাল্য বিবাহ বন্ধ করা যাবে।

Leave a Reply