ঢাকাWednesday , 31 July 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

সরকারি সেবা পাওয়ার অধিকার সকলের

admin ঢাকা
আপডেট: 31 July 2019, 22:06

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সরকারি সকল সেবা পাওয়া নাগরিকের অধিকার। প্রত্যেক রাষ্ট্র নাগরিকের প্রাপ্য বিভিন্ন সেবা প্রদান করবে এটা সাংবিধানিক দায়িত্ব । কিন্তু নাগরিকরা সঠিক ভাবে সরকারি সেবা পাওয়া সম্পর্কে খুব বেশি সচেতন নয়। তারা অনেক সময় জানেন না যে কোন অধিদফতর থেকে কি সেবা পাওয়া যাবে ,কোথায় গেলে পাওয়া যাবে, কীভাবে যোগাযোগ করতে হবে, কার মাধ্যমে দিয়ে যেতে হবে এরকম শত শত সমস্যা সামনে হাজির হয়। আর এসকল সমস্যা সমাধান করতে না পেরে সব রকমের চেষ্টা বাদ দিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে। আবার কিছু ক্ষেত্রে সচেতন ব্যক্তি দেখলে তারা চেষ্টা করলে ও সে সেবা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে যেতে যেতে অনেক সময় সমস্যা তৈরি হয়। সরকারি ভাবে প্রত্যেক অধিদফতর ভিন্ন ভিন্ন ভাবে সেবা প্রদান করে থাকে। সাথে বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানও বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করছে। প্রতিনিয়ত সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলো মানুষ ও এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের ভুমিকা রেখে চলেছে। সরকারি -বেসরকারি সেবা নিশ্চিতকরণ সহ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য ব্যক্তি ও সমষ্টি গত ভাবে অনেক ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। কখনো একে অন্যের মধ্যে আলোচনা, যোগাযোগ, কাউকে দেখে, কোন জনসংগঠনকে দেখে, অন্যের পরামর্শ নিয়ে সরকারি বেসরকারি সেবা প্রদান করে যেসব প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অবিহিত করার সাথে অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তেমনি একটি সংগঠন শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের “পাখি মারা পরিবেশ বান্ধব আইএফএম কৃষি নারী সংগঠন।” যার যাত্রা শুরু হয় ২০১৭ সালে কৃষাণী রাবেয়া সুলতানার নেতৃত্বে ১৫ জন নারী নিয়ে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে আগ্রহী, নারীদের আয় বর্ধন মূলক কাজে নিজেদের যুক্ত বাড়ানোর সাথে সরকারি বে-সরকারি সেবা নিশ্চিতকরণ। সংগঠন তৈরির পর বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম চলমান রেখেছেন যেমন দিবস পালন, আলোচনা, অচাষকৃত উদ্ভিদের পাড়া মেলা ও রান্না প্রতিযোগিতা, স্কুল পর্যায়ে কুইজ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সঞ্চয় সম্প্রসারণ, জৈব বালাইনাশক তৈরি ও ব্যবহারে প্রশিক্ষণ, চুলা ও হাজোল তৈরিতে প্রশিক্ষণ, নদীর চর বনায়ন, স্থানীয় মুরগি জাত সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে মুরগি গবেষণা, বসতভিটায সবজি চাষ, অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর, প্রাণী সম্পদের ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্প, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সেবা আদায়ে যোগাযোগ ইত্যাদি। বর্তমান এ প্রতিষ্ঠানে সদস্য সংখ্যা ২০ জন। নারী সংগঠনের সভানেত্রী রাবেয়া সুলতানা বলেন, “সংগঠন তৈরির আগে আমাদের কোন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে তেমন কোন যোগাযোগ ছিল না। এক কোথায় বলতে গেলে কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং যখন জন্মনিবন্ধনের সনদ দরকার তখন ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়া এই দুই জায়গা ছাড়া আমাদের জানা শোনার মতো আর কোন জায়গা ছিল না। কিন্তু সংগঠন তৈরির পর বিভিন্ন ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা সহ তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পারি। তারা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করে তাদের নিজ নিজ এলাকার মানুষের জন্য বিভিন্ন সহায়তা নিতে পারছে যেনে মনে হলো আমরাও তো নারী তারা পারলে আমরা কেনো পারব না। বিশেষ করে দাতিনাখালী বনজীবী নারী সংগঠন ও ধুমঘাট শাপলা নারী সংগঠনের কাজ দেখে আগ্রহটা বেড়ে যায়। আর সেখান থেকে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংগঠনের নারীদের নিয়ে যাই এবং তাদের যে সেবা আছে তা কীভাবে পাওয়া যায় তা জানার চেষ্টা করি এবং সেভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করি।” রাবেয়া সুলতানা আরো বলেন যে, নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আমি এখন পর্যন্ত স্তানীয় সরকার থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য সহ উপজেলার প্রায় সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে গিয়েছি এবং কোন না কোন সহায়তা সেখান থেকে আমার এলাকার মানুষকে পেতে সহায়তা করেছি। এপর্যন্ত প্রতিবন্ধী কার্ড ৭জন, বয়স্ক ভাতা ২ জন, বিধবা ভাতা ২ জন, গর্ববতী মহিলা ভাতা ৩ জন, হাসপাতালে অসুস্থ রোগী দেখানো ১৪ জন, সহ বেসরকারি নবযাত্রা প্রকল্পের ৭৫ জনকে প্রশিক্ষণ ও উপকরণ পেতে সহায়তা করেছি। এছাড়াও গত ২৫ জুলাই ২০১৯ সমাজ সেবা অধিদফতর কর্তৃক শ্যামনগর উপজলেয়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী বাতায়নের আওতায় উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় শ্যামনগর উপজেলায় ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্টোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদ্রোগে আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তায় চেক বিতরণ করা হয়েছে। সেখানেও নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে পাখিমারা গ্রামের ৩ জন ক্যান্সার রোগী ও আটুলিয়া গ্রামে ১জন হার্টের রোগীকে সহায়তা করা হয়। তারা ৫০,০০০ হাজার টাকার চেক পেয়েছে।” এ প্রসঙ্গে ক্যান্সার রোগ চিকিৎসার চেক প্রাপ্ত মনোয়ারা ও হামিদা বেগম বলেন, “জানি না যে রোগ হয়েছে বাচক কিনা। কিন্তু চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা পয়সা খরচ করেছি। শেষ পর্যায়ে নারী সংগঠনের সহায়তায় যে সাহায্য পেয়েছি তা আমাদের অনেক কাজে লাগবে একটা মহৎ কাজ করে দিয়েছে এ সংগঠন তাদের সকলের ভালো হোক এই কামনা করি।” সরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোতে অনেক ধরনের সেবা প্রদান করে থাকে সে সেবা পাওয়া এবং সেবা সম্পর্কে জানার অধিকার প্রত্যেকের। সেক্ষেত্রে সেবা ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা হলে সেবার মান বৃদ্ধি সহ সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠান ও সেবা গ্রহীতার মধ্যে আন্ত:সম্পর্ক সৃষ্টি করার জন্য সকলের কাজ করা জরুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *