হারিয়ে যাচ্ছে মরিচ্চাপ নদী
ফিংড়ী প্রতিনিধি: এক সময়ের মরিচ্চাপ নদী এখন সরু নালায় পরিণত হয়েছে। মরিচ্চাপ নদী দখল মুক্ত না করলে জলাবদ্ধতার কবলে পড়বে নদী সংলগ্ন এলাকা। স্থানভেদে ২৫০-৩০০ মিটার চওড়া নদীটি এখন সরু নালায় রুপ নিয়েছে। নদীর দুই পাশ দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে কাঁচা-পাকা বাড়ি, ঘের, ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থাপনা। নদীটির সিংহ ভাগই এখন দখলদারদের অধিনে। এতে নাব্যতা হারিয়ে নদীটি মৃতপ্রায়। দখলদারদের বিরুদ্ধে আজও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অনেকেই এক সময়কার প্রমত্তা মরিচ্চাপ নদীর নাম বদলে নালা বলতে শুরু করেছেন। বাংলাদেশ নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুস সামাদ তৎকালীন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক থাকাকালীন মরিচ্চাপ নদী খনন করেছিলেন। কিন্ত বর্তমানে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি নদী ভরাট করছে। যার কারণে নদী এখন আর নদী নেই। এখনই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ না নিলে যেটুকু আছে তাও অবশিষ্ট থাকবে না বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রবাহহীন সামান্য পানি নিয়ে মরিচ্চাপ নদীর সাক্ষ্য দিচ্ছে নালাটি। দেবহাটা থেকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মধ্য দিয়ে আশাশুনি উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত ৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ মরিচ্চাপের পুরোটাই চলে গেছে অবৈধ দখলদারদের কবলে। এল্লারচর, ফিংড়ী, টিকেট, হিজলডাংগা, বিলশিমুলবাড়িয়া, শিমুলবাড়ীয়া, বালিথা, চরবালিথা, ব্যাংদহা,জোড়দিয়া, কামালকাটি, নৈকাটি, বাঁকড়া, শরাফপুর গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীর দু’ধারে চলছে দখলের মহোৎসব। মূল নদীর দু’ধারে বেড়ির মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে অসংখ্য কাঁচা-পাকা বাড়ি, ধর্মীয় স্থাপনা, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, ইটেরভাটা, মুরগির খামার, ঘেরসহ বিভিন্ন স্থাপনা। নদী তীরবর্তী এলাকাবাসী জানান, এক সময় মরিচ্চাপ ছিল খরস্রোতা। এতে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা হতো। মরিচ্চাপ ছিল স্থানীয় গরিব আসহায় মানুষের জীবন-জীবিকার উৎস। এই নদী দিয়ে চলতো বড় বড় লঞ্চ-স্টিমার, পাল তোলা নৌকা। আশাশুনি, দেবহাটা এবং সদরের বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার অন্যতম প্রধান পথ ছিল মরিচ্চাপ নদী। বিশেষ করে সাতক্ষীরা শহরে আসতে এই নদীই ছিল প্রাণ সায়ের খালে প্রবেশের পথ। খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম ছিল এটি। তৎকালীন সদরের এল্লারচরে ছিল স্টিমার ঘাট। এছাড়াও অনেক জায়গায় খেয়াঘাট ছিল। ভাঙা-গড়ার দৃশ্য দেখা যেত মরিচ্চাপ নদীর দু’পাড়ে। দু’ধারে নদীকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত ছিল ফসলের মাঠ। কিন্তু আজ সবই স্মৃতি। এছাড়া নদীর বাকে বাকে অপরিকল্পিতভাবে ¯সুইস গেট করায় খালগুলোর পানি প্রবেশ ও পানি বের হতে না পারায় জোয়ারে আসা পলি নদীর বুকে জমে যাওয়ায় নাব্যতা হারায় নদীটি। ফলে এখন আর জোয়ার-ভাটা হয় না। তার উপর আবার নেট-পাটা ও অবৈধ বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। তবে এই মুহুর্তে নদী দখল মুক্ত ও খনন করতে হবে। অন্যথায় নদী সংলগ্ন এলাকা জলাবদ্ধতার কবলে পড়বে। বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে মুছে যাবে মরিচ্চাপ নদীর নাম। দ্রæত মরিচ্চাপ নদীকে বাঁচাতে কার্যক্রম শুরু করা হোক এমন দাবি সচেতন মহলের।

Leave a Reply