ঢাকাSunday , 21 July 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

স্বাধীনতা যুদ্ধের ৯নং সেক্টরের প্রতিষ্ঠাতা ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টারের ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী সোমবার

admin ঢাকা
আপডেট: 21 July 2019, 23:04

মীর খায়রুল আলম দেবহাটা: বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ৯নং সেক্টরের প্রতিষ্ঠাতা সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টারের ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী সোমবার। তিনি ১৯৩৭ সালের ৬ ফেব্রæয়ারী টাউন শ্রীপুরের বিখ্যাত মিস্ত্রি বংশে জন্মগ্রহনণ করেন। তিনি তৎকালীন ব্রিটিশ শাসন আমলে সাত জমিদারের বসতি ও বাংলাদেশের প্রথম পৌরসভা টাউন শ্রীপুর গ্রামের মুন্সী খিজির মিস্ত্রির পুত্র। তেরো ভাই-বোনের মধ্যে একমাত্র তিনিই বেঁচে ছিলেন। তার পিতা অত্যান্ত সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। ধর্ম পরায়ণ ব্যক্তি হিসাবে এলাকায় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। হিন্দু জমিদার শাসিত টাউনশ্রীপুর প্রাইমারি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর টাউনশ্রীপুর শরৎচন্দ্র হাই স্কুলে ভর্তি হন। তিনি নবম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় মাতৃভাষা রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়। তিনি তাদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভাষার প্রতি সম্মান জানিয়ে নিজ বিদ্যালয়ে ৪০ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেন। সেখানে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেওয়ার পর তিনি সকলের নজর কাড়েন। ১৯৫৪ সালে তিনি উক্ত বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন। পরে সাতক্ষীরা মহকুমার একমাত্র কলেজে আইকম ক্লাসে শাহজাহান মাস্টার ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে তিনি আই.কম পাশ করেন। পরবর্তীতে ১৯৫৮ সালে কুষ্টিয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে বি.কম পাশ করেন। একই বছর সাতক্ষীরা পদ্মশাখরা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। পরে ১৯৫৯ সালে শ্যামনগর থানার ভেটখালী হাইস্কুলে একই পদে যোগদান করেন। সাথে সাথে ১৯৬২ সালে রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড পাশ করেন এবং শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করেন। পরবর্তীতে টাউনশ্রীপুর ও সখিপুর হাইস্কুলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পদ্মশাখরা স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন সময় হাড়োদ্দাহ নিবাসী আজিজুর রহমানের কন্যা রাবেয়া খাতুনকে বিবাহ করেন। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে পাকিস্তানী মিলিটারি পরিচালিত মুজাহিদ বাহিনীতে যোগদান করেন। তার দক্ষতার ফলে পাকিস্তান সরকার তাকে সাতক্ষীরা মহাকুমা মুজাহিদ বাহিনীর দায়িত্ব দেন। পরবর্তীতে পাকিস্তান সরকার তাকে ক্যাপ্টেন উপাধিতে ভূষিত করেন। একারণে তিনি ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টার নামে পরিচিত হন। ১৯৭১ সালে ৭ই মার্চ বঙ্গ বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশ রক্ষার্থে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। তিনি স্থানীয় যুবকদের নিয়ে নিজ এলাকায় মুক্তি বাহিনী গঠন করেন। দেবহাটা থানায় পাকিস্তানী পতাকা নামিয়ে জয় বাংলা পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ দেন। বিওপির ৬ জন পাকিস্তানী ইপিআরদের বন্দী করে তাদের কাছ থেকে চায়না রাইফেল ছিনিয়ে নেন। যুদ্ধ কালীন সময় ৯ নম্বর সেক্টরের মুক্তি বাহিনীর ট্রেনিং ক্যাম্প টাউনশ্রীপুর হাইস্কুলে স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টার ভরতের টাকীতে মুক্তি বাহিনীর প্রথম ক্যাম্প স্থাপন করেন। যেটি শেষ পর্যন্ত নয় নম্বর সেক্টরের মর্যাদা পায়। একারণে তাকে নয় নম্বর সেক্টরের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। দীর্ঘ নয় মাসে যুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলার নিজ এলাকায় ফিরে এসে পুনরায় শিক্ষাকতায় যোগদেন। ইংরেজি ১৯৮৫ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে বাংলাদেশে প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, এবং তিনি দেবহাটার প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে তিনি নিজের মূল্যবান অংশ দুইটি চক্ষু রেজিস্ট্রির মাধ্যমে আই ব্যাংকে দান করেন। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই সখিপুর হাই স্কুলে ক্লাস নেওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সাথে সাথে তাকে সখিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে দুপুর ১২.৩০ মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ২৪ জুলাই টাউনশ্রীপুর হাইস্কুল প্রাঙ্গণে বিকাল ৫টায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। তারই স্মরণে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ক্যাপ্টেন শাজাহান মাস্টার স্মৃতি সংসদের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে মৃত্যুবার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। টাউন শ্রীপুর শরৎচন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অবস্থিত তার মাজার চত্তরে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে ২২জুলাই সন্ধ্যা ৭টা থেকে পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত। ২৩জুলাই সকাল ১০টায় আলোচনা সভা, দুপুর ১২.৪৫মিনিটে মিলাদ মাহফিল ও কবর জিয়ারত অনুষ্ঠান, বেলা ১টায় মোনাজাত এবং দুপুর ২টায় তাবারক বিতারণ অনুষ্ঠিত হবে। স্মরণ সভায় বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *