কালিগঞ্জের নলতা কলেজে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পরীক্ষা আজ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরীক্ষা গ্রহণের দাবি
কালিগঞ্জ প্রতিনিধি: প্রখ্যাত সুফী সাধক, শিক্ষা সংস্কারক, খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) এঁর পবিত্র জন্মভূমি নলতা মোবারকনগরে অবস্থিত নলতা আহ্ছানিয়া মিশন রেসিডেন্সিয়াল কলেজে দীর্ঘ অপেক্ষার পর আজ শনিবার (১৩ জুলাই) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অধ্যক্ষ পদের নিয়োগ পরীক্ষা। প্রায় ৪ বছর নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ না থাকায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে চলছিল কলেজটি। বছরের পর বছর অধ্যক্ষের চেয়ার আঁকড়ে ধরে রাখা বিগত সময়ের প্রভাষক ও বর্তমান উপাধ্যক্ষ তোফায়েল আহম্মেদই পাতানো নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পাচ্ছেন এমন আলোচনা চলছে সর্বত্র। এজন্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে একজন সৎ ও যোগ্য অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রদানের দাবি উঠেছে এলাকার অভিভাবক ও সুধী সমাজের পক্ষ থেকে। এছাড়া ওই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তোফায়েল আহম্মেদের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও সাজানো নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে নিজে অধ্যক্ষ হওয়ার প্রচেষ্টার প্রতিকারের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কলেজ পরিদর্শক, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরে এলাকবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নলতা আহছানিয়া মিশন রেসিডেন্সিয়াল কলেজে গত ১৪/১০/২০১৪ তারিখে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় প্রথম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ২৭/১২/১৪ তারিখে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বিধি বহির্ভূতভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হন প্রভাষক তোফায়েল আহম্মেদ। এসময় মোট চারবার বিজ্ঞাপন দিলেও উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়া হয়নি। তিনি সরকারি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিধি লঙ্ঘন করে একটানা ১৬ মাস ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১২ বছরের অভিজ্ঞতা পূর্ণ হওয়ার পর বিজ্ঞাপন দিয়ে সাজানো নিয়োগ বোর্ডে ০৮/০৫/১৬ তারিখে প্রক্সির ৪ প্রার্থীর সহযোগিতায় পূর্ব থেকে ঘোষণা দিয়ে তোফায়েল আহম্মেদই উপাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান। অথচ একই তারিখে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পরীক্ষা হলেও অজ্ঞাত কারণে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। তোফায়েল আহম্মেদ ও তার বাল্যবন্ধু ওই কলেজের অফিস সহকারী দীপক কুমার পালের যৌথ পরিকল্পনায় অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ সুকৌশলে বন্ধ রেখে আবারও ০১/০৭/২০১৬ তারিখ থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন উপাধ্যক্ষ তোফায়েল আহম্মেদ। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কলেজে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিজের জন্মদিন পালন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন খাত থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থাকাকালে ৩ বছরের মধ্যে নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগ না দিয়ে নানা কৌশলে অধ্যক্ষ নিয়োগ বন্ধ করে রাখা হয়। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা পূর্ণ করে নিজে অধ্যক্ষ হওয়ার জন্য গত ২৭/০৫/২০১৯ তারিখে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেন। এবারও সুকৌশলে নীরবে নিভৃতে পছন্দের কয়েকজনকে দিয়ে ইতোমধ্যে প্রক্সি দেয়ার জন্য আবেদন করিয়ে নিয়েছেন। আজ ১৩/০৭/১৯ তারিখে নিয়োগ পরীক্ষায় তোফায়েল আহম্মেদই হবেন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করবেন এবং তিনিই নলতা আহছানিয়া মিশন রেসিডেন্সিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ হবেন বলে এলাকায় সর্বমহলে আলোচনা সমালোচনা চলছে। এজন্য সুষ্ঠু নিরপেক্ষ পরীক্ষা গ্রহণ করে দুর্নীতিবাজ তোফায়েল আহম্মেদের নীলনক্সা বাতিল করে একজন সৎ, যোগ্য ও দক্ষ অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহŸান জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
এব্যাপারে জানতে চাইলে তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, আমি ইচ্ছা করে নিয়োগ বন্ধ রাখিনি। বিভিন্ন কৌশলগত কারণে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি। ১৩ তারিখে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষা স্বচ্ছভাবে হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Leave a Reply