পশ্চিম সুন্দরবনে বনদস্যু জোনাব বাহিনী ফের বেপরোয়া
নূরুন্নবী ইমন, রমজাননগর (শ্যামনগর): সাতক্ষীরা রেঞ্জের পশ্চিম সুন্দরবনে বনদস্যু জোনাব বাহিনী ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ইতিপূর্বে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, অভিযান ও বনদস্যুদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে পশ্চিম সুন্দরবন বনদস্যুমুক্ত হয়। জেলেদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। এ সময় জেলেদের ত্রাস, আলোচিত বনদস্যু জোনাব বাহীনি গা ঢাকা দিয়ে থাকে। জেলেরা নিরাপদে সুন্দরবনের মাছ, কাঁকড়া, মধু আহরণ করছিল। কিন্তু হঠাৎ করে বনসদস্যু জোনাব বাহিনী আবারও জেলেদের মাঝে ত্রাস সৃষ্টি করে প্রতিনিয়ত জেলে জিম্মি করে চলেছে। টাকা দিতে দেরি বা অপরাগতা প্রকাশ করলে চালাচ্ছে নানা নির্যাতন। সূত্র জানায়, এ বনদস্যু বাহিনী অধিকাংশ সময় ভারত সীমান্তে অবস্থান করে। সুযোগ বুঝে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করে জেলে জিম্মি করে নিয়ে চলে যায়। মুক্তিপণ হিসাবে মাথা পিছু লক্ষাধিক টাকা গ্রহণ করছে। তাছাড়া এ বনদস্যু বাহিনী দীর্ঘ বছর পশ্চিম সুন্দরবনে অবস্থান করে দস্যুতার পাশাপশি হরিণ, বাঘসহ নানা জাতের পশু পাখি শিকার করে ভারতে পাচার এবং ভারত থেকে অস্ত্র, মাদক আনছে বাংলাদেশে। বনদস্যু জোনাব বাহিনীর প্রধান জোনাব ভারতে আলীশান ভবন নির্মাণ করেছে বলে জানা যায়। বিগত পনের দিনের ভিতরে এ বনদস্যু বাহিনী শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের কালিঞ্চী গ্রামের মৃত মোর্শেদ শেখের পুত্র আনছার শেখসহ একই এলাকার একজন, কৈখালী ইউনিয়নের বৈশখালী গ্রামের ফারুক গাজীর পুত্র জাহাঙ্গীর জিম্মি করে। আনছারকে এক লক্ষ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দিলেও অদ্যাবধি মুক্ত পায়নি অপর দুইজনসহ আরও অনেকে।
জেলে সূত্রে জানা যায়, বনদস্যু জোনাব বাহিনী পশ্চিম সুন্দরবনের হুগোল ডেগরো ও কচুখালী সংলগ্ন খালে অবস্থান করে জেলেদের জিম্মি করছে। দ্রæত অভিযানের মাধ্যমে যাতে করে পশ্চিম সুন্দরবন থেকে জোনাব বাহিনী নির্মূল হয় তার জন্য র্যাব, কোস্টগার্ড, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন জেলেসহ সুধীমহল।

Leave a Reply