তালায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জমি জবর-দখলের পাঁয়তারা
সৌমেন মজুমদার, তালা: তালার পল্লীতে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বাদী নিজেই জমি জবর-দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আপন ও বিমাতা ভাইদের সাথে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ চালিয়ে আসছে উপজেলার জেঠুয়া গ্রামের মৃত মোস্তফা শেখের ছেলে হায়দার আলী শেখ। নিজে বাদী হয়ে অভিযোগ করেও নিজে শালিশ না মেনে আপন ও বিমাতা ভাইদের হয়রানি করে আসছে। এঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে। এর মধ্যে আপন ভাই হলেন, আমজেদ শেখ দুই বোন গোলজান বিবি ও জেলেখা বিবি, বিমাতা ভাই মিয়ারাজ শেখ।
সরেজমিন জেঠুয়া বাজারে গেলে স্থানীয় পার্শবর্তী দোকানদাররা ও সাবেক ইউপি সদস্য সম আহাদ, ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জবেদ আলী, আব্দুল কায়ুম, মিজানুর রহমানসহ উপস্থিত জনতা ও দোকানদাররা জানান, জেঠুয়া মৌজার ১১২৩ খতিয়ানের ৬৭৩ দাগের ১৪ শতক জমি নিয়ে জেঠুয়া গ্রামের মৃত মোস্তফা শেখের তিন ছেলে ও দুই কন্যা। এর মধ্যে বড় ছেলে হায়দার শেখের সাথে আমজেদ শেখ ও মিয়ারাজ শেখ এবং দুই কন্যা গোলজান বিবি ও জেলেখা বিবির সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি হায়দার আলী তালা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তালা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী শহিদুল ইসলাম সরেজমিন তদন্ত করে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে শালিশের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু সমাধানে আসেন। পরে তিনি মাপ-জরিপ করে বেড়া দিয়ে ভাগ-বাটোয়ারা করে আপোষ মীমাংশা করেন। কিন্তু অভিযোগের বাদী হায়দার আলী বাদী হয়ে আবারও সাতক্ষীরা বিজ্ঞ আদালতে তার বিমাতা ভাই মিয়ারাজ আলী, আমজেদ শেখ ও চাচাত ভাই এনায়েত আলীকে অভিযুক্ত করে ১৪৫ ধারা একটি মামলা করেন। এ মামলার প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক শান্তি শৃংঙ্খলা বজায় রাখতে তালা থানা এএসআই সেলিম রেজা একটি নোটিশ জারি করেন। এতেও ক্ষ্যান্ত না হয়ে হায়দার আলী বিমাতা ভাইদের জমি ফাঁকি দিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিলের উদ্যেশ্যে আবারও তালা থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। সুচতুর হায়দার আলী শেখ বর্তমানে শান্ত এলাকা অশান্ত করে তুলেছে।
মিয়ারাজের পাশর্^বর্তী দোকানদার শেখ কবির হোসেন জানান, মিয়ারাজের বড় ভাই হায়দারের সাথে বাজারের জমি-জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে। এব্যাপারে তালা থানায় দফায় দফায় শালিশী বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু শালিশের কোন সিদ্ধান্ত হায়দার আলী মেনে না নিয়ে বিভিন্ন সময় মিথ্যা মামলা করে আসছে। এলাকাবাসী হায়দার আলী শেখের এহেনও আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
এব্যাপারে মিয়ারাজ আলী জানান, আমার বিমাতা ভাই হায়দার আলী আমাদের সকলের বড়। সে বাবার সম্পত্তি আমাদের অংশ বুঝে না দিয়ে নিজে ভোগ দখল করার চেষ্টা ও বিভিন্নভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে। ১৪৫ ধারার পর বিভিন্নভাবে আমাদেরকে চাপ প্রয়োগ করে বেড়া-টাইট তুলে দেওয়ার চেষ্টা ও মারধর করছে। সে নিজে শালিশ ডেকে আবার নিজে মানে না। চালাকি করে নিজেকে প্রতিবন্ধী হিসাবে ব্যবহার করে সমাজের মানুষকে দুর্বল করে। আমি এর সঠিক বিচার দাবি করছি।
এব্যাপারে হায়দার আলী শেখ জানান, আমি আমার জমি বুঝে পাচ্ছি না তাই বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছি এবং মামলা মকদ্দামা করে নিজের হিসাব বুঝে নেওয়া চেষ্টা করছি। আমার ভাইরা আমাকে ঠকাতে চায়।
জেঠুয়া বাজারের ব্যবসায়ী ইন্দ্রজিৎ দাশ বাপী জানান, জমি-জমা নিয়ে হায়দার আলী শেখের সাথে মিয়ারাজ শেখ ও তার ভাই বোনদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এঘটনায় দফায় দফায় শালিশী বৈঠক হয়েছে। হায়দার আলী শালিশ ডাকে কিন্তু পরে সে শালিশ মানে না। একবার আদালতে একবার থানায় মিথ্যা মামলা করে তার বিমাতা ভাই ও আপন ভাই বোনদের হয়রানি করছে। এর একটা বিহিত হওয়া দরকার।

Leave a Reply