কথা রাখলেন সাতক্ষীরার এসপি: ঘুষ ছাড়া পুলিশ হলো ৭২ জন
ডেস্ক রিপোর্ট: ঘুষ বা তদবির ছাড়াই ১০৩ টাকায় পুলিশে চাকরি পেল সাতক্ষীরার ৭২ জন যুবক-যুবতী। বুধবার সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ লাইন্সে এসব যুবকের চাকরি চূড়ান্ত করার ঘোষণা দেন পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান। এর আগে গত ২২ জুন থেকে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি প্রত্যাশী প্রায় ৭৯৮ জন যুবক সরাসরি আবেদন করেন। লিখিত পরীক্ষায় ৭৯৮ জনের মধ্য থেকে ২৪০ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। উত্তীর্ণ ২৪০ জনের মধ্যে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মাত্র ৭২ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। শুধুমাত্র মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরি লাভ করে বেশ আনন্দিত নির্বাচিতরা।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের পরিদর্শক ইয়াছীন আলম চৌধুরী জানান, পুরুষ কনস্টেবল হিসাবে ৫৯ জন এবং নারী কনস্টেবল সাধারণ কোটায় ১০ জন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় দুই জন নারী ও পোষ্য কোটায় ১ জন নারী সর্বমোট ১৩ জন নারী পুলিশ কনস্টেবলকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, পুরুষ ও নারীসহ ৭২ জনকে সাতক্ষীরা থেকে পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত রেজাল্টের আগের দিন সাতক্ষীরা গোয়েন্দা পুলিশ তৎপর থেকে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করায় ১১ লক্ষ টাকাসহ দুই প্রতারককে আটক করতে সক্ষম হয়। পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান বিপিএম বলেন, সততা এবং ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে যুবকদের বাছাই করে চাকরি প্রদানে সহযোগিতা করতে পেরে তিনিও বেশ খুশি। চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণদের তিনি গতকাল ১ টি করে রজনী গান্ধার স্টিক দিয়ে পুলিশ পেশায় অভিনন্দন জানান। তিনি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, সাতক্ষীরায় পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের আগ থেকে বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করা হয়েছিল। প্রতারকের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পরীক্ষার ১৫ দিন আগ থেকে জেলাব্যাপি মাইকে সতর্কতামূলক প্রচার করা হয়। যার ফলে এত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে ৭২ জনকে কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি আরো বলেন, মন্ত্রী, এমপি এমনকি প্রভাবশালী কোনো রাজনৈতিক নেতাও তার কাছে চাকরির জন্য সুপারিশ করেননি। এ জন্য পুলিশ সুপার সবার কাছে কৃতজ্ঞতা জানান।
জেলা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ থেকে জানা যায়, সাতক্ষীরায় পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ বোর্ডে জেলা পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান ছাড়াও অন্য দুই সদস্য ছিলেন পুলিশ হেড কোয়ার্টার থেকে একজন এসপি পদমর্যাদার অফিসার, এছাড়া যশোর থেকে একজন এডিশনাল এসপি পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা নিযুক্ত ছিলেন নিয়োগ বোর্ডে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতরা আগামী এক মাসের মধ্যে প্রশিক্ষণ দিতে দেশের পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে যোগে দেবেন।

Leave a Reply