দরিদ্রদের ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করতে হবে: জেলা প্রশাসক
মঈনুল আমিন মিঠু, ধানদিয়া (তালা): আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক তালার আয়োজনে ধানদিয়া সেনেরগাঁতী-২ সমিতির উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ২৫ জুন উঠান বৈঠকে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফরিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০ টি অগ্রাধিকার প্রকল্পের ১ নং প্রকল্প। আমাদের গ্রামের প্রতিটি এলাকায় সমিতির মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকে ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা হবে। আপনারা অল্প সুদে (৮%) দেওয়া এই টাকা সঠিক সময়ে পরিশোধে পুনরায় বেশি টাকা ঋণ নিতে পারবেন। তিনি এ সময় নারীদের টার্কি ও সেলাই কাজের (দর্জি) প্রতি আগ্রহী হওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। তিনি প্রাণীসম্পদ অফিসের মাধ্যমে পশু পলনকারী নারী পুরুষদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবেন বলে ঘোষণা দেন। তিনি সমিতির ৪০ জন সদস্যের বই পর্য়বেক্ষণ করেন এবং কোন ঋণ খেলাপি না থাকায় উপজেলা সমন্বয়কারী রিপা মোনালিসা, মাঠ সহকারী আবু সাঈদ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া আফরিন বলেন, এই প্রকল্পটি ৬৪ জেলার ৪৯০ উপজেলার ৪,৫০৩ টি ইউনিয়নের ৪০, ৯৫০ টি গ্রামে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পে প্রাথমিক জরিপের ভিত্তিতে গ্রামের দরিদ্র মানুষের জন্য সমবায় ভিত্তিক সমিতি সৃষ্টি করে সদস্যদের দক্ষতাবৃদ্ধিমূলক বিভিন্ন প্রশিক্ষু, ঋণ, অনুদান ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়, সাথে সাথে দরিদ্রদের মধ্যে দুগ্ধবতী গাভি, মৎস্য, হাঁস-মুরগি ও ফসলের বীজ বিতরণ করা হয়। ২০২০ সালের মধ্যে দেশে দারিদ্র্যের হার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সমন্বিত গ্রাম উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিটি বাড়িকে অর্থনৈতিক কার্যাবলির কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে গড়ে তোলার প্রয়াসে ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী রিপা মোনালিসা, ধানদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, প্যানেল চেয়ারম্যান আরিফুল আমিন মিলন, ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা, প্রকল্পের জুনিয়র অফিসার আফজাল বশীর, রিয়াজ উদ্দিন, ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নান, আঃ মান্নান, সেনেরগাঁতী-২ সমিতির সভাপতি তপন মÐল ও সাধারণ সম্পাদক শাহাজাহান।

Leave a Reply