ঢাকাSunday , 23 June 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

সাতক্ষীরার উন্নয়নে আ’লীগ ও প্রেসক্লাব এক সাথে কাজ করবে

admin ঢাকা
আপডেট: 23 June 2019, 22:41

স্টাফ রিপোর্টার: ‘অতীত পেছনে থাক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাও’ এই প্রত্যাশা নিয়ে শুরু হলো সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নবযাত্রা। আওয়ামী লীগের ৭০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিককে স্মারক রেখে শান্তি ও সহাবস্থানের বারতা নিয়ে এই নবযাত্রায় শরিক হলেন জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতৃবৃন্দ ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব।
পেছনের সব দ্বিধা দ্ব›দ্ব ভুলে নতুনের সন্ধানে যাত্রার এই শুভক্ষণে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে বসেছিল এক মিলন মেলা।
রোববার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের বসেছিল এ মিলন মেলা। তারা বলেন, আমরা এখন থেকে এক ও অভিন্ন পথের পথিক। আমরা গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য কাজ করি। আমরা উন্নয়ন ধারাকে এগিয়ে নিতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চাই। আমরা কাজ করতে চাই সাতক্ষীরাকে অর্থনৈতিক জোন তৈরি করতে। সাতক্ষীরায় রেল সংযোগ, বিনেরপোতা থেকে আশাশুনি পর্যন্ত দ্বিতীয় বাইপাস সড়ক নির্মান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, ভোমরা স্থল বন্দরকে পূর্নাঙ্গ বন্দরে উন্নীতকরণ, অবকাঠামো নির্মান, সুন্দরবনে পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনসহ অনেক কাজ এখনও বাকি উল্লেখ করে তারা বলেন আমরা এসব উন্নয়ন দাবি পূরণে কাজ করে যাবো।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাথে সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবির মধ্যে যে দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছিল আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আজ তার অবসান ঘটে।
মিলনমেলার প্রধান অতিথি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আফম রুহুল হক বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সততা, ন্যায়নিষ্ঠতা, সঠিক দিক নির্দেশনা ও বিচক্ষণতার কারণে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বিষ্ময়। আমাদের ভুল ত্রুটি শুধরে নিয়ে একাগ্রচিত্তে কাজ করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন আমরা সাতক্ষীরায় রেল সংযোগ আনতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে চাই। জলাবদ্ধতা দুরীকরণ, সব নদী খাল খনন, ভোমরা বন্দর উন্নয়ন, পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন এসবই আমাদের এজেন্ডা। আমরা ধারাবাহিকভাবে সরকারের সাথে আলাপ আলোচনা করে এসব উন্নয়ন কাঠামো বিনির্মান করতে চাই। তিনি বলেন সাতক্ষীরা খাদ্য শস্য ও সবজি উৎপাদন, মৎস্য উৎপাদনে এগিয়ে। জাতীয় উন্নয়নে সাতক্ষীরা অবদান রাখছে তা সত্তে¡ও সাতক্ষীরায় পর্যাপ্ত উন্নয়ন নেই উল্লেখ করে তিনি আমরা সাতক্ষীরার উন্নয়ন চাই। সাংবাদিকদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব বিভেদ দুর করে আপনারা সকল সাংবাদিকের জন্য প্রেসক্লাবকে উন্মূক্ত করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি বলেন আসুন অতীত ভুলে যাই। প্রেসক্লাবকে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিপক্ষ বানানো ঠিক না। তিনি বলেন যা ইচ্ছা তাই রিপোর্ট করলে সমাজের শৃংখলা নষ্ট হয়। কারও ভুল থাকলে তা শুধরে দিতে হবে। এতে অপমানবোধের কিছু নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন আপনারা সত্য লিখুন। এক তরফা না লিখে প্রতিপক্ষের বক্তব্য নিন। তিনি বলেন আমার মনে ক্ষোভ দুঃখ আক্রোশ কিছুই নেই। আমি একজন মুক্তমনা মানুষ। মানুষকে ভালবাসি। নিজের ওপর আস্থা রাখি। সাংবাদিকদের সাথে আমার সেতুবন্ধন ছিল। এখন আছে। আগামিতেও থাকবে। সাংবাদিকদের লক্ষ্য এবং আমরা যারা রাজনীতি করি জনপ্রতিনিধিত্ব করি তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। আমরা এই অভিন্ন পথে চলতে চাই। তিনি বলেন মাদক জঙ্গি দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতিতে আমরা বিশ্বাস করি বলেই আমরা সবাই মিলে এই অপরাধকে চিরদিনের মতো বাংলাদেশ থেকে বিদায় দিতে চাই। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব শুধু সাংবাদিকদেরই বাড়ি নয় এটা আমারও বাড়ি। কারণ এই বাড়ির উন্নয়নে আমারও কম বেশি হাত রয়েছে। সুশীল সমাজের মানুষের যাতায়াত এই প্রেসক্লাবে। এখানে মানুষ আসে তার কথা বলতে। তার অভিযোগ জানাতে। সমস্যার কথা তুলে ধরতে। এজন্য জনগনের জন্য উন্মুক্ত দ্বার প্রেসক্লাবের। এই প্রেসক্লাবের যে চারজন সদস্যকে সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে তা প্রত্যাহার করে সাংবাদিকদের মধ্যেকার ঐক্য অটুট রাখতে হবে। তিনি বলেন সাতক্ষীরার সাংবাদিকদের অনেক সুনাম রয়েছে। এই সুনাম ধরে রাখতে হবে। তিনি বলেন প্রেসক্লাবের কোনো সদস্য যেনো কোনোভাবেই বঞ্চিত না হন সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সাতক্ষীরার স্থানীয় সকল সংবাদপত্রকে প্রেসক্লাবের সদস্য পদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রেসক্লাবের সাথে যে অনাকাংখিত দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল তা আজ থেকে দুর হয়ে গেলো বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম বলেন আমরা সাংবাদিকদের নিকটজন। তাদের সাথে আমাদের বন্ধুত্ব ও নৈকট্য রয়েছে। আমাদের সাথে আপনাদের দ্ব›দ্ব থাকবে না। এক ও অভিন্ন পথে বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু বলেন আমরা সাতক্ষীরায় সাংবাদিকেদর মধ্যে ঐক্য দেখতে চাই। কোনো বিভেদ বিভাজন নয়। প্রেসক্লাবে সৃষ্ট বিরোধ নিরসনে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।
মিলনমেলার সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ বলেন, আমাদের কমিটমেন্ট ছিল প্রেস ও পলিটিক্যাল পার্টির মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ন পরিবেশ সৃষ্টির। সাংবাদিকদের সাথে যে অনাকাংখিত দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল তা দুর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আজ সেই শুভক্ষনে আমি গর্ব করে বলতে পারি সাংবাদিকরা সমাজের উন্নয়নে কাজ করছেন, আর আমরা একই কাজ করছি। একটি আলোকিত সমাজ গঠনে আমরা সবাই একই পথের যাত্রী। তিনি বলেন সাংবাদিকদের মধ্যে সম্প্রতি যে দুরত্ব তৈরী হয়েছে তা দ্রæত মিটিয়ে ফেলা উচিত। বিরোধের নেপথ্যের কারন চিহ্নিত করে তা সমাধান করতে সকল পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে।
মিলন মেলায় আরও বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, সাধারন সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী, সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, প্রথম আলোর কল্যাণ ব্যনার্জি, দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক জিএম নুর ইসলাম, সাবেক সাধারন সম্পাদক এম কামরুজ্জামান প্রমূখ। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শেখ সাহিদউদ্দিন, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু সায়ীদ, সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শেখ নুরুল হক, শেখ শহিদুল ইসলাম, শেখ হারুনার রশীদ, ভাইস চেয়ারম্যান কোহিনুর ইসলাম, জেলা যুবলীগ আহবায়ক আবদুল মান্নান, মহিলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক জোৎস্না আরা, জেলা ছাত্রলীগ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *