ঢাকাMonday , 20 August 2018
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

কলারোয়ায় আমন আবাদে বিপর্যয়

admin ঢাকা
আপডেট: 20 August 2018, 16:32

মোজাহিদুল ইসলাম, কলারোয়া: ‘শ্রাবণের ১২ ও ভাদ্র্র মাসের ১৩ এর মধ্যে যত পার আমন চাষ কর’- গ্রাম বাংলায় এই প্রবাদ বহু পুরনো। অধিক বৃষ্টির কারণে আমন ধানের চারা রোপণের এটাই সব থেকে উপযুক্ত সময়। কিন্তু এবার শ্রাবণ মাস পার হলেও বৃষ্টির দেখা নেই। আকাশে মেঘের ভেলা ভেসে বেড়ালেও বৃষ্টি হচ্ছে না। এ কারণে আমন আবাদে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দুশ্চিন্তায় পড়েছে কৃষক।
এদিকে, মাঝে মাঝে যে বৃষ্টি হচ্ছে সেটাকে কলারোয়ার কৃষকরা ‘ছাগল তাড়ানো বৃষ্টি’ বলেই আখ্যায়িত করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কলারোয়ার অধিকাংশ আবাদি জমি বৃষ্টির অভাবে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। আর দিনভর একটু আধটু বৃষ্টি হলেও চৈত্র মাসের মত খাঁ খাঁ রোদ বিরাজ করছে।
কলারোয়া উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক আমিনুল হক বলেন, ‘শ্রাবণ মাস আসলে জমিতে পানি থৈ থৈ করে। কিন্তু এবার জমি ফেটে গেছে। এখনও পানির দেখা নেই। এভাবে যদি চলে তাহলে তো জমি পড়ে থাকবে, আবাদ-সাবাদ করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, যে জমিতে আমন ধান রোপন করা হয়েছে, বর্তমানে সেচ মেশিন দিয়ে সেচ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, বৃষ্টি না হওয়ায় আমন আবাদ নিয়ে এমন শঙ্কা শুধু আমিনুল হকের নয়, উপজেলার ভাদিয়ালি, সোনাবাড়িয়া, চন্দনপর, বয়ারডাঙ্গা, বিক্রমপুর গ্রামের কৃষকদেরও।
আমিনুল হক আরও জানান, তার ৪ বিঘা জমিতে আমন আবাদ হয়। এ জন্য প্রায় ১০ শতক জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। চারাও বড় হয়েছে। পানির অভাবে রোপণ করতে পারছেন না। এ বছরই শুধু নয়, কয়েক বছর ধরেই আবহাওয়া এমন বিড়ম্বনায় ফেলছে। মেশিনে সেচ দিয়ে চারা রোপণ করলে খরচ অনেক বেশি হয়ে যায়, বোরোর মতো আমনের ফলন হয় না। আর সে তুলনায় ধানের দামও পাওয়া যায় না।
উপজেলার ছলিমপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মাজেদ খা বলেন, আমন আবাদের জন্য জমিতে চাষ দিয়েছি। কিন্তু এক ফোটা পানিও নেই। এ অবস্থায় কীভাবে আমন রোপণ করব দুশ্চিন্তায় আছি।
মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা খরার কথা স্বীকার করে জানান, আমন রোপণের সময় চলে যাচ্ছে। এ সময় বৃষ্টি দরকার। বৃষ্টির অভাবে জমিতে পানি নেই। এবার আমনের আবাদ ১৫ দিন পিছিয়ে যেতে পারে।
উপজেলার ১১নং দেয়াড়া ইউনিয়নের উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা আল-মামুন জানান, জমিতে পানি না থাকায় আমন আবাদে বিলম্ব হচ্ছে। তবে সামনে চলছে পচা ভাদ্র মাস সেই হিসেবে বৃষ্টি হবে বলে আশা করা যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মহাসিন আলী জানান, চলতি আমন মৌসুমে কলারোয়াতে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। তীব্র খরার কারণে জমিতে পানি না থাকার কথা স্বীকার করে তিনি জানান, জুলাই এর শুরু থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত আমন রোপণের সময়। তবে আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী এই মাসের শেষের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বৃষ্টিপাত না হলে কৃষকদের বিকল্প উপায়ে সেচ দিয়ে জমিতে আমন রোপণের পরামর্শ দেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *