ঢাকাFriday , 21 June 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার সাতক্ষীরার মানুষের গলার কাটা

admin ঢাকা
আপডেট: 21 June 2019, 21:06

মাজহারুল ইসলাম: সাতক্ষীরায় বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটারে জনগণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন মানুষের অতিরিক্ত টাকা গুণতে হচ্ছে তেমনি পদে পদে হতে হচ্ছে হয়রান। এ মিটার শুরুতেই সাতক্ষীরার মানুষের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) সূত্র জানিয়েছে, সাতক্ষীরা ওজোপাডিকোর আওতায় ৩৫ হাজার গ্রাহক আছে। সাতক্ষীরায় চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার চালু করা হয়। ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) এ মিটার বসায়। শুরুতে গ্রাহকদের আগ্রহ সৃষ্টি করতে পুরনো মিটার অপসারণ করে নতুন মিটার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় লাগিয়ে দেয় ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ। এখন প্রতি কার্ড রিচার্জ করার সময় কেটে নেয়া হচ্ছে টু ফেইজ মিটারের ভাড়া হিসেবে ৪০ আর থ্রি ফেইজ মিটারের ভাড়া হিসেবে ২শ’ ৫০ টাকা। অন্যদিকে, প্রতি মাসে ৫০ টাকা ডিমান্ড চার্জও বাধ্যতামূলক দিতে হচ্ছে। তবে কত দিন এই টাকা কাটা হবে তার কোন উত্তর নেই সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ বিভাগের কোন কর্মকর্তার কাছে। লাগানো ফ্রি প্রি-পেইড মিটারে এখন মাসিক ভাড়া গুণতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলেন, আমাদের টাকায় কেনা ডিজিটাল মিটারটি বিদ্যুৎ বিভাগ খুলে দিয়েছে, আর ফ্রি মিটার দিচ্ছে বলে প্রি-পেইড মিটার লাগিয়ে দিয়েছে। তবে, এখন ভাড়া দিতে হবে কেন? বিদ্যুৎ অফিসে কোন শৃংখলা নেই, টাকা ছাড়া সেখানে কোন কাজ হয় না বলেও অনেকে অভিযোগ করেন।
শহরের ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা আজিজ সরদার জানান, পুরানো ডিজিটাল মিটার খুলে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের সময় কোনও মূল্য নেয়নি তবে, বকশিস হিসেবে দিতে হয় ২শ’ টাকা। এখন প্রতি মাসে রিচার্জের সময় মিটারের ভাড়া কেটে নেওয়া হচ্ছে। ডিমান্ড চার্জ নেওয়া হচ্ছে। অনিয়ম ও হয়রানি থেকে গ্রাহকদের রেহাই দিতেই চালু করা হয় বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার। কিন্তু সেই মিটার এখন আমাদের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন চার্জের নামে আমাদের কাছ থেকে কেটে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এ ছাড়া প্রি-পেইড মিটারের সার্ভার ত্রæটির কারণে টাকা রিচার্জ করতে গিয়ে প্রায়ই হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে আমাদের।
পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার বাসিন্দা বিমল ঘোষ বলেন, ‘এক হাজার টাকা রিচার্জ করলে শুরুতেই ২০০ টাকা কেটে নিচ্ছে। আগের তুলনায় বিল বেশি আসছে। ডিজিটাল মিটারে মাসে বিল আসতো ১২শ থেকে ১৪শ টাকা কিন্তু, এখন আগের থেকে কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এ মাসে প্রি-পেইড মিটারে ১৮শ টাকা রিচার্জ করেছিলাম তা ১৭ তারিখের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। আবার ৫শ টাকা রিচার্জ করেছি। শহরের কাটিয়া সরকারপাড়া এলাকার বাসিন্দা শেখ ফয়েজ আহম্মেদ জানান, এই মিটারে কোন সুবিধা তো পাচ্ছিই উল্টো টাকা যেন হওয়া হয়ে যাচ্ছে। মোবাইলের মত কেউ ব্যালেন্স ট্রান্সফার করছে কিনা সন্দেহ হচ্ছে। আমার বাড়িতে ১টা ফ্রিজ, ৬টা ফ্যান, ৫টা লাইট, ১টা টিভি এবং ১টা ছোট পানির মোটর চলে। গত বছর এই গরমের সময়ে আমার বিদ্যুৎ বিল আসতো ১৬শ’ থেকে ১৮শ’ কিন্তু, এবার প্রি-পেইড মিটার লাগানোর পর এই মাসে আমার ৩২শ’ টাকা খরচা হয়ে গেছে। আরো কতরকম ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে তা কাউকে বলে বোঝাতে পারবো না।
শহরের সুলতানপুর এলাকার শাহিন ইসলাম জানান, মিটার রিচার্জ করতে বিদ্যুৎ অফিসে গিয়েছিলাম। আমাকে ১২০ ডিজিটের একটি ¯িøপ ধরিয়ে দিয়ে বলা হয় এই ডিজিটগুলো মিটারে তুলতে হবে। ভুল হয়ে গেলে পুনরায় তুলতে হবে। বাড়ি এসে কয়েকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। এ বিষয়ে পুনরায় বিদ্যুৎ অফিসে গিয়েও সমাধান পাইনি। রিচার্জের বিষয়ে কেউ কথা বলতে চান না। সেখানে কোন কর্মকর্তা, উপ সহকারী প্রকৌশলীও দায়িত্ব নিচ্ছেন না। অন্য একজনকে কিছু টাকা দিয়ে বাড়িতে ডেকে এনে মিটারে টাকা রিচার্জ করা হয়েছে। প্রিপেইড মিটারে গ্রাহকদের হয়রানির আর একটি বিষয় মিটার লকিং ও লক ওপেনিং পদ্ধতি। নতুন পদ্ধতিতে কোন ধরনের ট্রেনিং ছাড়া প্রি-পেইড মিটার চালাতে গিয়ে গ্রাহকদের মিটার লক হয়ে যাচ্ছে, যা খুলতে দ্বারস্থ হতে হয় বিদ্যুৎ অফিসে এবং সাথে দিতে হয় অর্থদÐ। প্রতিবারে ১২’শ টাকা মাসুল গুণে খুলতে হয় লক। যদি কোন কারণে ছুটির দিন লক হয়ে যায়, তবে গ্রাহককে বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হয়।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান জানান, অনিয়ম ও হয়রানি থেকে গ্রাহকদের রেহাই দিতেই চালু করা হয় বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার। পদ্ধতি নতুন হওয়ায় গ্রাহকদের কিছু অসুবিধা হতে পারে। তবে আমরা গ্রাহকদের সকল ধরণের সহযোগিতা করছি। বর্তমান গ্রাহকসহ নতুন গ্রাহকদেরও প্রি পেইড মিটার স্থাপন করা হচ্ছে। তবে এ পর্যন্ত প্রায় ২৭ হাজার প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। আমাদের নির্ধারিত সময় এই জুন মাসের মধ্যেই শতভাগ প্রি-পেইড মিটার স্থাপন সম্পন্ন করবো। মিটার ভাড়া এবং ডিমান্ড চার্জ সম্পর্কে তিনি বলেন, ডিমান্ড চার্জ পূর্বে থেকেই ছিলো আগের বিদ্যুৎ বিল দেখলে সবাই বুঝতে পারবে এবং মিটার ভাড়ার বিষয়টা আমাদের না। মন্ত্রণালয় থেকে মিটারে যে সফটওয়্যার স্থাপন করে দিয়েছে সেটাই ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে মিটার ভাড়া সম্পর্কে আমি কোন তথ্য দিতে পারবো না। কারণ মন্ত্রণালয় আমাদের এই সম্পর্কে কোন তথ্য দেয়নি। মিটারের লক সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রি-পেইড মিটারে বিশেষ একটি স্ক্রু বা রিলে আছে যেটি সেন্সর সিস্টেম। আর যেটা খোলার কোন প্রয়োজন পড়ে না। ঐ স্ক্রুটা খুলতে গেলেই স্বাভাবিকভাবে মিটার লক হয়ে যায় এবং ১২শ’ টাকা জরিমানা প্রদান পূর্বক লক খুলে দেওয়ার নিয়ম আছে। তবে অনেকের বিনামূল্যে খুলে দেওয়া হয়েছে। রিবেট সম্পর্কে বলেন, মিটারের টাকা রিচার্জের সাথে সাথে রিবেটের টাকা ব্যালেন্সে যোগ হয়ে যায়, সেটা মোবাইলের ম্যাসেজ চেক করলেই রিবেটের টাকার পরিমাণ জানা যাবে। গ্রাহকদের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, মুষ্টিমেয় কিছু গ্রাহক আছে যারা সহজ বিষয়কে কঠিন করে দেখেন। অসংগতিপূর্ণ অভিযোগ এনে অপপ্রচার করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *