সাতক্ষীরায় জামের কেজি তিনশ পঞ্চাশ টাকা!
গ্রীষ্মকালের একটি জনপ্রিয় দেশি ফল কালো জাম। কালো জাম বিভিন্ন ধরণের পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ এবং স্বাস্থ্যের জন্যও অনেক উপকারী। এর রসালো স্বাদ সকলের খুব প্রিয়। ত্বক, চুল ও সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্যই উপকারী জাম। চিকিৎসকদের মতে, গ্রীষ্মকালের কালো জাম ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। কালো জাম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এতে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান যেমন- ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন সি থাকে। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে জাম অতুলনীয়ভাবে কাজ করে। এছাড়াও শরীরের হাড়কে শক্তিশালী করতেও সাহায্য করে কালো জাম। কালো জাম হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এতে এলাজিক এসিড বা এলাজিটেনিন্স, এন্থোসায়ানিন এবং এন্থোসায়ানিডিন্স থাকে যা প্রদাহরোধী হিসেবে কাজ করে। এ উপাদানগুলো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে বলে কোলেস্টেরলের জারণ রোধ করে এবং হৃদরোগ সৃষ্টিকারী প্লাক গঠনে বাধা দেয়। এছাড়াও হাইপারটেনশন প্রতিরোধেও সাহায্য করে কালো জাম। কালো জামে প্রচুর পটাসিয়াম থাকে। ১০০ গ্রাম কালো জামে ৫৫ গ্রাম পটাসিয়াম থাকে।
কালো জামের বহুরূপী উপকারিতা থাকলেও সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। সাতক্ষীরার বাজার ঘুরে দেখা গেছে গ্রীষ্মকালীন এই সুস্বাদু ফল কালো জামের বাজার বেশ চড়া। শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন স্থানে কালো জাম বেশ চড়া দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। শহরের পাকাপোল এলাকায় কালো জাম কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১শ’ ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৩শ’ ৫০ টাকা পর্যন্ত। তবে ক্রেতারা বলছেন, জাম গাছ শহরের বিভিন্ন রাস্তার পাশে ও গ্রামের সব জায়গায় পাওয়া যায়। তবে গাছ থেকে পাড়তে না পারায় অনেকে এটি কিনে থাকেন। কিন্তু এত দাম দিয়ে সবার পক্ষে কেনাটা অসম্ভব। বিদেশি ফলের দামও এর চাইতে কম। ফল বিক্রেতারা গ্রামের গাছ থেকে ৫ থেকে ১০ টাকা কেজিতে জাম পেড়ে এনে এত চড়া দামে বিক্রি করে রিতিমত প্রতারণা করছে।
তবে বিক্রেতারা বলেছেন, এই ফল গাছ থেকে খুব সাবধানে পাড়তে হয়। জাম কম দামে কিনলেও গাছে উঠে পাড়তে শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। তাছাড়া এটি বেশিক্ষণ রেখে দিলে পঁচন ধরে। এ জন্য একটু বেশি দামে না বিক্রি করলে আমাদের লাভ হয় না।

Leave a Reply