ঢাকাFriday , 14 June 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

গরম আর গরম! অতীষ্ঠ সাতক্ষীরার জনজীবন

admin ঢাকা
আপডেট: 14 June 2019, 20:52

গরম আর গরম! সকাল, দুপুর, রাত কোন সময়েই যেন কাটছে না গরমের তীব্রতা। এই তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে জনজীবন। তীব্র রোদ্রের পর আকাশে বিক্ষিপ্ত মেঘের আনাগোনা থাকলেও প্রত্যাশিত বৃষ্টি হচ্ছে না। নেই বাতাসও। তীব্র রৌদ্রের কিরণের পর আকাশ মেঘলা হবার কারণে গরমের তীব্রতা যেন আরো বেড়ে যাচ্ছে। ঘরের বৈদ্যুতিক পাখার বাতাসও অসহ্য। বৈদ্যুতিক পাখার বাতাসের সাথে সাথে কেউ যেন আগুনের তাপ দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। সকাল ১০টার পর বাইরের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। রোদে খোলা আকাশের নিচ দিয়ে হাঁটলে ঘামে শরীর ভিজে একাকার হয়ে যাচ্ছে। শুধু দিনের বেলাতেই নয়, রাতেও গরমে মানুষ ঘুমাতে পারছে না। তীব্র গরমের কারণে সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছে হতদরিদ্র, দিনমজুর, শিশু ও বয়স্করা। গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারা। এই প্রচন্ড গরম থেকে বাদ পড়ছে না পশু-পাখিরাও।
শুক্রবার (১৪জুন) সকাল ১০.৫৫ মিনিটে সাতক্ষীরার তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দুপুর হতে না হতেই সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বিকাল ৪ টার দিকে একটু ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হওয়ায় সাতক্ষীরার মানুষ ভেবেছিল স্বস্তির বৃষ্টি বুঝি এবার নামবে। কিন্তু না, বৃষ্টিতো হলোই না বরং মেঘাচ্ছন্ন্ আকাশের কারণে গরমের তীব্রতা আরো বেড়ে গেল।
সাতক্ষীরা নিউমার্কেট এলাকার ভ্যানচালক স্বপন কুমার বলেন, প্রচÐ গরমে ভ্যান চালাতে পারছি না। আজ সরকারি ছুটির দিন। ভেবেছিলাম আজ একটু বেশি ইনকাম হবে। তবে তীব্র গরমে মানুষ বাইরে কম বের হচ্ছে। আমিও ভাবছি তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে যাবো। গরমে যদি জীবন না বাঁচে তবে টাকা কি করবো?
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র হাফিজুর রহমান বলেন, আমি মেসে থাকি। টিন দিয়ে আমাদের মেসের ছাউনি দেওয়া। আমার পরীক্ষা সামনে। রাতে কিংবা দিনে প্রচÐ গরমে লেখাপড়া করা খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে। গরমে রাতে ঠিকমতো ঘুমানোও যাচ্ছে না।
সাতক্ষীরা জর্জকোট এলাকার ফ্যানের দোকানদার আমিনুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন গরমের তীব্রতার কারণে বৈদ্যুতিক ফ্যানের চাহিদা বেড়েছে। অনেকেই ফ্যান কিনতে আমার দোকানে আসছে।
এদিকে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাতক্ষীরার রাজ্জাক পার্ক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গাছের ছায়ায় ভ্যান চালক, দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষেরা সামান্য স্বস্তির আশায় বসে আছে। তারা কেউ কেউ গায়ের জামা খুলে শক্ত কাগজ দিয়ে নিজের শরীরে বাতাস করছে। আবার কেউ কেউ গামছা পড়ে গোছল করছে পৌর দীঘিতে। অধিক তাপমাত্রায় বাড়ছে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তীব্র গরমের কারণেই সারা দেশের বিভিন্নস্থানে পানিবাহিত রোগ ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া কার্যালয়ের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ও তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় গরম বেশি লাগছে। আষাঢ় শুরু হলেও কাঙ্খিত বৃষ্টি আসতে সপ্তাহখানেক অপেক্ষা করতে হবে। তবে দু’একদিনের মধ্যে কম-বেশি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *