মুসল্লিদের জামায়াত সাজিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ: দেবহাটায় সংবাদ সম্মেলন
দেবহাটা প্রতিনিধি: তারাবির নামাজের গোলযোগ নিয়ে মুসল্লিদের জামায়াত সাজিয়ে হয়রানি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মলেন করেছেন সখিপুর ইউপির সাবেক সদস্য ও উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক রোকনুজ্জামান মিঠু। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় দেবহাটা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় লিখিত বক্তব্যে রোকনুজ্জামান মিঠু বলেন, আমি সখিপুর ইউনিয়নের সদস্য ছিলাম। ২০০২ সালে জীবিকা নির্বাহ করার জন্য বিদেশ চলে যাই। হার্টের সমস্যাজনিত কারণে ২০১৪ সালের শেষের দিকে আমি দেশে ফিরে আসি। এরপর থেকে আমি সক্রিয়ভাবে জাতীয় পার্টি করছি। বর্তমানে আমি উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আছি। আমার একমাত্র ছেলে পুলিশে কর্মরত। আমি অসুস্থ হওয়ার পর খুলনাতে তার বাসায় থেকে চিকিৎসা নিয়েছিলাম। কয়েক বছর পর ছেলে ঢাকাতে বদলী হলে আমি নিজ বাড়িতে ফিরে আসি। শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে ঢাকাতে গিয়ে আমি চিকিৎসা নিই। গত রমজানে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবু রায়হান তিতু, সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মুসাজি লিটন তারাবির নামাজ ৮ রাকাত পড়ার জন্য নির্দেশ করেন। তখন উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে বাক-বিতন্ডা শুরু হয়। মুসল্লিবৃন্দ ২০ রাকাত নামাজ পড়ার জন্য তাদের নির্দেশের প্রতিবাদ করতে থাকলে সম্পাদক ইমামের কাছ থেকে মাইক কেড়ে নিয়ে নিজেই সমবেত মুসল্লিদেরকে ৮ রাকাত নামাজ পড়ার জন্য আবারও জোরালো নির্দেশ দেন। তবে কোন মুসল্লি তখন ৮ রাকাত নামাজ পড়তে রাজি হননি। এরপর সভাপতি নিজেই উঠে বলেন যে তারাবির নামাজ প্রতিদিন ৮ রাকাত হবে ঘোষণা দেন। সর্বশেষ, সমবেত মুসল্লিবৃন্দ ২০ রাকাত নামাজ পড়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। পরবর্তীতে সভাপতি ও সম্পাদক মুসল্লিদেরকে নানাভাবে হুমকি ধামকি দিতে থাকেন। এ পর্যায়ে আমরা গত ১২ মে ১৫/২০ জন মুসল্লি উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গণিকে বিষয়টি জানাই। তখন তিনি আমাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেন। এরপর থেকে ওই দুইজন আমাদের অন্যায়ভাবে দমনপীড়ন করার জন্য বিভিন্নভাবে পাঁয়তারা করতে থাকে। এরপর গত ১২ জুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও দেবহাটা থানায় আমাদের বিরুদ্ধে মনগড়া লিখিত অভিযোগ করেন। পরে কয়েকজন সংবাদকর্মী দিয়ে হয়রানিমূলক সংবাদ প্রকাশ করে আমাদের দোষী প্রমাণিত করার অপচেষ্টা করেন। আমিসহ কয়েকজন মুসল্লিকে তারা জামায়াত নেতা ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মদদদাতা হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায়। আমরা কোনদিন জামায়াত করিনি। আমরা নিতান্তই গ্রামের সহজ সরল মানুষ। আমরা নিরুপায় হয়ে মিথ্যা অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে পারি সেজন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন নুর মোহাম্মাদ, নুরুল আমিন, আব্দুল লতিফ প্রমুখ।

Leave a Reply