শ্যামনগরে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সুরক্ষায় ইউপি চেয়ারম্যানদের সংবাদ সম্মেলন
শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সুরক্ষায় ইউনিয়ন পরিষদের অংশীদারিত্ব এবং ভাঙনে বিপন্ন জনগোষ্ঠীকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৯ মে) উপজেলার জলবায়ু পরিষদ কার্যালয়ে ১২টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সমবেতভাবে এই সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অ্যাড. এসএম আতাউর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় হয়, বেড়িবাঁধ সংস্কার, নদী ভাঙন ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় তাৎক্ষণিকভাবে কাজ করতে হয় ইউনিয়ন পরিষদকে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের এ খাতে কোনো বরাদ্দ বা ম্যান্ডেট নেই। স্থানীয়ভাবে দুর্যোগ মোকাবেলা ও বিপন্ন জনগোষ্ঠীকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেয়ার জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নদীভাঙন, বেড়িবাঁধ ভাঙন, লবণাক্ততা, সুপেয় পানির সংকট এ উপজেলার মানুষের জীবন-জীবিকাকে পর্যদস্তু করছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে শ্যামনগরের মতো উপকূলীয় অঞ্চল হারিয়ে যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে গত দশ বছরে শ্যামনগরে সিডর আইলাসহ ১০টি বড় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, আগামী দিনগুলোতে এর সংখ্যা বাড়বে এবং প্রভাব তীব্র হবে। নদীভাঙনের ফলে এ উপজেলার পদ্মপুকুর, আঁটুলিয়া, গাবুরা, মুন্সিগঞ্জ, বুড়িগোয়ালিনি ইউনিয়নে মাইগ্রেশনের সংখ্যাও বেশি।
কাশিমাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম আব্দুর রউফ বলেন, লবণাক্ততা এই উপজেলার অন্যতম প্রধান অভিঘাত। শ্যামনগর উপজেলার সমুদ্র উপকূলবর্তী এবং নদীগুলো লোনা পানির। ১২৬টি খাল নদী থেকে কৃষি জমি বা চিংড়ি ঘেরে লোনা পানি আনা ও বের করে দেওয়ার কাজে ব্যব্হার করা হয়। কিন্তু বর্তমানে খালগুলো অবৈধ দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে চিংড়ি চাষের এলাকা নির্দিষ্ট করা ও লবণপানির খালগুলোকে দখলমুক্ত করে খনন করা, সুপেয় পানি সংকট নিরসনে আরও পদ্ধতিতে পানির প্লান্ট, পারিবারিক পানির ড্রাম ও প্লান্ট স্থাপন, রেইনওয়াটার হারভেস্টটিং প্লান্ট স্থাপন করা, পারিবারিক পুকুর খনন করে মিষ্টি পানি ধরে রাখা, মাইগ্রেশন ও পাচার রোধে সরকারি সুযোগ সুবিধা বাড়ানো (ভিজিএফ, ভিজিডি) বাড়ানো, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি ও প্রান্তিক যুব নারী ও শিশুদের যাতায়াতের রাস্তাগুলো সংস্কার করা, সাইক্লোন শেল্টারের সাথে দূরত্ব কমিয়ে আনাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল, আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু, কৈখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম, ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অ্যাড. জিএম শোকর আলী, রমজাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আল মামুন, শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান বেবী নাজনীন।
পরে, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রেরণ করা হয়।

Leave a Reply