ঢাকাWednesday , 29 May 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

ঈদে পোশাকে বৈচিত্র্য আনতে জুতার কদর বাড়ছে

admin ঢাকা
আপডেট: 29 May 2019, 22:07

আরিফুল ইসলাম রোহিত: ঈদ বাজারে সবাই এমন একটি পোশাক বেছে নিচ্ছে যা উৎসবের দিনে নিমিষেই নজর কেড়ে নেবে অন্যদের। তবে নতুন জুতা সেই ক্ষেত্রে আনবে আলাদা বৈচিত্র্য। আর তাই ঈদের আনন্দ যেন নতুন পোশাকেই শুধু নয়, আছে জুতায়ও। রোজার ঈদকে ঘিরে বেশ আগে থেকেই শুরু হয় ঈদের পোশাক পরিকল্পনা। আর তার সাথে ম্যাচিং করে জুতাও কেনেন কেউ কেউ। সাতক্ষীরার ঈদের বাজারে জুতার দোকানগুলোতে যেন তারই প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।
সাতক্ষীরা শহরের চায়না বাংলা শপিং কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বিপণী-বিতানগুলো ঘুরে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষ্যে পোশাক আর বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসের পাশাপাশি জুতার দোকানেও ক্রেতাদের ভীড় উপচে পড়ছে। বিভিন্ন বয়সী ক্রেতারা নিজেদের পছন্দের আর পায়ের মাপ অনুযায়ী কিনছেন রং-বে-রঙের জুতা। ঈদ উপলক্ষ্যে সাঁজ-গোজে আলাদা বৈচিত্র্য আনতেই ক্রেতারা নতুন জুতা কিনছেন।
এদিকে, পছন্দের জুতা কিনতে বারবার পায়ে পরিয়ে পরীক্ষা করে নিচ্ছেন ক্রেতারা। তবে প্রচ- রোদ আর অসহনীয় যানজট উপেক্ষা করে ঈদ বাজারে আসা ক্রেতাদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। মধ্য রমজান থেকেই জমে ওঠা ঈদ বাজারে ক্রেতাদের ভীড় সামলাতে দোকানে নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত বিক্রয়কর্মী। জুতার দোকানগুলোতে অতিরিক্ত বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দিয়ে বেশি বিক্রয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন, সকল ধরণের জুতার দাম যেন একটু বাড়িয়েই বিক্রি করা হচ্ছে।
রহিমা পারভীন ছেলে তালহাকে সাথে নিয়ে এসেছেন জুতার দোকানে। ছেলের পছন্দ চটি জুতা। একের পর এক জুতা দেখানোর পর তালহা পোশাকের সাথে মিলিয়ে জুতা পছন্দ করলো। রহিমা পারভীন জানালেন, ছেলের পছন্দ অনুযায়ী জুতা কিনতে পেরে খুবই খুশি তিনি। কিন্তু রোদের কারণে একের পর এক জুতার দোকানে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়তে হচ্ছে।
ক্রেতারা বলছেন, ঈদে পোশাক আর অন্যান্য জিনিসের মতোই জুতার একটু আলাদা কদর রয়েছে। পোশাকের সাথে মিলিয়ে পরিধানের জন্যই এর বাড়তি কদর।
মেয়েদের ক্ষেত্রে ফ্লাট স্যান্ডেল পছন্দের হলেও কেউ কেউ আবার উঁচু জুতাই বেশি পছন্দ করেন। পছন্দের জামা-কাপড়ের সাথে মিল রেখে জুতা কেনার মাধ্যমে আভিজাত্য ফুঁটে ওঠে। প্রিয়জনের সাথে মিল রেখেও জুতা ক্রয় করছেন ক্রেতারা। ধনী, গরীব কিংবা মধ্যবিত্ত সকলেই চেষ্টা করছেন ঈদের দিনটাকে আনন্দে উদযাপন করতে। আর সেজন্যই বারবার পায়ের মাপের সাথে মিলিয়ে সেরা জুতাটাই কিনতে চেষ্টা করছেন ক্রেতারা। এপেক্স, বাটা, স¤্রাট, লিবার্টি, লোটো, মোহনা, নিপুণসহ সাতক্ষীরার বিভিন্ন জুতার দোকানে ক্রেতাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
জানা গেছে, ছোটদের জুতা ধরণ ভেদে ১৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত এবং বড়দের তিনশ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রয় করা হচ্ছে। এছাড়া ফুটপাতে অস্থায়ীভাবে বিক্রি করা হচ্ছে স্বল্প মূল্যের জুতা। তার চাহিদাও কম নয়।
জুতা কিনতে আসা মর্জিনা বেগম বলেন, দাম যাই হোক না কেন একটু টেকসই জুতার খোঁজে সবগুলো দোকান একের পর এক ঘুরছি। প্রতিবছরই তো সব একই ধরণের ডিজাইনের জুতা আনা হচ্ছে। নতুন মডেলের জুতা আনা হলে ক্রেতার আকর্ষণ আরও বাড়তো।
বাটা শোরুমের বিক্রয়কর্মী আব্দুস সাত্তার জানান, মহিলা এবং বাচ্চাদের জুতার পাশাপাশি বয়স্কদের জুতাও বেশ বিক্রয় হচ্ছে। তবে রমজানের একেবারে শেষ দিকে ক্রেতার উপস্থিতি বেশি হবে বলে আশা করেন তিনি।
এদিকে, ছোটদের বিভিন্ন ডিজাইনের জুতা সাঁজিয়ে রাখা হয়েছে স্টলে। আছে নানা রকমের বাহারি রঙের জুতাও। ক্রেতারা এক দোকান থেকে আরেক দোকান ঘুরে কিনছেন জুতা। কোথাও কোথাও দোকানের বাইরে মিনি স্টল দিয়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে জুতা। কোথাও আবার জুতার উপরে বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। যাতে ক্রেতারা সুলভে জুতা কিনতে করতে পারেন। অতিরিক্ত বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দিয়ে ক্রেতা টানার চেষ্টা করছেন বেশিরভাগ বিক্রেতারা।
লিবার্টি এর বিক্রয়কর্মী আমিনুর রহমান বলেন, আমাদের পণ্যের চাহিদা বেশি। ক্রেতারা তাদের পায়ের সাথে মিলিয়ে কিনছেন নানারকমের জুতা। কেউ কেউ আবার পোশাকের সাথে মিলিয়ে কেনার চেষ্টাও করছেন।
ছয় বছরের রাহাত নিজের পায়ের মাপে পছন্দের জুতা কিনে বেজায় খুঁশি। নতুন জুতা নিয়ে ঈদের আনন্দ যেন সে এখনই পেতে শুরু করেছে।
স¤্রাট সুজ এর সত্ত্বাধিকারী মইনুল হক জানান, দোকানে ক্রেতা সাধারণের চাহিদার কথা মাথায় রেখে পর্যাপ্ত জুতা আনা হয়েছে। বেশ ভালো বিক্রয়ও হচ্ছে। সব বয়সের ক্রেতারা আসছেন। তবে এখন বাচ্চা এবং মহিলা ক্রেতার সংখ্যাই বেশি। এসব ক্রেতারা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পছন্দের জুতা কিনছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *