ঢাকাFriday , 24 May 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস : মিলে গেছে হুবহু, ২১ জনের কারাদণ্ড

admin ঢাকা
আপডেট: 24 May 2019, 21:40

এসএম নাহিদ হাসান/আবুল কাশেম: কলারোয়ায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ২৯ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরা। শুক্রবার (২৫ মে) সকালে কলারোয়া থানার পার্শ্বাবর্তী সোনালী সুপার মার্কেট ভবনের কীডস ক্লাব কোচিং সেন্টার থেকে ফাঁসকৃত প্রশ্নপত্রের উত্তর ঠিক করার কাজে নিয়োজিত অবস্থায় পরীক্ষার্থী ও প্রশ্ন ফাঁস চক্রের এসব সদস্যকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে আটক ২৯ জনের মধ্যে ২১জনকে দুই বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাকী ৮জন অভিভাবক হওয়ায় তাদের সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
উদ্বেগের বিষয়, ফাঁসকৃত প্রশ্নের সাথে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া গেছে।
র‌্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণেচ্ছুরা জড়ো হয় কলারোয়া উপজেলা সদরের সোনালী সুপার মার্কেট ভবনের কীডস ক্লাব কোচিং সেন্টারে। তারা সেখানে রাত্রিযাপন করে। রাতভর এবং সকালে মোবাইল ফোনে তাদের কাছে আসা প্রশ্নপত্র ব্লাকবোর্ডে লিখে সাথে সাথে তার উত্তরও নির্দেশ করতে থাকে এই চক্রের হোতারা। এসময় অংশগ্রহণেচ্ছুরা তা শিখে নিতে থাকেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এমন খবর পেয়ে র‌্যাব সদস্যরা ভবনটি ঘিরে ফেলে। সেখান থেকে প্রথমে ২২ জন পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আরও ৭ জনসহ ২৯ জনকে আটক করা হয়।
র‌্যাব আরও জানায়, তারা জানতে পেরেছেন যে ঢাকায় বসে একটি প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্র ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে তাদের কাছে মোবাইল ফোনে প্রশ্ন ও তার উত্তর বলে দেয়। এসব প্রশ্ন ও উত্তর ব্লাকবোর্ডে লিখে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। এজন্য সিন্ডিকেটের হাতে প্রত্যেককে অগ্রিম পাঁচ লাখ টাকা দিতে হয়েছে। বাকি টাকা পরীক্ষা শেষে দেওয়ার কথা ছিল।
এদিকে, কলারোয়া থেকে আটক প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ২৯ জনের মধ্যে ২১জনকে দুই বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাকী আটজন অভিভাবক হওয়ায় তাদের সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ মে) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের এই দণ্ড দেন।
দণ্ড প্রাপ্তরা হলেন, কুষ্টিয়ার পরানখালী গ্রামের আব্দুল হালিম (৩৯), সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জাপাঘাটের আফতাবুজ্জামান (৩৫), একই গ্রামের আমিরুল ইসলাম (৩৫), আশাশুনির চেউটিয়া গ্রামের মনিরুল ইসলাম (৩৫) ও কাকবাসিয়া গ্রামের তরিকুল ইসলাম (৩৫), কুন্দড়িয়া গ্রামের সুমেন্দ্র ঘোষ (৩০), শ্যামনগরের গোবিন্দপুর গ্রামের হাফিজুর রহমান, একই গ্রামের আব্দুল হালিম (২৩), হুমায়ুন কবীর (২৭), আশাশুনির লাউতাড়া গ্রামের সন্নাসী কুমার সরকার (২৮), কাকবাসিয়া গ্রামের রিয়াছাদ আলী (২৯), চেউটিয়ার দিদারুল ইসলাম (৩০), সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাছিমপুরের বিশ্বজিৎ ঘোষ (৩০), আশাশুনিন প্রতাপনগরের সাইফুল্লাহ (২৯), শ্যামনগরের গোবিন্দপুরের সানজিদা বকুল (১৯), আশাশুনির মহিষকুড়ের নাজমুন নাহার (২৯), কল্যাণপুর গ্রামের রাবেয়া (২৫), চেউটিয়া গ্রামের সেলিনা খাতুন (২৬), তুয়ারডাঙ্গার তানিয়া সুলতানা (২৬) ও গোকুলনগরের সুমাইয়া খাতুন (২২) ও সদর উপজেলার রসুলপুরের মুস্তারিয়া (২১)।
পরে শুক্রবার (২৪ মে) দুপুরে র‌্যাব-৬ এর সাতক্ষীরা ক্যাম্পে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ মো. নুরুসসালেহীন ইউসুফ।
এ সময় তিনি বলেন, কুষ্টিয়ার পরানখালী গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম (৩৯), কলারোয়ার কীডস ক্লাব কোচিং সেন্টারের পরিচালক ও জনতা ব্যাংক সেনেরগাতি শাখার ম্যানেজার আফতাবুজ্জামান (৩৫), কৃষি ব্যাংক কলারোয়া শাখার অফিসার মনিরুল ইসলাম, রামচন্দ্রপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমিরুল ইসলাম ও আশাশুনির রইচউদ্দিনের ছেলে স্কুল শিক্ষক তরিকুল ইসলাম এই প্রশ্ন ফাঁস চক্রের মূল হোতা।

তাদের কাছে প্রাপ্ত প্রশ্ন ও শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হুবহু মিলে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *