কাশিমাড়ী প্রতিনিধি: পতিত জমিতে লবণ সহিষ্ণু বৃক্ষরোপণ করে সফলতা পেয়েছেন শ্যামনগরের এভারগ্রীণ যুব সংঘের সদস্যরা। সংঘের এমন ব্যতিক্রম উদ্যোগে বৃক্ষরোপণে সফলতা এসেছে বলে স্থানীয়দের অভিমত। তবে সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে এমন কাজ আরও বড় পরিসরে করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা।
শ্যামনগরের পূর্ব গোবিন্দপুর এভারগ্রীণ যুব সংঘের সভাপতি জিএম হুমায়ন কবীর হিমু জানান, লবণাক্ত এলাকায় আমরা ক্লাবের ক’জন সদস্য মিলে ২০১৭ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে পরীক্ষামূলকভাবে ৪৫টি কদবেল গাছ, ২২টি তেতুল, ২৬০টি বাতাবী লেবু গাছ ও ১৫টি নিম গাছ রোপণ করি। মিষ্টি পানির তীব্র সংকট থাকার পরও দূরদূরান্ত থেকে ক্লাবের সদস্যরা পানি এনে গাছ গুলোকে পরিচর্যা করে। এজন্য সমুদয় খরচ সংগঠন থেকেই বহন করে আসছি।
এরপর চলতি মৌসুমে প্রায় দেড় বছর বয়সী ৮-১০টি কদবেল গাছে ফুল এসেছে। এমন খুশির খবরে ক্লাবের সদস্যসহ এলাকাবাসী বিস্মিত হয়েছে। তাইতো এই মনোরম পরিবেশের জায়গাটিকে ক্লাবের সদস্যরা এভারগ্রীণ লেকভিউ নামে নামকরণ করেছে। তিনি আরও জানান, চলতি বছরের শুরুর দিকে শ্যামনগর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস এলাকাবাসী ও গাছগুলোর জন্য একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করেছে। তবে এই গভীর নলকূপ থেকে এলাকাবাসী সুবিধা পেলেও পাচ্ছে না এই মনোরোম পরিবেশ সৃষ্টিকারী গাছগুলো। যদি গভীর নলকূপ থেকে পানি উত্তোলনের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা পেতাম তাহলে গাছগুলোর মিষ্টি পানির সংকট কমে যেত এবং একই সাথে এলাকাবাসীর সুপেয় পানির একটা ব্যবস্থা হতো অনেকাংশে।
ক্লাবের সদস্য রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা এলাকায় সামাজিক বনায়নের অংশ হিসেবে ১০০০টি বজ্র নিরোধক তালগাছ, ৫০০টি কেওড়া, ৫০০টি গোলপাতা গাছ ও ২০০টি নিম গাছ চলতি মৌসুমেই রোপণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য পতিত জমিতে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সামাজিক বনায়ন করা। তবে আর্থিক এবং পরামর্শমূলক কোন সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যেকে আরও বৃহৎ পরিসরে রূপ দিতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম মোল্যা জানান, ক্লাবের সদস্যরা আমাদের সন্তান। তারা এমন সুন্দর কাজ করবে এটা আসলে আমরা ভাবতেই পারিনি। তাদের কাজে আমরা অনুপ্রেরণা দেব, যাতে আমাদের এলাকার উন্নয়নে তারা এমন কাজের মাধ্যমে অংশ নিতে পারে। ক্লাবের সদস্যরা আরও বলেন, বিভিন্ন ক্লাবের বিভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকে। তবে আমাদেরটা একটু ব্যতিক্রম। আমরা প্রথমত এলাকায় পতিত জমিতে সামাজিক বনায়ন তৈরি করব, এর পাশাপাশি বেকার যুবকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করে কর্মঠ ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলবো, বাল্য বিবাহ নির্মূল ও কুসংস্কার দূর করব, গরীব ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা হিসেবে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, নারী পুরুষের সম অধিকার চর্চা করা করা, চলাচলের রাস্তা সংস্কার, শীতকালে শীত বস্ত্র বিতরণ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, প্রবীণ প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিয়ে কাজ করবো।
