না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন আশাশুনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কুল্যা ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির শোক
সমীর রায়, আশাশুনি: সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে টানা সাত দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন আশাশুনি উপজেলা বিএনপি’র প্রবাদ প্রতিম সভাপতি, ৩নং কুল্যা ইউনিয়ন পরিষদের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান এসএম রফিকুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (২১ মে) বিকাল ৫টার দিকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মৃত্যুর বিষয়টি তার ভাগ্নে সাংবাদিক আব্দুস সামাদ বাচ্চু নিশ্চিত করেছেন।
এসএম রফিকুল ইসলাম কচুয়া গ্রামের মোসলেউদ্দীন সরদারের ছেলে।
প্রসঙ্গত, চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম গত বুধবার (১৫ মে) কালিগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে চাম্পাফুল কালিবাড়ী বাজারের দীঘিরপাড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হন। ওইদিনই তাকে আশাশুনি হাসপাতালে ভর্তির পর সাতক্ষীরার ফারজানা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিবি হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শুক্রবার (১৭ মে) রাতে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স যোগে তাকে ঢাকায় ইবনেসিনা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (২১ মে) বিকাল ৫টায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। রাতেই তার মরদেহ ঢাকা থেকে সাতক্ষীরায় আনার ব্যবস্থা করা হয়। বুধবার (২২ মে) যে কোন সময় মরহুমের নামাজে জানাযা শেষে কুল্যার কচুয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে ২ মেয়েসহ বহু গুণগ্রাহী, সহযোদ্ধা, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন। অত্যন্ত সদালাপী, সুবক্তা ও কর্মীবান্ধব রফিকুল ইসলাম জীবদ্দশায় দীর্ঘদিন যাবত জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন এবং ৩নং কুল্যা ইউনিয়ন পরিষদের চারবার নির্বাচিত তুমুল জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর শুনে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সাতক্ষীরা জেলা শাখার সহ-সভাপতি ও আশাশুনি উপজেলা শাখার সভাপতি এবং কুল্যা ইউনিয়ন পরিষদের চার চারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান এস এম রফিকুল ইসলামের অকাল মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কেন্দ্রীয় সদস্য যথাক্রমে কাজী আলাউদ্দিন, ডা. শহীদুল আলম, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহবায়ক রাহমাতউল্লাহ পলাশ, যুগ্ম আহবায়কবৃন্দ যথাক্রমে কামরুল ইসলাম ফারুক, সৈয়েদ ইফতেখার আলী, আব্দুল আলিম, আব্দুর রউফ, তারিকুল হাসান, এম এ জলিলসহ জেলা বিএনপির নেতা হাবিবুর রহমান হবি, অধ্যাপক মোদাচ্ছেরুল হক হুদা, সিরাজুল ইসলাম বাবু, শের আলী, তাজকিন আহমেদ চিশতী, বরুণ বিশ^াস, আবুল হোসেন, তোজাম্মেল হোসেন, আবু জাহিদ ডাবলু, আব্দুস সামাদ, মাছুম বিল্লাহ শাহীন, আবুল হাসান হাদী, সোহেল আহমেদ মানিক, কামরুজ্জামান ভুট্ট, এখলেছার আলী বাচ্চু, রফিকুল আলম বাবু, আইনুল ইসলাম নান্টা, ইউসুফ আলী, আসিফুর রহমান তুহিন, হাসান শাহারিয়ার রিপন, এবিএম সেলিম, আনারুল ইসলাম, এস এম আকবর হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক শিকদার, আকবর আলী, কাজী কবির আহমেদ, হোসনেয়ারা আহমেদ, ফরিদা আক্তার বিউটি, হাফিজুর রহমান মুকুল, আলী শাহীন, সানাউল্লাহ সানা, শফিকুল আলম বাবু কাউন্সিলর, আব্দুল মুজিদ চেয়ারম্যান, লুৎফর চেয়ারম্যান, সমুন রহমান, শাহাজান মেম্বর প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ শোকবার্তায় বলেন, রফিক চেয়ারম্যানের অকাল প্রয়াণে আশাশুনি উপজেলাসহ সাতক্ষীরা অঞ্চলের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অপূরণীয় ক্ষতি হল, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তার মত একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদের শূন্যস্থান পূরণ হওয়া বিএনপির রাজনীতিতে দূরহ ব্যাপার বলে আমরা মনে করি।

Leave a Reply