কলারোয়ায় সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন চারশ বিঘা জমি দখলের অভিযোগ
কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় সরকারি খাল ও কৃষকের ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় চারশ বিঘা জমি দখল করে মাছের ঘের করার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অর্ধশত কৃষক।
সূত্রে জানা গেছে, কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া গ্রামে সরকারি খাল ও কৃষকের ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় চারশ বিঘা জমি দখল করে মাছের ঘের করেছেন যশোর পৌর এলাকার আব্দুল হালিম রোডের বাসিন্দা মৃত মোহাসিন মোল্যার ছেলে ফেরদৌস আহম্মেদ বাবু।
সম্প্রতি ওইসব জমির ধান কাটা শেষ হলে প্রভাবশালীদের সহায়তায় ফেরদৌস আহম্মেদ বাবু কৃষকের (পদ্মের বিল) ওই জমিতে ৫-৬ টি শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি উত্তোলন শুরু করে মাছ ছেড়ে দিচ্ছেন। গত এক মাস আগে তিনি পদ্মের বিল ও দেয়াড়া ইউনিয়নের পানি নিষ্কাশনের এক মাত্র খালটিও দখল করে নেন। আর ঘেরে পানি ধরে রাখার জন্য খালের উপর নির্মিত স্লুইস গেটের মুখে মাটি ভরাট করে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে এলাকার কৃষকরা জানান, ফেরদৌস আহম্মেদ বাবু ঘের করার নামে বিলের প্রায় চারশ বিঘা ডাঙ্গা ও বিলান জমিতে পানি উত্তোলন করছেন। জমির মালিকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মাছের ঘের করলে এলাকার তিন ফসলী জমিগুলো আবাদ অযোগ্য হয়ে পড়বে। এলাকার দরিদ্র হাজারো মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। ধান, পাট ও সবজি এখানে চাষ করা হলেও এখন আর কিছুই হবে না। আর তাই গত ৯ মে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
এবিষয়ে ফেরদৌস আহম্মেদ বাবু জানান, তিনি চেয়ারম্যান মুকুল হেসেনের ডিড ভাড়া নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছেন। এর আগে তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী মতিয়ার রহমান ও মেহেদী হাসানের সম্মতি নিয়েছেন। এখন কৃষকরা না চাইলে তিনি ঘের করা ছেড়ে দেবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরএম সেলিম শাহনেওয়াজ জানান, বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply