ডেস্ক রিপোর্ট: পান সিগারেট বিক্রেতা, জুতা সেলাইকারী, সুইপার, সেলুন কর্মচারীদের নিয়ে তৈরি ভোটার তালিকায় কখনও গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। এ কারণে আজ শনিবার অনুষ্ঠেয় সাতক্ষীরা জেলা বাস মিনিবাস কোচ শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ২২জন প্রার্থী। শুক্রবার বিকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান ইউনিয়নের সভাপতি পদপ্রার্থী শেখ রবিউল ইসলাম রবি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী কাজী আক্তারুজ্জামান মহব্বত।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভুয়া ভোটার নিয়ে আমরা ভোট করতে রাজি নই জানিয়ে গত ৬ মে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলাম। সাথে সাথে অবৈধ নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করেছিলাম এবং নির্বাচন বন্ধের দাবি নিয়ে গত কয়েকদিন যাবত নানা কমৃসূচি পালন করে আসছি। গত ৯ মে বিক্ষোভ মিছিল শেষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে আমরা সংক্ষুব্ধ। তা সত্ত্বেও আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আইন শৃংখলা ভঙ্গের কোনো চেষ্টা করিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, শ্রমিক ইউনিয়নের কাজী মনিরুজ্জামান ও জাহিদুর রহমান নেতৃত্বাধীন বর্তমান নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুরসহ বিভিন্ন মামলার আসামি হলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। প্রার্থী মোজাম, ফারুক ও নাজমুলের বিরুদ্ধে রয়েছে গাছকাটা মামলা। এমন কি তারা পুলিশের সামনে লাটিসোটা নিয়ে বাস টার্মিনালে আস্ফালন করছে। আবার তারাই ভুয়া নির্বাচন করার লোভে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। আমরা এ নির্বাচন মানি না। আমরা এ নির্বাচন হতে দিতে পারি না। এই লক্ষ্যে শনিবার ভোর ৬টা থেকে কাফনের কাপড় মাথায় নিয়ে জেলার সকল সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবো। পরিবহন শ্রমিকরা আমাদের সমর্থনে আজ বাস চালাবেন না।
তারা আরও বলেন, কথিত নির্বাচন কমিশনার অ্যাড. আবদুল লতিফ তার পছন্দের একটি পরিষদকে যে কোনোভাবেই হোক বিজয়ী করার ঘোষণা দিয়েছেন। এমন মন্তব্যকারীর হাতে নিরপেক্ষ ভোট হতে পারে না বলে উল্লেখ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, ভোটার তালিকায় রয়েছে ২৫৩৭ জনের নাম। তাদের মধ্যে ৭০০ থেকে ৮০০ জন অশ্রমিক। এসব যাচাই বাছাই করে অশ্রমিকদের বের করে দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শেখ রবিউল ইসলাম রবি ও কাজী আক্তারুজ্জামান মহব্বতসহ আরও উপস্থিত ছিলেন মো. আরশাদ আলি, শেখ মাকছুদুর আলি, নজরুল ইসলাম, আবদুস সালাম, টিটু, শওকত হোসেন, মিরাজুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম কবির, শেখ মখসুর রহমান,হুমায়ুন কবির স্বপন, আকাশ, সুমন, মিল্টু, মোহিত, ইদ্রিস, বাবু আবদুস সালাম ছোট প্রমুখ শ্রমিক নেতা।
