নলতা শরীফে বিশ্বের ২য় বৃহত্তম ইফতার মাহফিল
আশরাফুল ইসলাম, নলতা: কালিগঞ্জ উপজেলার নলতায় খান বাহাদুর আহছান উল্লা (রহ.) এর রওজা শরীফে একসাথে ইফতার করেন ছয় হাজার মানুষ। একই সাথে আশপাশের এলাকায় আরও চার হাজার মানুষের ইফতার পাঠানো হয় রওজা শরীফ থেকে। আর এই ইফতার মাহফিলের আয়োজনকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইফতার মাহফিল বলে দাবি আয়োজকদের। অর্থাৎ পবিত্র কাবা শরীফের পরই এর অবস্থান বলে মনে করেন তারা।
নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের হিসাব রক্ষক এবাদুল হক বলেন, নলতা পাক রওজা শরীফে প্রতিদিন ১০ হাজার মানুষের ইফতারের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ৬ হাজার মুসল্লী রওজা শরীফ প্রাঙ্গণে একই ছাউনির নিচে বসে একত্রে ইফতার করেন। আর বাকী ৪ হাজার মানুষের ইফতার এলাকার বিভিন্ন মসজিদ, মিশন ও বাড়িতে বাড়িতে প্রেরণ করা হয়। সাওয়াব হাসিলের জন্য দূর-দূরান্ত থেকেও ইফতারের উদ্দেশ্য রোজাদাররা ছুটে আসেন নলতা রওজা শরীফ প্রাঙ্গণে।
শ্যামনগর থেকে থেকে নলতা শরীফে ইফতার করতে আসা আজিজুর রহমান জানান, প্রতিবছর রমজানে অন্তত একদিন এখানে ইফতার করতে আসি। এতো বড় ইফতার মাহফিলের আয়োজন দেশের আরও কোথাও হয় কি না জানা নেই।
তথ্যানুসারে জানা যায়, ১৯৫০ সাল থেকে প্রতিবছর রমজানে রওজা চত্বরে বিশাল ছাউনি নির্মাণ করে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। রমজান মাসব্যাপী এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করতেন হজরত শাহ্ ছুফী খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (রহ.)। পরবর্তীতে তার মৃত্যুর পরও মিশন কর্তৃপক্ষ এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।
রোজাদারদের জন্য এখানে প্রতিদিন ৬শ কেজি দুধ দিয়ে তৈরি করা হয় ফিরনি। সিদ্ধ করা হয় ১০ হাজার ডিম। এছাড়াও ছোলা ভুনা, কলা, খেজুর, সিঙড়া ও চিড়ার ব্যবস্থা থাকে।
নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের সদস্য মো. মালেকুজ্জামান জানান, ক্রমান্বয়ে ইফতার মাহফিলের পরিধি বেড়েই চলেছে। এখানে নতুন একটা মসজিদ নির্মাণের কাজ চলছে। সেটা নির্মাণ হয়ে গেলে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের বসার স্থান হবে। বর্তমানে অস্থায়ীভাবে টিন ও বাঁশ দিয়ে ছাউনি তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রতিবছর রমজানে ইফতার, তারাবী ও ইতেকাফ উপলক্ষ্যে নলতা রওজা শরীফে সাড়ে ৬ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে বাঁশ-খুঁটি দিয়ে টিনের ছাউনি তৈরি করা হয়। দৈনিক ইফতারিতে খরচ হয় গড়ে ২ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা। দিনে দিনে এর ব্যাপ্তি আরও বাড়ছে।

Leave a Reply