এস এম নাহিদ হাসান: সাতক্ষীরায় গোবিন্দভোগ আম পাকা শুরু করে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এ জন্য ১২ মে থেকে গোবিন্দভোগ আম ভাঙা যাবে। আর গোপালভোগ ও হিমসাগর আম ভাঙা যাবে ১৫ মে থেকে। এছাড়া ল্যাংড়া আম ২৯ মে ও আমরুপালি জুন মাসের ৮ তারিখ থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
বৃহস্পতিবার (৯ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত নিরাপদ আম বাজারজাতকরণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় আয়োজক কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়ে চাষীদের তা অনুসরণ করার আহবান জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসন ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় আরডিসি আমিনুল ইসলাম জানান, আম ভাঙার ১৫ দিন আগে থেকে গাছে কোন ধরণের স্প্রে করা যাবে না। অর্থাৎ কোন অবস্থাতেই স্প্রে করার ১৫ দিনের ভিতর আম সংগ্রহ করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, আম ভাঙ্গা ও বাজারজাতবরণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। আম গাছে থাকা অবস্থায় বা পাড়ার পর কোন ধরণের কার্বাইড বা অন্য কোন ক্যেমিকেল ব্যবহার করা যাবে না। আম ভাঙা শেষ না হওয়া পর্যন্ত দিনে ২ বার প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং করা হবে। আম পরিপক্ক হবার পূর্বে কোন অবস্থাতেই আম সংগ্রহ করা যাবে না। কোন কারণে আম পাড়তে হলে উপজেলা কৃষি অফিসারের লিখিত সুপারিশ বিবেচনা করা হবে। বিষমুক্ত নিরাপদ আম উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও রপ্তানির স্বার্থে উল্লিখিত সিদ্ধান্তের পরিপন্থী কোন কার্যকলাপ সংগঠিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ বছর জেলায় হিমসারগ, ল্যাংড়া, আ¤্রপালি, গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, লতা, মল্লিকা, হাড়িভাঙ্গা, গোপালী ধোপা, নিলমবরি ও অন্যান্য জাত মিলিয়ে ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় হিমসারগ ৬১০, ল্যাংড়া ৬৫, আ¤্রপালি ৩৭০, গোপালভোগ ২৫, গোবিন্দভোগ ৫০, বোম্বাই ২০, লতা ২৫ ও অন্যান্য জাতের ৬৫ মোট ১২৩০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। কলারোয়ায় হিমসারগ ৩২৫, ল্যাংড়া ১০৪, আ¤্রপালি ১৫৬, গোবিন্দভোগ ৫২, ও অন্যান্য জাতের ১৩ মোট ৬৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। তালা উপজেলায় হিমসাগর ২২৫, ল্যাংড়া ১৮০, আ¤্রপালি ৫৫, গোপালভোগ ১৪০, গোবিন্দভোগ ২০, বোম্বাই ২০, লতা ৩০, মল্লিকা ২৫, হাড়িভাঙ্গা ২, ও অন্যান্য জাতের ১৮ মোট ৭১৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। দেবহাটা উপজেলায় হিমসাগর ১৩০, ল্যাংড়া ৫০, আ¤্রপালি ৩০, গোবিন্দভোগ ১২০, বোম্বাই ১০, লতা ২০, ও অন্যান্য জাতের ২০ মোট ৩৮০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। কালিগঞ্জে হিমসাগর ২০৫, ল্যাংড়া ১২৫, আ¤্রপালি ২১৮, গোপালভোগ ৪৪, গোবিন্দভোগ ৭০, লতা ৫৮, মল্লিকা ৪৫ ও অন্যান্য জাতের ৬০ মোট ৮২৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। আশাশুনি উপজেলায় হিমসাগর ৩৫, ল্যাংড়া ৩০, আ¤্রপালি ৩০, গোপালভোগ ১০, গোবিন্দভোগ ১০, লতা ১০, মল্লিকা ১০ ও অন্যান্য জাতের ৫ মোট ১৪০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলায় হিমসাগর ১০, ল্যাংড়া ১০, আ¤্রপালি ৪০, গোবিন্দভোগ ৩০, লতা ১০, গোপালী ধোপা ৭, নিলমবরি ৩ ও অন্যান্য জাতের ৫০ মোট ১৬০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে।
সভায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ অরবিন্দ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আমজাদ হোসেন, বড় বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী, আম চাষী জাহাঙ্গীর হোসেন, রেজা প্রমুখ।
এসময় আম চাষী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বাজারে এখন আম উঠে গেছে। আমরা যদি আম না উঠায় তাহলে আমরা ধরা খাবো। আশা করি জেলা প্রশাসন এ বিষয়টা আমলে নেবে।
কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী বলেন, আমাদের চেয়ে বড় বাজার যশোরে। সেখানে আমাদের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আম যাচ্ছে। কিন্তু আমরা আম পাঠাতে পারছি না। এগুলো বন্ধ করা না হলে আমরা বাজারে ধরা খাবো। অনেক টাকার লোকসান গুনতে হবে। আমাদের চেয়ে বড় মোকাম যশোরে, তারা আম ঢাকা পাঠাচ্ছে। আমাদের ব্যবসায়ীরা যেন মার না খায় সেটা বিবেচনা করে আম ভাঙার সময় নির্ধারণ করবেন। এছাড়া গত কয়েক বছরে আমরা আমের যে সুনাম কুড়িয়েছি এ ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।
এর আগে উপজেলা কৃষি অফিসার আমজাদ হোসেন পওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টশনের মাধ্যমে সাতক্ষীরার আমের সার্বিক অবস্থা উপস্থিত আম চাষী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
