তালার বালিয়া ভাঙনকুলে বেড়িবাঁধ নির্মাণে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে ৪ গ্রামের ২৪শ পরিবার
সৌমেন মজুমদার, তালা: তালার খেশরা ইউনিয়নের বালিয়া, ডুমুরিয়া, শাহাজাতপুর এবং খেশরা গ্রামের নদীর তীরবর্তী ১২ কিলোমিটার এলাকায় ভেড়িবাঁধে নির্মাণ হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ^াস ফেলছে ৪ গ্রামের ২৪শ পরিবার।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তালার খেশরা ইউনিয়নের বালিয়া, ডুমুরিয়া, শাহাজাতপুর এবং খেশরা গ্রামের তিনপাশে প্রবাহমান কপোতাক্ষ নদ দ্বারা বেষ্টিত। প্রতিবছর নদীর তীরবর্তী ১২ কিলোমিটার ভেড়িবাঁধের কমপক্ষে ৪/৫টি স্থান ভেঙ্গে গিয়ে পুরো অঞ্চল প্লাবিত হতো। ২০০৯ সালের আইলায় এই অঞ্চলের ৯৫০ হেক্টর জমির মধ্যে ৮শ হেক্টর জমি লোনা জলে তলিয়ে যায়। পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি ভেঙ্গে পড়ে এবং লক্ষাধিক বৃক্ষ মারা যায়। ৩শ’ হেক্টর উঁচু ফসলী জমিতে ৫/৭ বছরের মধ্যে কোন ফসল হয়নি। শতাধিক পুকুর এখনও রয়ে গেছে আইলার লোনা পানি। উপযুক্ত রেগুলেটর না থাকায় বর্ষার পানি সরাতে সীমাহীন দুর্ভোগ সহ্য করতে হয়। এলাকাবাসীর এ দুর্যোগ ঝুঁকি থেকে পরিত্রাণের জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যোগাযোগ করে। অবশেষে ২০১১ সালে এলজিইডি’র ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ উন্নয়ন বিভাগ এ অঞ্চলে একটি প্রকল্প গ্রহণের জন্য সমীক্ষা শুরু করে। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যে ১২ কিলোমিটার ভেড়িবাঁধ এবং ৭.৫ কিলোমিটার খাল খননের কাজ ৫২টি এলসিএস দলের ১১শ শ্রমিকের চার মাসের কাজের মাধ্যমে সম্পন্ন করেছে। ঠিকাদারের মাধ্যমে ৩টি রেগুলেটর, ৪টি পাইপ স্লুইস এবং সমিতির অফিস ঘর নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
মাজেদ মোড়ল, সুলতান শেখ, আফাজ জোয়ার্দ্দার, মোমেনা খাতুনসহ কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, বালিয়া ভাঙ্গনকুল উপ-প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে তারা অনেকটা আশংকামুক্ত। ফণী’র কোন প্রভাবও এখানে পড়েনি। তারা জানান, ১২ কিলোমিটার ভেড়িবাঁধ নির্মাণ হওয়ায় তারা বাড়িতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছেন। এছাড়া খাল খননের কারণে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা দূর হয়েছে এবং ১৫০ হেক্টর নিচু জমিতে ১৫ বছর পর এবারই আমন ধান লাগাতে পেরেছেন। তবে এলাকাবাসীর আশংকা যদি বর্ষার আগে রেগুলেটর নির্মাণের কাজ শেষ না হয়, তবে পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে থাকবে। তাই বর্ষা মৌসুমের আগে ঠিকাদার রেগুলেটর নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারলে এ অঞ্চলের দুর্যোগ ঝুঁকি অনেকটা নিরসন হবে।
এদিকে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে এলাকার জনগণ খুশী হলেও এলসিএস দল খুশী হতে পারেনি। জোনা খাল ২নং এলসিএস দলের মফিজুল মোড়ল জানান, তাদের দলের ২২ জন শ্রমিক এক বছর আগে সাড়ে তিন লাখ টাকার কাজ শেষ করেছে। অথচ টাকা পেয়েছে মাত্র দেড় লক্ষ।
বাঁধ নির্মাণ ৪নং এলিএস’র সভাপতি বাবলুর রহমান শেখ জানান, তার দল এক বছর আগে ৪.৫ লক্ষ টাকার কাজ শেষ করলেও এ পর্যন্ত মাত্র দেড় লক্ষ টাকা পেয়েছে। আরও কয়েকজন এলিএস দলের সভাপতি ও সম্পাদক একই অভিযোগ করেন।
এ প্রকল্পের মূল উদ্যোক্তা বালিয়া ভাঙ্গনকুল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানান, ৫২টি এলসিএস দলের মধ্যে ৪৪টি দল জুন ২০১৮ এরমধ্যে তাদের কাজ শতভাগ সম্পন্ন করেছে। প্রতিকূল অবস্থার কারণে ৮টি এলসিএস দল গত বছর কাজ শেষ করতে পারেনি। এ মাসের মধ্যে তাদের কাজ শেষ হবে। তিনি বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এলসিএস দলকে বিল পেতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এক মাসের মধ্যে এলসিএস দল তাদের সকল টাকা পেয়ে যাবেন বলে তিনি মনে করছেন।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ কুমার কু-ু বলেন, এলসিএস দলের বকেয়া টাকা প্রদানের জন্য কিছু প্রক্রিয়া আছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই টাকা ছাড় করা হবে।

Leave a Reply