নলতায় একসাথে ইফতার করবে দশ হাজার মানুষ
আশরাফুল ইসলাম, নলতা (কালিগঞ্জ): পবিত্র কাবা শরীফের পরই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয় কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা শরীফে। এখানে একসাথে ইফতার করেন প্রায় ছয় হাজার মানুষ। আশেপাশের আরও চার হাজার মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়। বরাবরের মতো এবারও এই আয়োজন থাকছে নলতা শরীফে।
নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের হিসাব রক্ষক এবাদুল হক বলেন, প্রতিবছর রমজানে ইফতার, তারাবী ও ইতেকাফ উপলক্ষ্যে নলতা রওজা শরীফে সাড়ে ৬ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে বাঁশ-খুঁটি দিয়ে টিনের ছাউনি তৈরি করা হয়। আর প্রতিদিন ইফতারিতে খরচ হয় গড়ে ২ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা। দিনে দিনে এর ব্যাপ্তি আরও বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, পবিত্র রমজানের এক মাস ধরে এই বৃহত্তম ইফতার মাহফিলের প্রস্তুতি চলতে থাকে। ৩০ জন শ্রমিক দিন রাত পরিশ্রম করে বাঁশ-খুঁটি আর টিন দিয়ে বিশাল ছাউনি তৈরি করেছে। যেখানে একসাথে ৬ হাজার রোজাদার ইফতার করতে পারবেন। এছাড়া ইফতারি বিলি-বণ্টন ও তদারকির জন্য রয়েছে ২ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক।
স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, নলতা পাক রওজা শরীফে প্রতিদিন ১০ হাজার মানুষের ইফতারের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ৬ হাজার মুসল্লী রওজা শরীফ প্রাঙ্গণে একই ছাউনির নিচে বসে একত্রে ইফতার করেন। আর বাকী ৪ হাজার মানুষের ইফতার এলাকার বিভিন্ন মসজিদ, মিশন ও বাড়িতে বাড়িতে প্রেরণ করা হয়। সাওয়াব হাসিলের জন্য দূর-দূরান্ত থেকেও ইফতারের উদ্দেশ্য রোজাদাররা ছুটে আসেন নলতা রওজা শরীফ প্রাঙ্গণে।
তথ্যানুসারে জানা যায়, ১৯৫০ সাল থেকে প্রতিবছর রমজানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রওজা চত্বরে বিশাল ছাউনি নির্মাণ করে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। রমজান মাসব্যাপী এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করতেন হজরত শাহ্ ছুফী খানবাহাদুর আহ্ছানউল¬া (রহ.)। পরবর্তীতে তার মৃত্যুর পরও মিশন কর্তৃপক্ষ এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।
বাবুর্চী বাবু হোসেন জানান, রোজাদারদের জন্য এখানে প্রতিদিন ৬শ কেজি দুধ দিয়ে তৈরি করা হয় ফিরনি। সিদ্ধ করা হয় ১০ হাজার ডিম। এছাড়াও ছোলা ভুনা, কলা, খেজুর, সিঙড়া ও চিড়ার ব্যবস্থা থাকে।
তিনি বলেন, প্রতি বছরে আমি এখানে রান্নার কাজ করি। এ মাসটিতে আমরা রোজাদারদের খেদমতের কাজ করি। এখানে সকাল থেকেই দৈনিক ইফতারের পূর্ব প্রস্তুতি চলতে থাকে।
নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের সদস্য মো. মালেকুজ্জামান জানান, ক্রমান্বয়ে ইফতার মাহফিলের পরিধি বেড়েই চলেছে। নতুন একটা মসজিদ নির্মাণ কাজ চলছে। সেটা নির্মাণ হয়ে গেলে এখানে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের বসার স্থান হবে। বর্তমানে অস্থায়ীভাবে টিন ও বাঁশ দিয়ে ছাউনি তৈরি করা হয়েছে।

Leave a Reply