দেবহাটায় স্বামীর সম্পত্তি না দিয়ে সিএন্ডবির জমি চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটায় ক্যান্সার আক্রান্ত স্বামীর সম্পত্তি না দিয়ে জোরপূর্বক সিএন্ডবির জমি চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা থেকে রক্ষা পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সুপ্রিয়া বিশ^াস নামের এক গৃহবধূ।
রোববার (৫ মে) সকাল ১১টায় দেবহাটা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে তিনি এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার শ^শুররা পাঁচ ভাই মিলে দেবহাটা উপজেলার সখিপুর মৌজার জেএল নং-৪১, খতিয়ান নং-৩৯৭১, ডিপি-১৫৬৫ তে কোবালা দলিল মূলে ৫৩ শতক জমির ক্রয় করেন। যার মধ্যে ২৩ শতক জমি রেকর্ডীয়। তার শ^শুর দীর্ঘ ২২ বছর আগে মারা যাওয়ার পর থেকে তার স্বামী ও স্বামীর অপর দুই ভাই তাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে ভোগ দখল করাকালীন সময়ে তার বড় ভাসুর দিলীপ বিশ^াস, চাচাতো ভাসুর সুকুমার বিশ^াস, চাচাতো দেবর তাপস বিশ^াস ও শেখর বিশ^াস মিলে তাদেরকে ঐ পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বিতাড়িত করার জন্য নানারকম ষড়যন্ত্র করতে থাকে। এদিকে তার চাচাতো ভাসুর সুকুমার বিশ^াস দেবহাটা সেটেলমেন্ট অফিসকে ম্যানেজ করে ১৩ শতক সিএন্ডবির জমি নিজের নামে রেকর্ড করে নিয়েছে। আমার শ^শুরের রেকর্ডীয় সম্পত্তি চাচাতো ভাসুর সুকুমার বিশ^াস, চাচাতো দেবর তপন বিশ^াস ও শেখর বিশ^াস জোর পূর্বক দখল করে রেখেছে। আমার স্বামীর ভাগের প্রাপ্য জমি বুঝিয়ে দিতে বললে তারা মিলে সিএন্ডবির রেকর্ড করে নেওয়া জমি আমাদের ভাগের অংশে দিতে চায়।
এছাড়াও তার আপন ভাসুর দিলীপ বিশ^াস সখিপুর বাজারের মধ্যে তার শ^শুরের নামে ১২২২ ও ১২২৬ সাবেক দাগে রেকর্ডকৃত আড়াই শতক জমিতে করা ঘরটি (হোটেল) দীর্ঘদিন জোরপূর্বক একা ভোগ দখল করে রেখেছে। তার স্বামী দীর্ঘ পাঁচ বছর আগে ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের ভেলোর সিএমসি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় তিনি বর্তমানে টাকার অভাবে তাকে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। বর্তমানে তিনি ও তার স্বামী মিলে তার ভাসুরের কাছে জমির অংশের দাবি জানালে তার ভাসুর মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে তার শ^াশুড়ি ও দেবর সঞ্জয় বিশ^াসকে তার পক্ষে নিয়ে তাদেরকে সম্পত্তি থেকে বিতাড়িত করার অসৎ উদ্দ্যেশ্যে নানারকম ষড়যন্ত্র করছে। এমনকি কয়েক বছর আগে তাদের জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কয়েকজন ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মিলে শালিস মিমাংসা করে দিলে প্রতিপক্ষ সেই শালিস প্রাথমিকভাবে মেনে নিয়ে বসতঘর নির্মাণ করে। কিন্তু শালিস অনুযায়ী তার ভাসুর ও দেবর তাদের অংশটুকু বুঝে নিলেও তাদের অংশ সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেয়নি। বর্তমানে তার স্বামীর অসুস্থতার কারণে তিনি তার স্বামীর ওয়ারেশ মোতাবেক জমির অংশ দাবি করলে উক্ত ব্যক্তিরা তার ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে নতুনভাবে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী কুচক্রী মহলের সহযোগিতায় ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। বর্তমানে তিনি তার স্বামী ও দুই ছেলে সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি কিছুদিন আগে এই বিষয়ে দেবহাটা থানায় গেলে তারা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদেরকে নানারকম হুমকি ধামকি দেয়।
সম্মেলনে সম্পত্তিটুকু বুঝে পেয়ে স্বামীর চিকিৎসা ও পরিবার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

Leave a Reply