ঢাকাSaturday , 4 May 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

ফণীর প্রভাবে জেলার ৬’শ কাঁচা ঘর-বাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত: গাবুরায় আশ্রয় কেন্দ্রে বৃদ্ধার মৃত্যু, যথাযথ প্রস্তুতিতে কমেছে ক্ষয়ক্ষতি

admin ঢাকা
আপডেট: 4 May 2019, 22:51

ডেস্ক রিপোর্ট: ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে সাতক্ষীরা উপকূলের প্রায় ছয়শ কাঁচা ঘর-বাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া জেলার দুই হাজার হেক্টর ফসলি জমি এবং শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার প্রায় ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের আংশিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
এদিকে, জেলরা শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের গাইনবাড়ি আশ্রয় কেন্দ্রে আয়না মতি বিবি (৯২) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত কওছার আলীর স্ত্রী। তিনি অসুস্থ ছিলেন। আশ্রয় কেন্দ্রে উঠার পর রাত পৌনে ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, আশাশুনি উপজেলার খোলপেটুয়া নদীর কুড়িকাউনিয়া ও প্রতাপনগর এবং দেবহাটা উপজেলার খানজিয়া নামক স্থানে ইছামতী নদীর বেঁড়িবাধে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে।
ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ও পদ্মপুকুরের কয়েকটি পয়েন্টের বেড়িবাঁধ।
শুক্রবার (৩ মে) রাতভর জেলাব্যাপী ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হওয়ায় আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝরে পড়েছে ফলন্ত আম।
তবে, শনিবার (৪ মে) সকাল থেকে রৌদ্রউজ্জ্বল আবহাওয়া দেখা দেওয়ায় আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাই নেওয়া দেড় লক্ষাধিক মানুষ ঘরে ফিরেছে। যদিও কিছুক্ষণ পর পর আকাশ গুমোট রূপ ধারণ করছে। বইছে দমকা হাওয়া।
জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ছয়শ কাঁচা ঘর-বাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া জেলায় ২ হাজার হেক্টর ফসলি জমি এবং শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার ৫ কিলোমিটার বেঁড়িবাধের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরো জানান, দুর্যোগ কবলিত মানুষের মাঝে ইতোমধ্যে ২৭’শ প্যাকেট শুকনা খাবার, ৩১৬ মেট্রিক টন চাল, ১১ লক্ষ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা, ১১৭ বান টিন, গৃণ নির্মাণে ৩ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা ও ৪০ পিস শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে।


এদিকে, কালিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শুক্রবার দিবাগত রাতে ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে কালিগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে বেশ কিছু জায়গায় ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া গিয়েছে। তবে ঝড়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী যথাযথ প্রস্তুতি ও মানুষকে সাইক্লোন শেল্টারে সরিয়ে নেয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন প্রশাসন।
সূত্র জানায়, উপজেলার চাম্পাফুল, নলতা, তারালী, ভাড়াশিমলা, দক্ষিণ শ্রীপুর, বিষ্ণুপুর, কৃষ্ণনগর, মৌতলা, রতনপুর, ধলবাড়িয়া, মথুরেশপুর ও কুশুলিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে বৃষ্টি, বজ্রপাতসহ দমকা ঝড়ো বাতাস বয়ে যায়। এতে ইউনিয়নের মানুষের ঘরবাড়ি, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন খাঁন সুপ্রভাত সাতক্ষীরাকে জানান, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে উপজেলায় আংশিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১২৯০টি আর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১২০টি।
এর মধ্যে চাম্পাফুল ইউনিয়নে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৫০টি, নলতা ইউনিয়নে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯৪টি, সম্পূর্ণ ৪৬টি, ভাড়াশিমলা ইউনিয়নে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪২টি, তারালী ইউনিয়নে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯০টি, সম্পূর্ণ ৩টি, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫০টি, সম্পূর্ণ ১৫টি, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২০৭টি, সম্পূর্ণ ৭টি, কৃষ্ণনগর ইউনিয়নে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৫টি, সম্পূর্ণ ৫টি, মৌতলা ইউনিয়নে আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৫৩ টি, সম্পূর্ন ১৮ টি, রতনপুর ইউনিয়নে আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৪২ টি, সম্পূর্ণ -০, ধলবাড়িয়া ইউনিয়নে আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ১৫০ টি,সম্পূর্ণ ১০ টি, মথুরেশপুর ইউনিয়নে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২০০টি, সম্পূর্ণ ১৫টি, কুশুলিয়া ইউনিয়নে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২০টি, সম্পূর্ণ ১টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া কালিগঞ্জ নাছরুল উলুম সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসার টিনের চাল ও বড়শিমলা কারবালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের টিনের চালসহ উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের টিনের চালও ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সংবাদ পাওয়া গিয়েছে।
এব্যাপারে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় কালিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলো।
বৃহস্পতিবার জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে মটরসাইকেল র‌্যালি, মাইকিং করার কারণে মানুষ দ্রুত সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছিলো। মানুষ আগে থেকে সাবধানতা অবলম্বন করায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক সহনশীল মাত্রায় নিয়ে আসা গিয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া তিনি এই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবীদেরকে ধন্যবাদ প্রদান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *