ঢাকাSaturday , 4 May 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

ভাঙন আতংকে ইছামতি পাড়ের লাখো মানুষ

admin ঢাকা
আপডেট: 4 May 2019, 22:33

মীর খায়রুল আলম: ভাঙন আতংকে রয়েছে ইছামতি পাড়ের লাখো মানুষ। প্রতিনিয়ত উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যদিয়ে দিন কাটছে তাদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দেবহাটা উপজেলার নাংলা হতে নওয়াপাড়া স্লুইচ গেট পর্যন্ত ইছামতি নদীর বেড়িবাধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেছে। ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই দুর্বল ও জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে বসেছে। কোথাও কোথাও ভাঙতে ভাঙতে মাত্র এক দেড় ফুট অবশিষ্ট আছে।
আর এতে যে কোন সময় বাঁধটি ভেঙে দেবহাটা উপজেলার ইছামতি সীমান্ত সংলগ্ন খানজিয়া, নাংলা, নওয়াপাড়া, ছুটিপুর, গাংআটি, হাদিপুর, বসন্তপুর, খানজিয়া, শুলপুর, নলতা, শেহারা, দুরদুরে, মাঘুরালীসহ ১০-১৫টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশংকা বিরাজ করছে। একইভাবে প্লাবিত হতে পারে শতশত মৎস্যঘের, হাজার হাজার বিঘার ফসলের আবাদ এবং হাজার হাজার বসতবাড়ি। তাই প্লাবন আতংকে ঘুমাতে পারছে না মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, দেবহাটা থানা ভবন হতে কয়েক গজ দূরে সুশীলগাঁতী নামক স্থানে ২০০৯ সালে বেড়িবাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এরপর ২০১৩ সালে আবারো ভাঙন দেখা দেয় ওই স্থানে। পরে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে ভাঙন দেখা দেয় নাংলা বাজার, দেবহাটা পাঠবাড়ি ও সুশীলগাঁতী-টাউনশ্রীপুরের বেশ কিছু পয়েন্টে। সে সময় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ অনেকেই পরিদর্শন করেন ভাঙনকবলিত এলাকা। তারপরও অদ্যাবধি ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধ স্থায়ীভাবে সংস্কারে কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
আর প্রতিবছর ভাঙনের ফলে নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে বাংলাদেশের মানচিত্রের একটি অংশ।
দেবহাটা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, দেবহাটার ভাতশালা সীমান্তের ৫৫ একর, টাউন শ্রীপুর মৌজার ২৬১৩ ও ৯৯৫ দাগের ৯৬.৬৩ একর, সুশিলগাতী মৌজার ১১৫০ দাগের ২২.৪১ একর, শিবনগর মৌজার ৭০৭ ও ৭৩৮ দাগের ২৫.২১ একর, দেবহাটা মৌজার ৫৫০৫ দাগের ৯.৪৪ একর, বসন্তপুর মৌজার ১, ২ দাগের ১.৩৭ একর জমি ইতোমধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
সীমান্ত পাড়ের বাসিন্দা সাইদুর রহমান জানান, নদীর বেড়িবাঁধ যেভাবে ভাঙতে শুরু করেছে তাতে আমাদের চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। না জানি কখন বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করবে। আর তাতে আমাদের দুঃখের শেষ থাকবে না। আমরা কোথায় যাব, কি করব ভেবে পাচ্ছি না।
স্থানীয় নজরুল ইসলাম বলেন, নদীতে অবৈধভাবে বালু কাটা, জাল ঠেলা, অবৈধ ড্রেন স্থাপন, নদী পাড়ে পর্যাপ্ত বনভূমি না থাকায় বার বার এই ভাঙন দেখা দেয়। পূর্বে নদী ভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির সম্মুখিন হয় স্থানীয়রা। সে সময়ে জনদুর্ভোগের শেষ ছিল না। ভাঙলেই পরিদর্শনে আসেন ঊর্ধ্বতনরা। কিন্তু তাতে আমাদের কোন লাভ হয় না। বরং লাভ হয় প্রভাবশালীদের। প্রকল্প দেখিয়ে সরকারের মোটা অংকের টাকা চলে যায় তাদের পকেটে। দুর্নীতি আর অনিয়মের ফলে আমরা বেড়িবাধের স্থায়ী সমাধান পাচ্ছি না। আমাদের দাবি আর সিসি ব্লক দিয়ে বেড়িবাঁধ রক্ষা করা হোক।
নওয়াপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবর রহমান জানান, ইছামতি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে বার বার ভাঙন দেখা দেয়। আমি বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য স্থানীয় সাংসদ, জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি। শুক্রবার নাওয়াপাড়া স্লুইচ গেটের মুখে ভাঙ্গন দেখা দিলে বালুর বস্তা দিয়ে সেটি আপাতত রোধ করেছি। নাংলার বেড়িবাঁধ রক্ষার কাজ চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে বেড়িবাঁধ সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে জানমাল রক্ষা ও বাংলাদেশের ভূ-খ- রক্ষা করা হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *