গাজী আসাদ ও স ম ওসমান গনী: প্রবল বেগে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে সাতক্ষীরা উপকূলে ঝড়ো বাতাসের সাথে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে নদ-নদীতে। অন্ধকার হয়ে আসছে প্রকৃতি। ঘরবাড়ি ছেড়ে উপকূলীয় এলাকার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে উঠতে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষকে নিরাপদে আশ্রয় কেন্দ্রে আনা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে আলো ঝলমলে পরিবেশ থাকলেও এখন প্রকৃতি বিরূপ চিত্র ধারণ করেছে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ জানান, সকালে ভাল পরিবেশ থাকলেও এখন বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সাথে ঝড় হচ্ছে। পরিবার পরিজন নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, সকাল থেকেই মাইকিং করা হচ্ছে। ভেবেছিলাম আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়া লাগবে না। কিন্তু উপায় নেই।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশন অফিসার আবুল হোসেন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কিছু এলাকায় বেড়িবাধ বেশ ঝুকিপূর্ণ। তারপরও আমরা সচেষ্ট আছি।
এদিকে, ইতোমধ্যে উপকূলের ১০ হাজার মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল। 
শুক্রবার (৩ মে) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফ্রিংয়ে এই তথ্য জানান তিনি।
এসময় তিনি আরও জানান, সাতক্ষীরায় ১৩৭টি আশ্রয় কেন্দ্রসহ স্কুল-কলেজগুলো আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সকাল ১০টা পর্যন্ত আশাশুনি ও শ্যামনগরের ১০ হাজার মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্র আনা হয়েছে। বিকেল নাগাদ সকল মানুষকে নিরাপদ স্থানে সড়িয়ে আনা হবে। বিশেষ করে আশাশুনি ও শ্যামনগরে শিশু, প্রতিবন্ধী, গর্ভবতী নারী এবং বৃদ্ধদের আশ্রয় কেন্দ্র সরিয়ে আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে ত্রান মন্ত্রাণায়ল থেকে ৩১৬ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১১ লাখ টাকা ও ৩২শ প্যাকেট শুকনা খাবার জেলায় পৌছেছে। যা সকালেই উপজেলাগুলোতে পৌছে দেওয়া হয়েছে।
এসময় তিনি আরো জানান, বর্তমানে সাতক্ষীরায় ৭নং সংকেত চলছে। সন্ধ্যা নাগাদ ঘূর্ণিঝড় ফণী উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এসময় ৪-৫ ফুট জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। সবাইকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া আশ্রয়কেন্দ্র ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সোলার, চার্জার লাইট ও মোমবাতির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৮৫টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝড় পরবর্তী বিদুৎ সংযোগ মেরামত করতে টিম গঠন করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া জেলা, উপজেলা প্রশাসন, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফম রুহুল হক, পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান, সিভিল সার্জন মো. রফিকুল ইসলাম, প্রেসক্লাব সভাপতি আবু আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপ্পী প্রমুখ। #
