ঢাকাTuesday , 30 April 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

ছাত্রীকে যৌন হয়রানি: কালিগঞ্জে শিক্ষক শহিদুল ইসলামের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

admin ঢাকা
আপডেট: 30 April 2019, 22:42

কালিগঞ্জ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জের ৭৬নং সন্ন্যাসীর চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন হয়রানিকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলামের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বিদ্যালয়ের মাঠে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এই কর্মসূচি পালন করে।
এসময় বক্তব্য রাখেন, নির্যাতিত স্কুল ছাত্রীর মা, স্কুল মাদারস্ ফোরামের সভাপতি আকলিমা পারভিন, সম্পাদক শাবানা খাতুন, ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ, মোক্তার গাজী, আব্দুল আলিম, নূর ইসলাম, শিক্ষার্থী সাবিনা খাতুন, তোহরা খাতুন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, গত ২৮ মার্চ সন্ন্যাসীর চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উপজেলার পূর্ব নলতা গ্রামের মৃত ইমান আলী মোল্যার ছেলে শহিদুল ইসলাম (৩৯) পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর যৌন নিপীড়ন করেন। বিষয়টি ওই ছাত্রীর মা তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতিকে অবহিত করেন। যদিও ঘটনার পরের দিন থেকে ওই ছাত্রী আর স্কুলে যেতে পারছে না। ভীত হয়ে পড়েছে তার কয়েকজন সহপাঠীও। গত ১০ এপ্রিল উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বিদ্যালয়ে মা সমাবেশে গিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পান এবং তিনি বিতর্কিত শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে এক সপ্তাহের মধ্যে অন্যত্র বদলী করার আশ^াস দেন। ১৭ এপ্রিল ওই শিক্ষা কর্মকর্তা স্কুলে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেও কোন ব্যবস্থা না নিয়ে শহিদুলকে বিভিন্ন স্থানে ট্রেনিং এ পাঠিয়ে কয়েকদিন ছুটি কাটাতে বলেন। রমজান মাসের ছুটি শেষে স্কুলের ক্লাস শুরু হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে এমন আশায় রয়েছেন তারা।
সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর অনৈতিক সুবিধা নিয়ে শহিদুল ইসলামকে প্রশ্রয় দিয়ে স্কুলের পড়াশুনার ক্ষতি করতে চাইছেন বলে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ।
এদিকে, শিক্ষক শহিদুলকে বাঁচাতে মাঠে নামেন ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ভূমিদস্যু রহিম পাড়। তিনি নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। বাধ্য হয়ে গত ২০ এপ্রিল ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, থানার অফিসার ইনচার্জ, জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও ১০ দিনে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। গত সোমবার দুপুুরে কালিগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক কামাল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ সন্নাসীর চকে যেয়ে যৌন হয়রানির শিকার ছাত্রী, তার অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন।
বক্তারা আরো বলেন, ইতোপূর্বে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির কারণে শহিদুল ইসলাম মৌতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাশিবাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাজলা প্রাথমিক বিদ্যালয়, নলতা প্রাথমিক বিদ্যালয়, শুইলপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সর্বশেষ সেন্ট্রাল সেহারা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের ঝাড়– মিছিল, মানববন্ধন ও বিক্ষোভের মুখে বিতাড়িত হয়েছেন।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, যৌন হয়রানির ঘটনাটি সত্য নয়। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল হাকিম বলেন, যৌন হয়রানির শিকার এক ছাত্রীর মায়ের লিখিত অভিযোগ পেয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটির সদস্যরা হলেন যথাক্রমে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, খান ওমর ফারুক ও একেএম মোস্তাফিজুর রহমান। তদন্ত কমিটিকে যৌন হয়রানির ঘটনা দ্রুত তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *