নুসরাত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
ডেস্ক রিপোর্ট: ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সাতক্ষীরার আয়োজনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। সনাক সাতক্ষীরার সহ-সভাপতি তৈয়েব হাসান বাবুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জেলা নাগরিক কমিটির আহবায়ক আনিসুর রহিম, জেলা নাগরিক আনোদলন মঞ্চের আহবায়ক ফাহিমুল হক কিসলু, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহম্মেদ বাপী, আইন ও শালিস কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক শীফা হাফিজা, সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, জাসদ নেতা ওবায়দুস সুলতান বাবলু, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সাতক্ষীরা শাখার সাধারণ সম্পাদিকা জোছনা দত্ত, মহিলা নেত্রী ফরিদা আক্তার বিউটি, স্বদেশ এর নির্বাহী পরিচালক মাধব দত্ত প্রমুখ।
এসময় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) নির্বাহী পরিচালক শীফা হাফিজা বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা রাস্তাঘাটে হোক, আর ঘরে-বাইরে হোক- এটা জাতির জন্য কলংক। এ কলংক প্রতিটি মানুষের। আমি মনে করি এই দায়-দায়িত্ব আমাদের পুরুষের উপরই অনেক বেশী বর্তায়। আর সেই জন্য আমাদের আমাদের সবাইকে এক সাথে এগিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্র সব সময় সব জায়গায় হয়তো যতটুকু করার কথা সেইটা করার সুযোগ পায় না। গত ২ দিন ধরে আমরা শুনছি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলছেন, ধর্ষণ ও ধর্ষণ জনিত মৃত্যুর কারণে সেই বিচার যেন কঠিন এবং কঠোরভাবে হয় এবং সে জন্য প্রয়োজন হলে রাষ্ট্র তার আইন নতুন করে করার উদ্যোগ নেবে। এটা অত্যন্ত পজেটিভ ডাইরেকশন। তবে আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো। বাংলাদেশে ১টি নারীও যেন পথে-ঘাটে, অফিসে-বাড়িতে, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসায় কোন ভাবে যৌন হয়রানির শিকার না হয়। যে ঘটনা ঘটবে তার যেন তড়িৎ গতিতে বিচার করা হয়। তিনি প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এ বিষয়ে সোচ্ছার থাকার আহ্বান জানান।
এ সময় বক্তারা সাম্পতিককালে নুসরাতসহ অন্যান্য নারীর প্রতি সহিংসতা ও হত্যাকা-সহ এ ধরনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সনাক-টিআইবি’র সুপারিশগুলোর প্রতি ঐক্যমত প্রকাশ করেন।
সুপারিশগুলো হলো- দ্রুত বিচার আদালতে নুসরাত হত্যাকা-ের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। নুসরাত হত্যাকা-ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেকের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় তদন্ত নিশ্চিত করা। বাংলাদেশে নারী ও শিশুর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা প্রতিহত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং এসব অপরাধের সাথে জড়িতদের ন্যয়বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি অপরাধের শিকার পরিবারকে সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করা। নির্যাতিত নারী ও কন্যা শিশুদের ন্যায় বিচারসহ সকল ক্ষেত্রে ও পর্যায়ে নারীর অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যমান আইন সমূহের কার্যকর প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, পেশাগত উৎকর্ষ ও কার্যকরতা নিশ্চিত করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্মক্ষেত্রসহ সকল পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে নারীর নিরাপত্তা বিধান, আর্থ-সামাজিক কর্মকা-ে নারীর পূর্ণ ও সম-অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়ন করা।

Leave a Reply