ডেস্ক রিপোর্ট: চূড়ান্ত ডিক্রি ঘোষণার পরেও শহরের পলাশপোলে জোর করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে শহরের পলাশপোলের শওকত আলির ছেলে কামরুজ্জামান বুলু এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কামরুজ্জামান বুলু বলেন, পলাশপোল মৌজায় চার শতক জমি নিয়ে জরিনা খাতুনের সাথে মামলা চলছিল বাবুর আলির। এ মামলায় জরিনা খাতুন জজ আদালতে ডিক্রি প্রাপ্ত হন। ডিক্রি প্রাপ্তির পর জরিনা খাতুন কোবালা দলিল মূলে চার শতক জমি আমার স্ত্রী মনজুয়ারা ইমতিয়াজের কাছে বিক্রি করেন। ডিক্রির বিরুদ্ধে বাবুর আলি সরদার সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশন মামলা করেন। এই মামলায় মনজুয়ারা খাতুন ২১ নম্বর পক্ষভুক্ত হন। বাবুর আলির মৃত্যুর পর তার ওয়ারেশগণ মামলায় পক্ষভুক্ত হন।
লিখিত বক্তব্যে কামরুজ্জামান বুলু আরো বলেন, ২০১২ সালে সিভিল রিভিশন মামলাটি একতরফাভাবে খারিজ হয়ে যায় এবং আগের আদেশ বহাল থাকে। ২০১৬ সালের ৩০ মে প্রধান বিচারপতিসহ চারজন বিচারপতির সমন্বয়ে উচ্চ আদালতে মামলাটি ডিসমিস হয়ে যায়। এরপর প্রতিপক্ষ প্রধান বিচারপতির আদালতে রিভিশন করলে সেটিও ২০১৩ এর ২১ নভেম্বর ডিসমিস হয়ে যায়। প্রতিপক্ষ ৬৪৩/১৭ নম্বর রিভিউ পিটিশন করলে সেটিও সাতজন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানি শেষে ডিসমিস করে দেন। এ সব ঘটনার পর সাতক্ষীরা জজ আদালতে প্রাথমিক ডিক্রিটি চূড়ান্ত ডিক্রী হিসাবে ঘোষিত হয় এবং দেওয়ানি জারি ০৫/১৭ মামলায় জজ আদালতের নির্দেশে একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট ২০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর নালিশী জমিতে হাজির হয়ে কামরুজ্জামান বুলুর স্ত্রী মনজুয়ারা ইমতিয়াজকে সম্পত্তির দখল বুঝে দেন।
সংবাদ সম্মেলনে বুলু বলেন, এসবের পরও ওই জমি দখলের জন্য বারবার চেষ্টা করছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এই লক্ষ্যে গত ২৪ এপ্রিল বাবুর আলির ছেলে খলিলুর রহমান, আবদুল জলিল, আবদুল বারী, তাহাজ্জেদ আলি, আহাজ্জেদ আলি আহাদ, সাগর, আবদুল বারির ছেলে মোস্তাকিন, কাজল, আবদুল জলিলের ছেলে জামি, রানা ও সুফলসহ ১৫-২০ জন ধারালো অস্ত্রশস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে হামলা করে। এ সময় তারা আমাকে ও আমার স্ত্রীকে মারপিট করে গুরুতরভাবে আহত করে। এ ব্যাপারে থানায় দেওয়া মামলায় পুলিশ আল জামিকে গ্রেফতার করেছে।
কামরুজ্জামান বুলু বলেন, তাদের জমিতে হামলাকারীরা নিজেদের অপরাধ ঢাকতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যা তথ্য তুলে ধরে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করেছে। বুলু বলেন তিনি শহরের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিত্তিহীন ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য তুলে ধরার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সাথে তার স্ত্রী যাতে ওই জমি দখলে রাখতে পারেন সেজন্য তিনি সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
