ঢাকাMonday , 29 April 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

পরিণত হবে নর্দমায়, আন্দোলনের হুশিয়ারী: প্রাণসায়ের খননের ডিজাইন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

admin ঢাকা
আপডেট: 29 April 2019, 22:28

 

স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা শহরের প্রাণ ‘প্রাণসায়ের’ খাল খনন করে নর্দমায় রূপান্তরের মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খননের যে ডিজাইন করা হচ্ছে, তাতে খালটি পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া তো দূরের কথা- বর্তমানে যে অবস্থায় রয়েছে তার চেয়ে সংকুচিত হয়ে নর্দমায় পরিণত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিষয়টি স্বীকার করেই পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, খালটি খনন করা হলে বর্তমানে বিদ্যমান অবস্থার চেয়ে সংকুচিত হয়ে পড়বে- এটা সত্যা কথা। কিন্তু দখলমুক্ত করতে না পারার কারণেই মূলত এই পরিকল্পনা হাতে নিয়ে মরা খালটি বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে দখলমুক্ত করে ডিএস খতিয়ান অনুযায়ী খননের মাধ্যমে প্রাণ সায়ের খাল পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাতক্ষীরা শহরবাসী।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ৬৪ জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদী, খাল, জলাশয় খনন শীর্ষক প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের আওতায় সাতক্ষীরার প্রাণ সায়ের খাল খননের জন্য দুটি প্রকল্পে ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্যাকেজ-১-এ খেজুরডাঙ্গা থেকে নারকেলতলা ব্রিজ পর্যন্ত এবং প্যাকেজ-২-এ নারকেলতলা ব্রিজ থেকে এল্লারচর পর্যন্ত খনন করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, দখলমুক্ত না হওয়ার কারণে খালের বটম (তলদেশ) ১০ ফুট ও টপ (উপরে) ৪৫ ফুট করে খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
দপ্তরটির দাবি, এর বেশি খনন করা হলে বিভিন্ন জায়গায় যারা দখল করে আছে তারা বাঁধার সৃষ্টি করবে। ফলশ্রুতিতে কাজটি বন্ধ হয়ে যাবে।
খাল খননের এই বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে শহরবাসীর মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয় সৃষ্টি হয়েছে।
শহরবাসীর অভিযোগ, খালটির তলদেশ বর্তমানেই কোথাও বিশ ফুট, কোথাও ৩০ ফুট বা তার বেশি চওড়া রয়েছে। বর্তমানে খননের যে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে তাতে খালটি বর্তমানের অবস্থা থেকে আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে। খাল রূপান্তরিত হয়ে পরিণত হবে নর্দমায়। যেমনটি হয়েছে মরিচ্চাপ নদী।
সাধারণ মানুষের দাবি, খালটি দখলমুক্ত করে ডিএস খতিয়ান অনুযায়ী খনন করে পূর্বের অবস্থায় ফেরত আনা হোক।
পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রাণ সায়ের খাল খননের যে পরিকল্পনা করছে তাতে পুরো শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে উল্লেখ করে নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের আহবায়ক অ্যাডভোকেট ফাহিমুল হক কিসলু বলেন, এমন ধরণের পরিকল্পনা কখনোই সাতক্ষীরাবাসী মেনে নেবে না। আমরা খালটির স্বাভাবিক সীমা যেন টিকে থাকে তার জন্যে সর্বাত্মক আন্দোলন করবো। জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল আশ্বাস দিয়েছিলেন খালটি দখলমুক্ত করে একটি নান্দনিক সাতক্ষীরা উপহার দেবেন। আমরা তার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
তিনি আরও বলেন, ১০ ফুটের তলদেশ রেখে খাল খনন করা হলে সেই খাল দিয়ে কতটুকু পানি নিষ্কাশন করা যাবে তা প্রশ্নবিদ্ধ। এই পরিকল্পনা নিয়ে খাল খনন করা হলে আমাদেরকে পানির নিচে থাকতে হবে। সাথে সাথে খালের অস্তিত্ব তো একেবারেই বিলীন হয়ে যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক ভূমি কর্মকর্তা বলেন, আমি যখন সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ছিলাম তখন উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। কিন্তু দখলদাররা তাদের কাজ অব্যাহত রেখেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড তো শুধু পরিকল্পনা করতে পারে, দখলদারিত্ব তো উচ্ছেদ করতে পারে না। তবে প্রশাসন পদক্ষেপ নিলে অবশ্যই এই দখলবাজদের অপসারণ করে খালটি আরও চওড়া করে খনন করা যাবে। এজন্য অবশ্যই সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আনিছুর রহিম বলেন, সাতক্ষীরা শহরকে সুন্দর করার জন্য এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে এই খাল খনন করা হয়েছিল। বিভিন্ন দখলদারিত্বের কারণে খালের অবস্থা সংকটাপন্ন। দখলদারিত্বকে মেনে নিয়ে খাল খননের যে ডিজাইন করা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলবো। প্রয়োজনে আইনী সহায়তা নেব।
তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল আমাদেরকে বর্তমান সীমানা বজায় রেখে খাল খননের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছিলেন। তিনি এই ব্যাপারে উদ্যোগী হয়ে কাজটি দেখলে অবশ্যই খালটি রক্ষা হবে।
পানি উন্নয়নের বোর্ড-১ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, খালটি খননের জন্য আমাদের চেষ্টার কোন ঘাটতি নেই। কিন্তু দখলদারিত্ব উচ্ছেদ করা আমাদের কাজ নয়। আমাদের কাছে দুটি প্রকল্পে ১৩ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ এসেছে। যেহেতু খালটি এখনো দখলমুক্ত করা হয়নি, সেহেতু খালের পানির প্রবাহ ঠিক রাখতে এই খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কারণ এর বেশি খনন করা হলে বিভিন্ন জায়গায় যারা দখল করে আছে, তারা বাঁধা সৃষ্টি করবে এবং ফলে কাজটি বন্ধ হয়ে যাবে।
তবে, খালটি দখলমুক্ত করে দেওয়া হলে সত্যিই নান্দনিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব। মূল কথা হলো খালটির অবৈধ দখল আগে মুক্ত করতে হবে।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, খালটি খননের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাদ্দ অনুযায়ী ডিজাইন করবে। খালের জায়গা যারা দখল করেছে ইতোমধ্যেই তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *