ঢাকাMonday , 29 April 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

ধান নিয়ে ধান্দাবাজি! খাদ্য দপ্তর ও মিলারদের কারসাজিতে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশায় আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক

admin ঢাকা
আপডেট: 29 April 2019, 21:14

মীর খায়রুল আলম, দেবহাটা: চলতি মৌসুমে ধান চাষীদের উৎপাদিত ফসল কৃষকের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় মিল ও ধান ব্যাবসায়ীদের ধান্দাবাজিতে সর্বশান্ত হয়ে ধান চাষের আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা। এতে একদিকে কৃষকরা সর্বশান্ত হয়ে জিম্মি হয়ে পড়ছেন মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে। আর টাকার জোরে কৃষকদের টুপি পড়িয়ে কোটিপতি হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও অসাধু কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। কৃষকেরা এখন ঘুম থেকে জেগে কাস্তেÍ হাতে ধান কাটার উৎসবে মেতে উঠেছে। তবে পুরোদমে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হতে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে। শ্রমিক সংকট ও ধানের ভালো দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা। এর মধ্যে কালিগঞ্জ ও দেবহাটা উপজেলার মিল ব্যাবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছেন। এমনকি তাদের প্রভাবে বাহিরের কোন ব্যবসায়ী এলাকায় প্রবেশ করতে পারছে না বলে জানা গেছে। এসব সিন্ডিকেটের অপকর্মের সাথে জড়িত রয়েছেন গুদাম, উপজেলা, জেলা কর্মকর্তারা। তাদের সক্রিয় সিন্ডিকেট চক্রে পথে বসতে বসেছেন কৃষকরা। হাইব্রিড (মোটা) ধান বস্তা প্রতি ৭/৮ শত টাকা, ২৮ ধান ১ হাজার থেকে ১০৫০ টাকা। যেখানে এখনো পর্যন্ত সরকারি মূল্য ধরা হয়নি বলে জানাগেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ভাবে ধান বিক্রয় করতে গেলে সক্রিয় খাদ্য দপ্তরের সিন্ডিকেট নানা হয়রানির শিকার করে সাধারণ চাষিদের। এমনকি ধান বিক্রয় করা টাকা দিতে ৪/৫ মাস ঘুরাতে থাকে। আর এসব কারনে কৃষকরা সরাসরি সরকারকে ধান দিতে না পেরে সরাপন্ন হয় মিলার ও ফড়িয়াদের কাছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কৃষকের কাছ থেকে স্বল্প মূল্যে ধান কিনে গুদাম জাত করা হয়। পরে সুকৌশলে সেগুলো বের করে উচ্চ মূল্যে বিক্রয় করে সরকারি খাদ্য গুদামে। অস্বাধু গুদাম কর্মকর্তাদের জোগসাজসে নি¤œমানের ধান চাল ক্রয় করে সেগুলো পরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিতরণ করেন। এ থেকে মোটা অংকের একটি অর্থ জমা হয় উপর মহল থেকে জেলা, উপজেলা, গুদাম কর্মকর্তারদের মাঝে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের নামের তালিকা সংগ্রহ করে তাদের নামে ধান-চাল সংগ্রহ দেখিয়ে মিলারদের থেকে সংগ্রহ করা নি¤œ মানের খাদ্য শষ্য গুদমজাত করা হয়। এই ভাবে মধ্যসত্তাভোগী দালালরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান সংগ্রহ শুরু করেছে। ফসল উৎপাদনের খরচ ও মাহাজনের টাকা পরিশোদের জন্য কম টাকায় ধান বিক্রয় করে ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। বিষয়টি চলতে থাকলে কৃষকের ধান চাষের আগ্রহ হারানোর আশাংঙ্কা বিরাজ করছে।
আকবর আলী নামের এক কৃষক জানান, লোকের থেকে ১১ বিঘা জমিতে হাইব্রিড ধানের চাষ করে বিপাকে পড়েছেন। এ পর্যন্ত শ্রমিক খরচ বাদে ২১ হাজার টাকা ব্যায় হয়েছে। উৎপাদন বেশি হলেও ধান বিক্রয় করে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন বলে মনে করছেন তিনি। তাছাড়া শ্রমীক সংকট থকায় উচ্চ মূল্যে গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।
শুধু আকবর আলী নয় তার মতো তাছের আলী পাঁচ বিঘা জমিতে হাইব্রিড চাষ করেছেন। আব্দুর রাজ্জাক ৮ বিঘার ৫ বিঘাতে হাইব্রিড ও ৩ বিঘা জমিতে ২৮ ধানের চাষ করেছেন। স্থানীয় মিলার ও ব্যাবসায়ীদের জন্য ন্যয্য দাম না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তারা জানান, সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে সহজে সল্পমূল্যে ও বিনামূল্যে চাল দেওয়ায় বাজারে ক্রেতা নেই বললেও চলে। সে কারনে দাম কম। আর তাতে লোকসানের মুখে কৃষকরা।
নুর ইসলাম নামের এক কৃষক জানান, চাতাল ব্যবসায়ীরা আমাদের মত কৃষকের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিচ্ছে। আমরা ধান বা চাল দিতে গেলে সরকারি গুদাম চাল নেয় না। তাই মিলার বা ব্যাসায়ীদের কাছে আমরা জিম্মি হয়ে পড়ছি। সরকার যদি সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান চাল সংগ্রহ করে তাহলে আমরা উপকৃত হব। তবে, এভাবে চলতে থাকলে কৃষকের আত্মহত্যা ছাড়া কিছু করার থাকবে না। আমরা ধানের মন প্রতি ১১/১২ শত টাকা দাম নির্ধারণ করার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানাব। তাহলে আমাদের খরচ কাটিয়ে লাভের মুখ দেখব।
পারুলিয়া খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা দেব প্রসাদ দাস বলেন, কৃষকদের ধান না কেনার অভিযোগ সত্য নয়। সরকার এবছর ধানের দাম কেজি প্রতি ২৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে ধান কেনার ব্যাপারে এখনো কোন চিঠি হাতে পাওয়া যায়নি। চিঠি আসার পর কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের তালিকা নিয়েই ধান কেনা হবে। এখানে কোন অনিয়ম হবে না।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার জসিম উদ্দীন জানান, উৎপাদনের জায়গাতে কৃষি বিভাগ আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত জাতারে উৎভাবন করে ব্যাপক হরে ধান সহ প্রতিটি ফসলের উৎপাাদন বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে। বোরো মৌসুমে মাঠ পর্যায়ে ধানের দাম কম থাকায় কৃষক ক্ষতির মূখে পড়ছে। আমরা বিষয়টি জেনে আমাদের উদ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহতি করেছি এবং যাতে মাঠ পর্যায়ে সরকারি ভাবে কৃষক তাদের ফসল বিক্রয় করতে পারে সে ব্যাপারেও সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *