এস এম নাহিদ হাসান: পবিত্র রমজানের বাকী আছে আরও এক সপ্তাহ। কিন্তু এরই মধ্য সাতক্ষীরার ছোট বড় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারে পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে সরকারের পক্ষে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও পবিত্র শবেবরাতের পর থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এদিকে দোকানগুলোতে মূল্য তালিকা না টানানো, নিয়মিত বাজার মনিটরিং না করা, রমজানে বেশি মুনফার আশায় পণ্য গুদামজাত করার কারণে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায় বলে মনে করছেন সাধারণ ভোক্তারা। তবে রমজানকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২ মে রমজানের পবিত্রতা রক্ষার্থে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা, ৩ মে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সহনীয় রাখতে বড় বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভাসহ পুরো রমজান মাস জুড়ে জেলা প্রশাসনের ভেজাল বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ীরা জানান, শবে বরাতের পরে কয়েক দফায় দাম বেড়ে রমজানে বহুল ব্যবহৃত ছোলা কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৭৪ টাকা, বেশন কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৬৬টাকা, চিনি কেজিপ্রতি ৫৫ থেকে ৫৮টাকা, বুটের ডাল ৩৬ খেকে ৩৯ টাকা, চিড়া কেজি প্রতি ৩৮ থেকে ৪২ টাকা, মিছরি কেজিপ্রতি ৭০ খেকে ৭২টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে প্রথম থেকে পাঁচ রোজার ভিতর পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।
কাঁচাবাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। এখনো পর্যন্ত কাঁচাঝালের দাম না বাড়লেও কেজিতে দুই থেকে পাচঁ টাকা বেড়েছে অন্য পণ্যের দাম। বেগুন কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫২টাকা, পেয়াজ (ইন্ডিয়ান) ১৪ থেকে ১৬ টাকা, দেশি পেয়াজ কেজি প্রতি ২০ থেকে ২৫টাকা, ঢেড়স কেজিপ্রতি ১৮ থেকে ২২ টাকা, কাঁচা ঝাল ৩০ থেকে ৩৫টাকা, টমেটো কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৪৭ টাকা, পেপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, সজিনা কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ঝিঙ্গে কেজিপ্রতি ৪০ থেকেব ৪২টাকা, আলু ১৫ থেকে ১৭ টাকা, কাকরোল কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮৫ টাকা, মিষ্টিকুমড়া কেজিপ্রতি ১৮ থেকে ২০ টাকা, বরবটি (প্রতি আটি) ২০টাকা, কাঁচকলা কেজি প্রতি ৩০টাকা দওে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে বাজারে ডিমের দাম একটু কমে সাদা ডিম জোড়া ১৩টাকা ও লাল ডিম জোড়া ১৪ টাকা হলেও রোজার শুরুতে দাম বাড়বে বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা।
বড় বাজারে বাজার করতে আসা কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকায় পণ্যের দাম বাড়ছে। আর রোজার আগেই ব্যবসায়ীরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তারা পণ্যের দাম বাড়ায়। কয়েকটি দোকান বাদে অন্য দোকানগুলোতে ঝোলানো নেই পণ্য মূল্য তালিকা। তবে বিক্রেতারা জানালেন, পণ্য মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে নির্ধারিত দামেই বিক্রি করা হচ্ছে। তবে কিছু জিনিসের দাম পাইকারি বেড়ে যাওয়ায় আমাদের একটু বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আর পণ্যের সরবরাহ এখন কম রয়েছে। তাই বাজার একটু গরম যাচ্ছে।
জেলা ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শিকদার শাহীনুর আলম জানান, রমজান মাসে সাতক্ষীরায় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ১০ থেকে ১২ দিন বাজারে অভিযান চালানো হবে। এছাড়া হোটেল মালিকদের সাথে বসে রমজানের পবিত্রতা বজায় রাখতে, ভেজালমুক্ত খাাবার পরিবেশন, পর্দার যথাযথ ব্যবহার, হোটেল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রমজানের মধ্যে জেলার প্রত্যেক উপজেলায় ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ বিষয়ক সচেতনামূলক সেমিনারের মাধ্যমে উপজেলায় ধারাবাহিক কার্যক্রম চালানো হবে।
এবিষয়ে জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, রমজানের পবিত্রতা রক্ষার্থে, মানুষের ভোগান্তি কমাতে ২রা মে সভা আহবান করা হয়েছে। এছাড়া ৩রা মে বড় বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় এবং রমজান জুড়ে মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
