ঢাকাSaturday , 27 April 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস আজ: সরকারি খরচে আইনী সেবা পেয়ে খুশি কুন্দুড়িয়ার রুমা

admin ঢাকা
আপডেট: 27 April 2019, 21:36

এসএম নাহিদ হাসান: রুমা পরামান্য। আশাশুনি উপজেলার কুন্দুড়িয়া গ্রামের পুলিন মন্ডলের মেয়ে রুমা পরামান্যের সাথে ২০০৮ সালে একই গ্রামের দিলিপ পরামান্যের ছেলে সুব্রত পরামান্যের বিয়ে হয়। বিবাহিত জীবনে রুমা ও সুব্রত’র যখন সুখে সংসার করার কথা ঠিক তখন রুমার উপর নেমে আসে যৌতুকের নির্মম অত্যাচার। যত দিন যায় রুমার উপর স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির মানুষের অত্যাচার বাড়তে থাকে। কখনো নগদ টাকা আবার কখনো বড় বড় জিনিসের আবদার করতে থাকে তার স্বামী। ক্রমাগত অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করে রুমা আর পাঁচ-দশটা মেয়ের মত সংসার করার চেষ্টা করতে থাকে। এর মধ্যে রুমার কোলে আসে ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তান। এবার মনে হয় সংসারে সুখ আসবে- এটা ভেবে রুমা সব ভুলে যায়। কিন্তু না, টাকা ও জিনিসপত্রের লোভে অত্যাচার করে রুমা ও তার ছেলে সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় পাষ- স্বামী ও তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। গরীবের মেয়ে রুমা স্বামীকে নিয়ে সারাজীবন সংসার করার জন্য চিরদিনের মত যে বাবার বাড়ি ছেড়ে গিয়েছিলো, শেষ মেষ রুমাকে মাথাটা নিচু করে আবার ফিরে যেতে হয় সেই বাবার বাড়ি। কিন্তু রুমা ও তার পরিবার হাল ছাড়েনি। এই আধুনিক সামাজে সবাই যখন যৌতুক ও নারী নির্যাতনের বিপক্ষে স্বোচ্চার ঠিক তখন হাজারো রুমা স্বামীর বাড়িতে নীরবে নিভৃতে নির্যাতিত হচ্ছে। রুমার পরিবারের সদস্যরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলেও কিভাবে কি করবে তা বুঝে উঠতে পারছিলো না। এলাকার কয়েকজন রুমাকে বললো সাতক্ষীরা শহরে কোন ভাল উকিল ধরলে বিচার পাওয়া যাবে। কুন্দুড়িয়া গ্রাম থেকে রুমা ও তার পরিবারের সদস্যরা আসলেন সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাড. নাজমুন নাহার ঝুমুরের কাছে। তিনি সব শুনে রুমকে নিয়ে যান জেলা আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার অফিসে। জেলা লিগ্যাল এইডে রুমার নাম রেজিস্ট্রেশনের পর লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবীরা রুমার ন্যায় বিচারের জন্য আইনী সহায়তার সিদ্ধান্ত নিলেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুব্রত পরামান্যের বিরুদ্ধে পারিবারিক আদালতে ভরণ-পোষণের মামলা করে রুমা। ২০১৮ সালে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়। তবে এখনো জারি মামলাটা চলমান রয়েছে। আদালত সুব্রতকে সংসার অথবা ক্ষতিপূরণ হিসেবে অর্থ প্রদানের রায় দিয়েছে।
এ বিষয়ে রুমা বলেন, যখন আমার ও আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় তখন মনে হচ্ছিলো আমি একদিকে আর পৃথিবী অন্যদিকে। কি করবো কোন কুল কিনারা পাচ্ছিলাম না। আমরা গরিব মানুষ। আমরা দিন আনি দিন খাই। জানি মামলা করতে অনেক টাকা লাগে। একবার ভাবি কি হবে মামলা করে। আবার আমার মনে একটাই প্রশ্ন হচ্ছিলো আমি যে নির্যাতনের শিকার হয়েছি, এর বিচার হবে না? তাই সাহস করে খুজতে খুজতে জুমুর আপার কাছে যায়। তিনি লিগ্যাল এইডে নিয়ে যান। লিগ্যাল এইডের স্যাররা খুব ভাল, উনারা সব সময় আমাকে সাহস দিতেন। বলতেন আমরা আছি তুমি ও তোমার ছেলে ন্যায় বিচার পাবে। স্যারদের কথা সত্য হয়েছে। আমি খুব খুশি।
শুধু রুমা নয়, ২০১৮ সালে সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইডে ১৫৮ জন আইন সহায়তার জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে দেওয়ানী মামলার আবেদন ৩টি, ফৌজদারী ৮৭টি, পারিবারিক ৫৮টি ও অন্যান্য ১০টি আবেদন পড়ে। এ যাবত জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাধ্যমে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১৫৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। আর এসব মামলার আইনী সেবা প্রাপ্তরা সবাই অস্বচ্ছল, অসহায় মানুষ।
জেলা লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী অ্যাড. মনিরুদ্দীন জানান, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাধ্যমে তৃণমূল অঞ্চলের মানুষ যারা অস্বচ্ছল বা নির্যাতনের শিকার তাদের আইনী সহায়তা দিতে আমরা বদ্ধ পরিকর।
জেলা লিগ্যাল এইডের পাঁচবারের সেরা প্যানেল আইনজীবী অ্যাড. নাজমুন নাহার ঝুমুর জানান, নির্যাতনের শিকার ও আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল মানুষদের আইনগত সহায়তা দিচ্ছে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি। এর মাধ্যমে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে ন্যায় বিচারের আওতায় আনার পথ প্রশস্ত হচ্ছে। এর পাশাপাশি একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিভিন্ন এনজিও’র সাথে সমন্বয় করে স্যাটেলাইট প্রোগ্রামের মাধ্যমে উপজেলা সদরগুলোতে জেলা লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম তুলে ধরে বিলবোর্ড স্থাপন, ইউনিয়নেগুলোতে প্রচার-প্রচারণা, পোস্টার সাইনবোর্ডর মাধ্যমে মানুষদের মাঝে সচেতনতা তৈরির কাজ করে যাচ্ছে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি। এছাড়া সভা, সেমিনার এবং উপজেলা পর্যায়ে লিগ্যাল এইড কমিটি আছে, তারও কাজ করে যাচ্ছে। মানুষ আগের থেকে অনেক সচেতন হয়েছে।
এদিকে, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি আরও জানায়, ৭৩ জন প্যানেল আইনজীবী নির্যাতনের শিকার ও আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল মানুষের পাশে থেকে মামলাগুলোর আইনী পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন। এর পাশাপাশি যেকোন আইনী পরামর্শের জন্য সংস্থাটির রয়েছে ১৬৪৩০ নম্বরের টোল ফ্রি জাতীয় হেল্প লাইন।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার সালমা আক্তার বলেন, অসহায় মানুষকে আইনী সেবা দেওয়ার জন্য জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির দরজা সবসময় খোলা। এই সেবা যাতে সর্বস্তরের মানুষ পেতে পারে- সেজন্য সর্বাত্মক প্রচারণা চালানো হবে।
এদিকে, আজ ২৮ এপ্রিল জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস। এ উপলক্ষ্যে ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় শেখ হাসিনার অবদান, বিনামূল্যে লিগ্যাল এইডে আইনি সেবাদান’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০১৯ উপলক্ষ্যে সাতক্ষীরায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল সাড়ে ৮টায় পুরাতন জজ কোর্ট চত্বর হতে নতুন জজ কোর্ট পর্যন্ত বর্ণাঢ্য র‌্যালি, সকাল সাড়ে ৯টায় স্বেচ্ছায় রক্তদান এবং আইনজীবী সমিতির শহিদ মিনার চত্বরে বিকাল সাড়ে ৪টায় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসব অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান এবং জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *